
পুজোয় কোন কোন সিনেমা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে – দেখুন তালিকা
বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই কি শুধু বাড়িতে বাড়িতে রঙিন পর্দা কিংবা রাত জেগে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানো? হ্যাঁ, এসব তো আছেই। তবে কোভিডকালে এবছর কতটা কী সম্ভব হবে তা নির্ভর করছে পুজো আসার পর। করোনাবিধি মেনেই করতে হবে পুজো। বিধি-নিষেধ পালন হচ্ছে কি না, দেখার পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনকে সচেতনতা মূলক প্রচার চালাতে হবে। দুর্গাপুজো নিয়ে নবান্নের এক বৈঠকে এ মাসের শুরুতেই নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যাবতীয় কোভিডবিধি মেনে পুজো করার নির্দেশ দেন। এদিকে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সদস্য শাশ্বত বসু বলেছিলেন, প্রশাসন যা যা ব্যবস্থা করেছে তাতে খুশি, যে পদ্ধতিতে পুজো করতে বলেছে সেটাই হবে, গতবার পুজো থেকে কোভিড ছড়ায়নি, এবারও সেটা বজায় থাকবে বলে মনে করছেন।
কিন্তু বাঙালির পুজো ষোলোকলায় পূর্ণ হয় আরও অনেকগুলো স্তর পার করে আসার পর। পুজো মানে ভুরিভোজ। পুজো মানে বাল্যবন্ধুর বাড়ি গিয়ে আড্ডা জমানো। পুজো মানে সেলফি আর আড়চোখ। পুজো মানে টইটই ভ্রমণে নতুন হাওয়ায় গা ভাসানো। আর পুজো মানে অবশ্যই সিনেমাহলে গিয়ে বাংলা ছবি। ইতিমধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে ক্লাবগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিন দিক খোলা মণ্ডপ করতে হবে। আগের বারের পুজোর গাইডলাইন বলবৎ থাকবে। মাস্ক পরা-সহ মানতে হবে যাবতীয় কোভিডবিধি।
অনেক বাঙালিই আছেন, যাঁরা পুজোতে ঠাকুর দর্শনে না বেরিয়ে হলের সামনে লাইন দেন সিনেমা দেখবেন বলে। পুজোর পাঁচদিনে বেছে নেওয়া হয় কোনদিন কোন সিনেমা তিনি দেখবেন। ঠিক যেমন ষষ্ঠী থেকে দশমী, কোনদিন কোন পোশাকটি পরব, তা ঠিক করা হয়। এক্ষেত্রেও তাই। আর ঠিক এজন্যেই তো রসেবশে বাঙালি। সেইমতো সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চলেছেন বাঙালি পরিচালক-প্রযোজকরা। ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে চলবে পুজোর সিনেমাহল। ২০২১-এর দুর্গাপুজোয় মুক্তি পাচ্ছে কোন কোন ছবি? দেখে নেওয়া যাক এক নজরেঃ
গোলন্দাজঃ ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর জীবনকে পর্দায় তুলে ধরেছেন পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে সুপারস্টার দেবকে। এছাড়াও ছবিতে নানা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ইশা সাহা, জন ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকেই। ছবিটির প্রযোজনা করছেন এসভিএফ। আগামী ১০ অক্টোবর বড়ো পর্দায় মুক্তি পাবে এই ছবি।

হবুচন্দ্র রাজা গবুচন্দ্র মন্ত্রীঃ এই ছবির প্রযোজক দেব। অনিকেত চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, বরুণ চন্দ-সহ অনেকেই। ২০২০-র পুজোর সময় এই ছবি মুক্তির কথা ভাবা হয়েছিল। তবে এক বছর পেরিয়ে ‘গোলন্দাজ’-এর সঙ্গেই ১০ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছবি।

