এখান থেকে দেখতে পাবেন কাঞ্চনজঙ্ঘা
উত্তরবঙ্গে টয় ট্রেন পরিষেবা দিয়ে থাকে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। বাংলা তথা ভারতের গর্ব গর্ব এই ডিএইচআর-কে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। দার্জিলিংয়ে যাবেন অথচ টয় ট্রেন চড়বেন না, তা কী করে হয়? আর টয় ট্রেন বলতেই মনে পড়ে ঘুম স্টেশনের কথা। ঘুম থেকে টয় ট্রেনে চড়ে দার্জিলিং যেতে মাঝখানে পড়বে বাতাসিয়া লুপ। জায়গাটির দূরত্ব ঘুম স্টেশন থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার, আর দার্জিলিং শহর থেকে ৫ কিলোমিটারের মতো। ইংরেজিতে ‘লুপ’ মানে বক্রাকার কিংবা বৃত্তাকার কোনো অঞ্চল। পাহাড়ের চড়াই পথে টয় ট্রেনের যাত্রাকে সাবলীল করার জন্য ১৯১৯ সালে বাতাসিয়া লুপ গড়ে তোলা হয়।
পর্যকটদের খুব প্রিয় গন্তব্য
ঘুম থেকে টয় ট্রেনে চড়ে দার্জিলিং যেতে মাঝখানে পড়ে বাতাসিয়া লুপ
টয় ট্রেন বাতাসিয়া লুপে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়, ফলে দার্জিলিংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৃত্তাকার ভিউ পাওয়া যায়। চোখে পড়ে তুষার ধবল হিমালয়। বাতালিয়া লুপ থেকে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখলে তার স্মৃতি আপনার মনের মণিকোঠায় চিরকাল থেকে যাবে। পাহাড়ের রানি দার্জিলিং শহরটিকেও অনবদ্য লাগে। এখানে রয়েছে বিশাল মনোরম বাগান। বহু রকমের গাছে সাজানো। রংবেরঙের ফুল আপনাকে মুগ্ধ করবে। বাতাসিয়া লুপের কেন্দ্রে একটি যুদ্ধ স্মৃতিস্মারক আছে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত গোর্খা শহিদ বীর সৈনিকদের শ্রদ্ধা জানাতে ১৯৯৫ সালে এটির উদ্বোধন করা হয়। এক গোর্খা সৈনিকের ব্রোঞ্জ মূর্তি এখানে শোভা পাচ্ছে।
টয় ট্রেন এখানে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যায়
পাহাড়ের চড়াই পথে টয় ট্রেনের যাত্রাকে সাবলীল করতে বাতাসিয়া লুপ গড়ে তোলা হয়েছে
দার্জিলিংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৃত্তাকার ভিউ পাওয়া যায়
প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাতাসিয়া লুপ খোলা থাকে পর্যটকদের জন্য। প্রবেশমূল্য মাথাপিছু ২০ টাকা। সামনেই রয়েছে একটি ছোট্ট বাজার। স্থানীয় মানুষদের তৈরি নানান দ্রব্য আপনি কিনতে পারেন। দার্জিলিংয়ের স্ট্রিট ফুড বিখ্যাত। সেগুলিও চেখে দেখতে পারেন এই বাজার থেকে।
আরও পড়ুন: নবাবি আমলের কাঠগোলা বাগানবাড়ি
বাতাসিয়া লুপে গেলে একবার ঘুম স্টেশনেও ঘুরে আসুন। দার্জিলিং শহরের কেন্দ্রে বাজার এলাকা থেকে সড়কপথে যে কোনো যানবাহনে ঘুম স্টেশনে পৌঁছতে মোটামুটি ২০-২৫ মিনিট লাগে। নানা দিকের নানা রাস্তা মিশেছে ঘুমে। ঘুম স্টেশনের পাশেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে মিউজিয়াম। ইতিহাস ভালো লাগলে একবার যেতেই পারেন। ডিএইচআর-এর প্রাচীনতম ইঞ্জিন ‘বেবি সিভক’ অনেকেরই ভালো লাগে। রেলগাড়ির পুরোনো কলকব্জা এবং কিছু বিরল ছবিও আছে।
দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত টয় ট্রেন
যুদ্ধ স্মৃতিস্মারক
ঘুমে ঢোকার মুখেই পড়বে সামটেন চোলিং বৌদ্ধ মঠ। এটিকেও অনেকে ঘুম মঠ বলেন ঠিকই, তবে পুরোনো ঘুম মঠেও আপনি যেতে পারেন। সেই ইগা চোলিং মঠে রয়েছে মৈত্রেয় বুদ্ধের অসাধারণ সুন্দর বিগ্রহ। প্রাচীন লুপ্তপ্রায় বেশ কিছু বৌদ্ধ পুঁথি এখানে যত্ন সহকারে রক্ষিত আছে। সংস্কৃত সাহিত্যের তিব্বতি অনুবাদ করা পুঁথিও এই মঠে পাওয়া যায়। ইচ্ছে করলে সিঞ্চল হ্রদেও যেতে পারেন। আর দার্জিলিং শহর তো দেখবেনই। সূর্যোদয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করার জন্য বহু পর্যটক ভিড় করেন টাইগার হিলে। কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এবং মাউন্ট মাকালু দেখা যায় সেখান থেকে।
বাতাসিয়া লুপের অবস্থান
মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
