মুস্তাং-এর ঝাঁকিদর্শন, এ যেন স্বপ্নের হাতছানি

প্রায় ৯০০০ ফিট উচ্চতায় জমসম মুস্তাং জেলার জেলা শহর

বেশ কিছুদিন আগে একটা বই হাতে এসেছিল, মিশেল পেইসেল (Michel Peissel)-এর ‘মুস্তাং: আ লস্ট টিবেটান কিংডম’ (Mustang: A Lost Tibetan Kingdom)। মিশেল পেইসেল সাহেব একজন ফরাসি নৃতত্ত্ববিদ, যদিও  ইংল্যান্ডে বসবাস করেছেন, পড়াশোনাও সেইখানেই। ১৯৬৪ সালে তিনিই প্রথম বিদেশি, যিনি মুস্তাং রাজ্যে যাওয়ার অনুমতি পান। মুস্তাং রাজ্য তখন ছিল নেপালের উপর নির্ভরশীল, কিন্তু স্বতন্ত্র রাজ্য, পৃথিবীর উচ্চতম পর্বত শিখর দিয়ে ঘেরা তিব্বতের সীমান্ত ঘেঁষা এক বিচ্ছিন্ন রাজ্য। ২০০৮ সালে নেপালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরে এটি জুড়ে যায় নেপালের সঙ্গে, অবসান হয় এখানের রাজতন্ত্রের। নেপালের পোখরা থেকে পায়ে হেঁটে, কখনো বা  ইয়াকের পিঠে চেপে দুই সপ্তাহ ধরে পৌঁছেছিলেন লো মান্থাং-অন্নপূর্ণা, ধৌলাগিরি, থোরাং লার পায়ে প্রাচীর ঘেরা মুস্তাং রাজ্যের রাজধানীতে।তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এই সম্পূর্ণ অজানা, দুর্গম রাজ্যের ইতিহাসকে জানা, তাকে পাশ্চাত্য জগতের সামনে তুলে ধরা। এখানে ছিলেন মাসাধিক কাল। এখানকার জনজাতির সঙ্গে মিশে, এদেরই একজন হয়ে খোঁজ করেছেন এই রাজবংশের ইতিহাস, এদের ইতিহাস। বহু চেষ্টায়, নানা রোমাঞ্চকর অভিযানের পর খোঁজ মিলেছে এক গুম্ফায় প্রাচীন পুঁথির, যা দিয়েছে ইতিহাসের সন্ধান। তাঁর বিবরণ পড়ে তখনই মনে হয়েছিল চলে যাই মুস্তাং। তাঁর দেখা মুস্তাং-এর সঙ্গে এখনকার মুস্তাং-এর অমিল নিশ্চয় অনেক। তবুও রুক্ষ সুন্দর প্রকৃতি এই অঞ্চলকে এখনও নিশ্চয় কিছুটা স্বতন্ত্র করে রেখেছে। কিন্তু সুদূর দুর্গম অঞ্চলে যাবার জন্য প্রস্তুতি দরকার, বিশেষত শারীরিক সাধ্যের কথাও ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে এখানকার গড় উচ্চতা ৩৫০০ থেকে ৩৯০০ মিটারের মধ্যে। কখন যে ‘প্রবীন নাগরিক’-এর পদ পেয়ে গিয়েছি তা মনেই থাকে না। সাধ্যে কুলোবে কি এই বয়সে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ার?

এই সময়ে বন্ধু কল্যাণ রুদ্র ও গৌরী ডাক দিল মুক্তিনাথ ভ্রমণে। ‘মুক্তিনাথ’ শুনেই মনে পড়ল মুস্তাং -এর কথা। মুস্তাং জেলার দুটি ভাগ-লোয়ার মুস্তাং ও আপার মুস্তাং। মুক্তিনাথ লোয়ার মুস্তাং-এ, লো মান্থাং যেতে হলে পেরোতে হবে আরো পথ, আপার মুস্তাং এর শেষপ্রান্তে তিব্বত ঘেঁষে প্রাচীর ঘেরা এই শহর।নাই বা হল সেখানে যাওয়া, মুস্তাং দেখতে পারব তো, যেতে পারব তো সেই পথে, যে পথ  গিয়েছে পোখরা থেকে মুস্তাং। তাই বা কম কি? শুরু হল যাত্রার আয়োজন।

