সুন্দরবন – বাঘ-কুমিরের আপন দেশে

প্রাণী এবং উদ্ভিদের প্রাকৃতিক জাদুঘর

সুন্দরবন – পৃথিবীর সবথেকে বড়ো ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এখানকার জীববৈচিত্র্য তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জন্য সুন্দরবন বিখ্যাত। এছাড়াও শুশুক, কুমির, বুনো শুয়োর, হরিণ, কচ্ছপ, মেছো বেড়াল, বানর, বিভিন্ন ধরনের পাখি, মাছ প্রভৃতি নানান প্রাণীর বাস এখানে। সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়ার মতো প্রচুর গাছও দেখা যায়। সুন্দরী গাছের থেকেই জায়গাটির নাম সুন্দরবন। এই বিশাল অরণ্যের বেশিরভাগটাই রয়েছে বাংলাদেশে। বাকি অংশ রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে – উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলায়। প্রাণী এবং উদ্ভিদের প্রাকৃতিক জাদুঘর এই সুন্দরবন। ইউনেস্কোর তরফ থেকে এটিকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

পৃথিবীর সবথেকে বড়ো ম্যানগ্রোভ অরণ্য

সুন্দরবন প্রাণী এবং উদ্ভিদের প্রাকৃতিক জাদুঘর 

সুন্দরবন ভ্রমণের দু’টি অংশ। ব্যাঘ্র প্রকল্প এবং ২৪ পরগনা বনবিভাগ এলাকা। সুন্দরবনের বেশিরভাগ জায়গাই ঘুরতে হয় লঞ্চে করে, নদীর ওপরে ভেসে। সে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। চারদিকে সবুজ আর সবুজ। চোখে পড়বে নানা রঙের বিচিত্র সব পাখি। এছাড়াও কুমির, হরিণ, বন্য শুয়োর প্রভৃতিও দেখতে পাবেন। যাঁরা ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি পছন্দ করেন, সুন্দরবন তাঁদের কাছে স্বর্গরাজ্য। বেশিরভাগ পর্যটক এখানে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখার আশা করেন। বাঘের দেখা সব সময়ে পাওয়া যায় না। কে জানে, ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে আপনার সামনেও এসে যেতে পারে জাতীয় পশু। তবে লঞ্চে ভ্রমণের সময়ে জলে পা ডোবাবেন না। এখানে স্থানীয় মানুষরা নানা লৌকিক দেবদেবীর উপাসনা করেন। যেমন, দক্ষিণ রায়, বনবিবি, কালু রায়। 

সুন্দরবন ভ্রমণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা

আপনার সামনেও এসে যেতে পারে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার 

জঙ্গল, বন্য প্রাণী, নদী, সমুদ্র – চারের আশ্চর্য সমন্বয় ঘটেছে সুন্দরবনে

সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকায় আপনি দেখতে পাবেন সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার, সুধন্যখালি ওয়াচ টাওয়ার, দোবাঁকি ওয়াচ টাওয়ার, নেতিধোপানি ওয়াচ টাওয়ার, কচ্ছপ পুকুর, কুমির পুকুর, পাখিরালয়, গাজিখালি, পিরখালি, পঞ্চমুখানি, হ্যালিডে দ্বীপ, বনবিবি ভারানি প্রভৃতি নানা ট্যুরিস্ট স্পট। ২৪ পরগনা বনবিভাগ এলাকায় কৈখালি, ঝড়খালি, বনিক্যাম্প, কলস দ্বীপ ইত্যাদি জায়গা ঘুরে দেখতে পারেন। এছাড়া দুটি বাস্তুতান্ত্রিক সংগ্রহশালা রয়েছে। ক্যানিংয়ে টাইগার প্রজেক্ট সংগ্রহশালা এবং সজনেখালিতে সুন্দরবন প্রজেক্ট সংগ্রহশালা। 

চোখে পড়বে নানা রঙের বিচিত্র সব পাখি 

স্থানীয় মানুষরা নানা লৌকিক দেবদেবীর উপাসনা করেন 

মৎস্যজীবী

জঙ্গল, বন্য প্রাণী, নদী, সমুদ্র – চারের আশ্চর্য সমন্বয় ঘটেছে সুন্দরবনে। বর্ষায় গোটা অঞ্চল অনেক বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সৌন্দর্য বেড়ে যায় বহুগুণ। তবে বেশিরভাগ পর্যটক শীতকালেই সুন্দরবনে যেতে পছন্দ করেন। তখন অরণ্যের আরেক মায়াবী রূপ।

সুন্দরবনের অবস্থান 

কোথায় কোথায় যাবেন
জল-জঙ্গলে ঘোরার পাশাপাশি আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায় সময় করে। যেমন, গঙ্গাসাগর, ঘুটিয়ারি শরিফ, বাসন্তীর পুরোনো গির্জা, বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ, পাঁকুড়তলা, শিবকালী নগর প্রভৃতি।
কীভাবে যাবেন
শিয়ালদহ স্টেশন থেকে দক্ষিণ শাখার ট্রেন ধরে ক্যানিং স্টেশনে নামুন। এসপ্ল্যানেড থেকে বাস ধরেও ক্যানিং যাওয়া যায়। তারপর অটো, বাস কিংবা টোটো চড়ে পৌঁছন সোনাখালি লঞ্চঘাট। সেখান থেকেই সুন্দরবন ভ্রমণ শুরু। এছাড়া কৈখালি, রায়দিঘি কিংবা গদখালি দিয়েও সুন্দরবন ঢোকা যায়।
কোথায় থাকবেন
ভ্রমণার্থীদের জন্য সুন্দরবনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব ‘মাতলা ট্যুরিজম প্রপার্টি’। বন্ধু-বান্ধব-আত্মীয়-স্বজনকে নিয়ে সেখানেই কয়েকদিন থাকতে পারেন স্বচ্ছন্দে। বিস্তারিত জানতে ফোন করুন ৯৭৩২৫০৯৯২৫ নম্বরে। এছাড়াও সুন্দরবনে কিছু বেসরকারি হোটেল এবং রিসর্টও পেয়ে যাবেন।

 

মাতলা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান

Developed by DXDasia