বাজিঃ শোনা গিয়েছে, সুপারস্টার জিৎ এবং মিমি চক্রবর্তী যখন এই ছবির জন্য বিদেশে শ্যুট করছিলেন, তখনই আচমকা করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে তটস্থ দেশ। অর্ধেক কাজ করেই ভারতে ফিরে এসেছিলেন তাঁরা। কয়েক মাস অপেক্ষা করে আবার গত বছর পুজোয় বিদেশে গিয়ে বাকি শ্যুট করেছিলেন। এক বছর পর অবশেষে মুক্তি পাবে ‘বাজি’। দিন কয়েক আগেই ছবির ট্রেলার মুক্তি পেয়েছে। বাকি দুটি ছবির সঙ্গে একই দিনে অর্থাৎ ১০ অক্টোবর বড়ো পর্দায় দেখা যাবে এই ছবি।

এফআইআরঃ জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবিতে নতুন জুটি পাবে টলিউড। অঙ্কুশ হাজরা এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী। গত শুক্রবার ছবির একটি পোস্টার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে অঙ্কুশ জানিয়েছেন এই পুজোতেই মুক্তি পেতে চলেছে ‘এফআইআর’। এই ছবির প্রযোজক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।

তখন কুয়াশা ছিলঃ এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে দেখে যাবে প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে। অনেকদিন আগেই ছবির কাজ সম্পূর্ণ হয়েছিল। এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়। শৈবাল মিত্র পরিচালিত এই ছবি মুক্তি পাবে এবারের পুজোয়।

মহানন্দাঃ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছিল ছবির শ্যুটিং। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির জন্য বেশ কয়েকদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল অরিন্দম শীল পরিচালিত এই ছবির। মহাশ্বেতা দেবীর আদলে তৈরি চরিত্র মহানন্দা। নাম ভূমিকায় অভিনয় করবেন গার্গী রায়চৌধুরী। শোনা যাচ্ছে, এই পুজোতেই মুক্তি পেতে পারে এই ছবি। তবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
কিন্তু ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে বক্সঅফিস কি সাফল্য পাবে? চিন্তার ভাঁজ পরিচালক-প্রযোজকদের কপালে। কলকাতার এক বিখ্যাত সিনেমাহলের মালিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানাচ্ছেন, “সিনেমার এখন মন্দার বাজার। তাছাড়া লোকে এখন দেব নাকি জিৎ – এইসব মুখ দেখে আর সিনেমাহলে আসেন না। ভালো গল্প চান। ভালো অভিনয় চান। এবারের পুজোয় দর্শক সিনেমাহলে এলেও তার সংখ্যা হবে সীমিত।” এমনিতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিকে ঘুরে দাঁড়াতে এখনও অনেকটা সময় লাগবে। একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যাওয়া, সিনেমাহলে দর্শকশূন্য প্রজেক্টর চালানো সবটাতেই বেশ মনখারাপের ছবি। যদিও সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া অতনু ঘোষের ‘বিনিসুতোয়’ নন্দনের মতো হলে দিনের পর দিন হাউসফুল শো দিয়েছে। এখনও চলছে এই ছবি। ভালো ছবি বানানো হলে দর্শক পাশে থাকবেন বলেই বিশ্বাস পরিচালক অতনু ঘোষের। তিনি আশা ছাড়ছেন না। আশা ছাড়ছেন না দেব, জিৎ, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতা-প্রযোজকরাও।
হাতে পপকর্ণ। মুখে অবশ্যই মাস্ক। ব্যাগে সযত্নে রাখা স্যানিটাইজার। বসার আগে সিটে খানিক জীবাণুনাশক স্প্রে করে নেওয়া। মুঠোফোন থেকে বেরিয়ে পুজোর পাঁচটা দিন মেতে উঠুন বাংলা সিনেমায়। এবারের পুজোয় মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা সিনেমাগুলির বক্সঅফিস কেমন হবে, তার উপর কিন্তু নির্ভর করছে আগামীদিনের অনেককিছুই।
অতএব সুধী দর্শক, আপনি ঠিক করে নিন পুজোর দিনগুলোয় কোনদিন কোন সিনেমা দেখবেন। পুজোয় অন্যান্য কাজের মতোই বাংলা সিনেমার বন্ধু হয়ে যান। কারণ, শেষ কথা আপনিই বলবেন।
