
পাখিপ্রেমীদের স্বর্গরাজ্য
ডুয়ার্সকে শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বর্গ বললে কম বলা হয়। চারদিকে গভীর অরণ্য এবং নদীতে ঘেরা এই বিশাল অঞ্চল শহুরে ক্লান্ত দেহ-মনকে সতেজ করে তোলে। কয়েকদিন থাকলেই অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করা যাবে। সমস্ত ক্লেদ মিলিয়ে যাবে ম্যাজিকের মতো।
সিসামারা জঙ্গল
ডুয়ার্সের প্রায় অপরিচিত গন্তব্য সিসামারা। আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে, দক্ষিণ জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের সীমান্ত অবধি বিস্তৃত। জঙ্গলের থেকে নতুনপাড়া গ্রামকে আলাদা করেছে সিসামারা নদী। কয়েক বছর আগেও জলদাপাড়া বনাঞ্চলের পশুরা এই গ্রামে অবাধে চরে বেড়াত। এখন কাদার পাঁচিল দিয়ে আটকানো গিয়েছে গণ্ডার আর বাইসনদের। তবে বুনো হাতি মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ে। ফল এবং ফসল বাঁচাতে নিদ্রাহীন রাত কাটে গ্রামবাসীদের – বিশেষ করে যখন ধান গোলায় তোলার সময় হয়।
সিসামারা নদী
স্থানীয় এক যুবকে উদ্যোগে সম্প্রতি এক লজ গড়ে উঠেছে, নদী এবং বনের ঠিক প্রান্তে। নাম ‘বনান্ত নিবাস’। ব্যালকনি থেকে চোখে পড়বে গণ্ডার, বাইসন কিংবা হাতিদের জল খাওয়া। নিস্তব্ধতা ভেঙে সারাদিন কানে আসবে অগুনতি পাখির কিচিরমিচির। জায়গাটা পাখিপ্রেমীদের স্বর্গ।
ডুয়ার্সের প্রায় অপরিচিত গন্তব্য সিসামারা
আরও পড়ুন: শীতে মন ভোলানো জয়নগরের মোয়া
লজ চালান রণবীর বিশ্বাস – গ্রামেরই পড়াশোনা জানা, স্মার্ট, বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী এক যুবক। যদিও তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে যথেষ্ট। কুড়ি বছর আগে চোখের সামনে বাড়ির উঠোনে তাঁর বাবাকে এক দলছুট হাতি পায়ের তলায় পিষে মেরে ফেলে। সেটি তাঁর জীবনের সবথেকে মর্মান্তিক ঘটনা। যদিও অবোধ জন্তুদের প্রতি রণবীর কোনো রাগ পুষে রাখেননি। বরং মনে করেন, বনের পশুপাখিদের এলাকায় মানুষই ঢুকে পড়েছে অবৈধভাবে। তাই সংঘাত তো হবেই। আমাকে মুদ্ধ করেছে তাঁর গভীর প্রজ্ঞা, যা বিরলই বলা চলে।
অপরূপ প্রকৃতি
আদিম সিসামারায় ভোরবেলার নীরবতা খানখান হয়ে যায় পাখিদের চিৎকারে। পূর্ণিমার রাতে রুপোলি আলোয় স্নান করে গোটা অঞ্চল। গভীর রাতে বনান্ত নিবাসের ব্যালকনিতে দাঁড়ালে অনুভব করা যায় অতিপ্রাকৃতকে। সিসামারা এমন জায়গা, যেখানে আপনি নিজের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবেন।