যে পথে মিশেল পেইসেল সাহেব গিয়েছিলেন, সেই পথে এখন চলে বাস, গাড়ি-পায়ে হেঁটে চলার দরকার পড়ে না। এমনকি, ছোটো প্লেনও যায় পোখরা থেকে জমসম-মুস্তাং জেলার একমাত্র এয়ারপোর্ট-এ। ইচ্ছে ছিল চারপাশের দৃশ্য উপভোগ করতে করতে গাড়িতে যাওয়ার। কিন্তু অভিজ্ঞরা হাঁহাঁ করে উঠলেন। এই পথের যা অবস্থা, তাতে পথশোভা উপভোগ করা দূরস্থান, সশরীরে পৌঁছানো যাবে কিনা সন্দেহ।অগত্যা আকাশপথে। তবে ঠিক হল সেখানে পৌঁছে কাছাকাছি গ্রামে যাব সড়কপথে মুস্তাং-এর স্বাদ নিতে।

আকাশ পথে যাত্রাও অবশ্য কম রোমাঞ্চকর নয়।শোনা গেল এই যাত্রাও নিশ্চিত নয়। হাওয়া বেশি থাকলে সেদিন প্লেন উড়বে না। কেবল সকালেই যাতায়াত করে প্লেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাওয়ার বেগও বাড়ে। যা হোক,আমাদের কপাল ভালো। নির্দিষ্ট দিনেই পোখরা বিমান বন্দর থেকে জনা কুড়ি লোক নিয়ে উড়ল ছোট্ট প্লেন। পর্বতশৃঙ্গের পাশ দিয়ে খেলনা প্লেন যখন যাচ্ছে, তখন ভয়ে বুক যে কাঁপেনি-একথা বলতে পারব না। এই বোধহয় ভয়ংকর সুন্দর। নিচে দেখা যাচ্ছে ছোটো ছোটো বসতি, চাষের ক্ষেত, আকঁকাবাঁকা নদী, পাশে পর্বতাধিরাজ হিমালয়। মিনিট কুড়ির যাত্রা। প্লেন নামল জমসম-মুস্তাং-এর প্রবেশদ্বার। পাহাড়ে ঘেরা ছোট্ট এয়ারপোর্ট, এই খেলনা প্লেনের উপযোগী। প্লেন থেকে নেমে হেঁটেই ঢুকে পড়লাম, মালপত্র ছাড়া পেতে মিনিট পনেরো। এখান থেকে যাব কাগবেনী, ঠিক হয়েছে সেখানেই হবে আমাদের তেরাত্রিবাস।

প্রায় ৯০০০ ফিট উচ্চতায় জমসম মুস্তাং জেলার জেলা শহর। কালিগন্ডকী নদীর পাশে গড়ে উঠেছে এই শহর। তবে শহর বলতে যে ছবিটা আমাদের চোখে ভাসে, একেবারেই এটি তা নয়। তবে এখান থেকেই অন্নপূর্ণা ও আরও নানা ট্রেকিং শুরু  হয় বলে বিমানবন্দরের পাশে ছোটো ছোটো হোটেল এবং তাদের ঘিরে কর্মব্যস্ততা চোখে পড়ে। আমরা কাগবেনীকে বেছে নিয়েছি মুক্তিনাথের আরো কাছে বলে, আর ভিড় এড়িয়ে মুস্তাং-এর আসল স্বাদ পাওয়ার আশায়। জমসম থেকে কাগবেনি মাত্র ১০ কিলোমিটার-উঠে পড়লাম স্থানীয় বাসে। এই দশ কিলোমিটারেই মালুম হল পথের  অবস্থা। একেকবার ঝাঁকুনিতে মাথা গিয়ে ঠেকছে বাসের ছাদে। কিন্তু তার মধ্যেও নজরে পড়ছে অন্নপূর্ণা, ধৌলাগিরি আর পাশে বয়ে যাওয়া কালীগন্ডকী, তার তীর ধরেই চলেছি আমরা।

