ডানলপের গুরুদ্বারা শিখ সংগতের সঙ্গে জড়িয়ে দেশভাগের ইতিহাস

সন্ত ঈশ্বর সিংয়ের নির্দেশে এটি তৈরি হয়েছিল

১৯৪৭ সালে দেশভাগের মধ্যে দিয়ে জন্ম হল ভারত ও পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের। বাংলা ভাগ হয়ে কাঁটাতার পড়ল যেমন পূর্ববঙ্গ আর পশ্চিমবঙ্গের মাঝখানে, তেমনিই পাঞ্জাবও ভাগ হয়ে দুটো আলাদা রাষ্ট্রের অংশে পরিণত হল। এই সময় থেকেই পাঞ্জাবের অনেক শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষ পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা এবং তার আশেপাশে বাড়ি করে থাকা শুরু করেন। ভবানীপুর, ডানলপ, মুদিয়ালি, বরানগরের মতো জায়গাতে গড়ে উঠতে থাকে শিখ জনবসতি। পাশাপাশি তাঁদের উপাসনার জন্য গুরুদ্বারাও তৈরি হল এই সব অঞ্চলে। ডানলপের গুরুদ্বারা শিখ সংগত তাদের মধ্যেই একটি। এখন ডানলপ অঞ্চলে সব মিলিয়ে এক হাজারেরও বেশি শিখ পরিবার বাস করে। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বিটি রোডে কলকাতা আসার পথে ডানলপ মোড়ের ঠিক বাঁ দিকে সাকেত নগরে বনহুগলি কলোনিতে রয়েছে এই গুরুদ্বারাটি।

 

পাঞ্জাবের লুধিয়ানা শহরের কাছে রারা ছিল একটি ছোট্ট গ্রাম। শিখদের ষষ্ঠ গুরু হরগোবিন্দজি এখানে পা রাখার পর থেকে গ্রামটি শিখ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়। জায়গাটার নাম হয় রারা সাহিব। সন্ত ঈশ্বর সিং এবং সন্ত কিষাণ সিং-এর জন্যও এই জায়গাটি বিখ্যাত। সেই সন্ত বাবা ঈশ্বর সিং ১৯৬৩ সালের ৩ জানুয়ারি পূর্ণিমা তিথিতে ডানলপের গুরুদ্বারা আর খালসা মডেল স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অঞ্চলের সব পাঞ্জাবিদের একত্রিত হওয়ার জায়গা হিসেবে একটি ধর্মীয় মিলনের জায়গা দরকারি বলে তিনি মনে করেছিলেন। প্রতিদিন ভোর সাড়ে ৩টেয় গুরুদ্বারা খুলে যায়। তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় দৈনন্দিন কাজ। তারপর খোলা থাকে রাত ৯টা অবধি। অন্য সব গুরুদ্বারার মতোই বিশ্বাস-অবিশ্বাস নির্বিশেষে যে কোনো মানুষ সেখানে যেতে পারেন। রয়েছে দরবার সাহিব, যেখানে সিংহাসনে বসানো রয়েছে শিখদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থসাহিব। বাঙালি, বিহারি, পাঞ্জাবি নির্বিশেষে সবাইকে স্বাগত জানানো হয় লঙ্গরখানায়।

গুরু গ্রন্থসাহিব​

স্থানীয় পাঞ্জাবিরা তো বটে, অঞ্চলের সব মানুষই শিখ উৎসবগুলোতে আনন্দে মেতে ওঠেন এই গুরুদ্বারাকে কেন্দ্র করে। প্রত্যেক বছর ১৩ অথবা ১৪ এপ্রিল পালিত হয় বৈশাখী উৎসব। শিখদের নতুন বছর শুরুর এই দিনে ‘গ্রন্থসাহিব’-এর অখণ্ড পাঠ হয়। এছাড়া বছরে দশবার গুরুপরব পালন হয় এখানে। প্রত্যেক পরবে একজন করে মোট দশজন শিখ গুরুকে সম্মান জানানো হয়। এই গুরুপরবগুলোর মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল গুরু নানকের জন্মদিন। এর সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ালিও ধুমধাম করে পালন করা হয় এখানে।

 

Developed by DXDasia