
কেউ সরকারি হাই স্কুলের দিদিমনি, কেউ আবার গৃহবধূ
তাঁদের মধ্যে কেউ সরকারি হাইস্কুলের দিদিমনি, কেউ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের, কেউ আবার গৃহবধূ। কেউ নিজের বেতনের বেশ খানিকটা অংশ দিয়ে দিচ্ছেন, কেউ আবার স্বামীর কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিয়ে দিচ্ছেন। কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার কিংবা জলপাইগুড়ি তাঁরা তাঁদের সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে বিন্দুমাত্র ছেদ পড়তে দেননি। এভাবেই চলছে ‘আশ্বাস’ নামের একটি সংস্থা। আশ্বাস মানে ভালোবাসা, ভরসা। মূলত মহিলা পরিচালিত এই সংস্থার পক্ষ থেকে অক্সিজেন কেনার জন্য কুড়ি হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে ডুয়ার্সের বিশিষ্ট সমাজসেবী পদ্মশ্রী করিমূল হক এবং সাজু তালুকদারের হাতে।
তবে, এখানেই থেকে থাকতে চান না তাঁরা। আগামীতে আরও বেশি করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন তাঁরা। জলপাইগুড়ির মারিয়া হোমের বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে সংস্থার তরফে।
সংস্থার সভাপতি মন্দিরা সাহা পেশায় শিক্ষিকা, থাকেন আলিপুরদুয়ারে। সংস্থার সম্পাদক বনানী চৌধুরী পন্ডিত থাকেন জলপাইগুড়িতে। সংস্থার কোষাধ্যক্ষ শুভ্রা ভৌমিক পেশায় স্কুল শিক্ষিকা, থাকেন আলিপুরদুয়ারে। সহ সভাপতি তপতী ভট্টাচার্য একজন স্বাস্থ্য কর্মী, থাকেন কোচবিহারে। সহ সম্পাদিকা অনিতা ভট্টাচার্য থাকেন জলপাইগুড়িতে। আপাতত সংস্থার মূল কার্যনির্বাহী দলে এঁরাই রয়েছেন।
তাঁদের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৭ সাল থেকে। প্রথমে ১২ জন মহিলা মিলে সমাজসেবার ভাবনায় কাজ শুরু করেন, এখন সদস্য সংখ্যা ২৭ ছাড়িয়েছে। শুরুটা হয় কোচবিহারের সুনীতি একাডেমির ১৯৮১ সালের মাধ্যমিক ব্যাচের প্রাক্তন বান্ধবীদের উৎসাহে। তারপর তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় তাঁদেরই কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বান্ধবীরা। যোগাযোগ হতে থাকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে। তারপর ফেসবুকে। ২০২০ সালে সংস্থার রেজিষ্ট্রেশনও হয়ে যায়। প্রধান কার্যালয় জলপাইগুড়ির কংগ্রেস পাড়ায়।
প্রথমে তাঁরা জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, তুফানগঞ্জ, আলিপুরদুয়ার থেকে যে যার মতো চাল, ডাল সহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী কিনে আনতে শুরু করেন। তারপর সকলে মিলে পৌঁছে যান ডুয়ার্সের বীরপাড়ায় বিশিষ্ট সমাজসেবী সাজু তালুকদারের হেভেন শেল্টার হোমে। সেখানে তাঁর হাতেই সব তুলে দেন। এরপর জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে সব পুরোনো জামাকাপড় সংগ্রহ করে তাঁরা পৌঁছে যান ডুয়ার্সের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব তথা পদ্মশ্রী করিমূল হকের বাড়িতে এবং তাঁর হাতে সব তুলে দেন।
সভাপতি বনানী চৌধুরী পন্ডিত এবং কোষাধ্যক্ষ শুভ্রা ভৌমিক জানিয়েছেন, কোচবিহার সেবা ভবন এবং পাতলাখাওয়া জ্ঞানদীপ ট্রেনিং সেন্টারে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের হাতে কিছুদিন আগেই তাঁরা জামাকাপড় তুলে দিয়েছেন।
আর একজনকে দেওয়া হয়েছে হুইল চেয়ার। এর বাইরে আর্থিক দিক থেকে অনগ্রসর কিছু ছাত্রছাত্রীকে তাঁরা নিয়মিত সহায়তা করে চলেছেন। কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই এমনকি বিদেশের কুয়েত, কানাডা থেকেও পুরোনো বান্ধবীরা সহায়তা করছে। মানুষের জন্য কিছু করার ভাবনা থেকেই বান্ধবীরা মিলে এই প্রয়াস নিয়েছেন।