কাগবেনিতে ‘Red House’ আমাদের আস্তানা। সরু পথ দিয়ে, কাঠের সাঁকোর উপর দিয়ে নদীর এক শীর্ণ ধারা পেড়িয়ে বৌদ্ধ মন্দির আর তিব্বতী ধাঁচের বাড়িগুলির মাঝ দিয়ে পৌঁছালাম রেড হাউসে। সময় যেন এখানে থমকে আছে। ৩০০ বছরের পুরোনো এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গড়ে উঠেছে এই হোটেল।মাটি ও পাথরে তৈরি এই  বাড়ির নিচে বাস  করেন এঁরা, জানি না এঁরা সেই ব্যবসায়ীরই বংশধর কিনা।ঢুকেই মনে হল ফরাসি সাহেবের বইয়ে বর্ণিত মুস্তাং-এ পৌঁছে গেছি। হোটেলের সাজসজ্জাও প্রাচীন তিব্বতী ঢং-এ। শুনলাম তিব্বত থেকে রেশম পথ দিয়ে ব্যবসায়ীরা যখন পণ্য নিয়ে আসতেন, তাঁরা অনেকেই উঠতেন এই বাড়িতে। কাগবেনি ছিল স্বাধীন মুস্তাং রাজ্যের দূর্গশহর। এখান থেকে শুরু হত নানা বাণিজ্যপথের। মুস্তাং-এর রাজা এখানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কর আদায় করতেন। ঘরের জানালা থেকে দেখা যাচ্ছে ধৌলাগিরি, থরোংলা পাস, নীলগিরি পর্বতশৃংগ। চারপাশের বাড়িগুলোর সামনে রংবেরং-এর ধর্মীয় পতাকাগুলি উড়ছে তীব্র হাওয়ায়, রুক্ষ ন্যাড়া পাহাড়ে সবুজের ছোঁওয়া নেই — এ এক অপূর্ব রুক্ষ সৌন্দর্য্য।

নেপালের অন্য অংশের সঙ্গে মুস্তাং জেলার পার্থক্য অনেক-একে নেপালের অংশ না বলে তিব্বতের অংশ বললেই যেন ঠিক হয়। হিন্দুরাজ্য নেপালের এই অংশের বাসিন্দারা প্রধাণত বৌদ্ধ। আপার মুস্তাং-এ যাঁরা থাকেন তাঁরা প্রধাণত লোবা উপজাতি। এদের কথ্যভাষাও নেপালি নয়। তবে এখন অনেকে নেপালি ভাষাও শিখে নিয়েছেন। ব্যবসা সূত্রে কিছু নেপালিও বাস করেন, আর আছেন থাকালি সম্প্রদায়ের মানুষ।কাগবেনিতে বোধহয় থাকালি সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি।

পরের দিন ভোরবেলা মুক্তিনাথ যাত্রা শুরু। হিন্দুদের মহাতীর্থ মুক্তিনাথ। ৩৭১০ মিটার উচ্চতায় বিষ্ণু মন্দির-এটিই পৃথিবীর সর্বোচ্চ হিন্দু মন্দির।বৌদ্ধদেরও পূণ্যভূমি এই মুক্তিনাথ। কথিত আছে, বৌদ্ধগুরু পদ্মসম্ভব তিব্বত যাওয়ার পথে এখানে তপস্যা করেছিলেন। মন্দিরের বিষ্ণু মূর্তিটি তাঁদের মতে অবলোকিতশ্বর বুদ্ধেরই মূর্তি। কাগবেনি থেকে মুক্তিনাথের দূরত্ব প্রায় ১৪ কিলোমিটার। গাড়ি চলার পথ বেশ ভালো, মনে হয় নতুন তৈরি হয়েছে। পথ গিয়েছে কালিগণ্ডকীকে পাশে রেখে সবুজে হলুদে মেশানো ক্ষেতের পাশ দিয়ে। একদিকে রুক্ষ পাহাড়, তারই পায়ে রঙ্গীন ক্ষেত। আর সর্বক্ষণের সঙ্গী কালিগণ্ডকী আর তুষারশুভ্র হিমালয়ের শিখর তো আছেই। রানিপাওয়া গ্রাম পর্যন্ত গাড়ি যায়, তারপর প্রায় দেড়কিলোমিটার হেঁটে মুক্তিনাথ মন্দির।

মূল মন্দিরের শৈলী অনেকটা প্যাগোডার মত।মন্দিরের বিগ্রহ সোনার মানুষ সমান বিষ্ণুমূর্তি-উপবেশন অবস্থায়, দুই পাশে দুই দেবীমূর্তি-লক্ষী ও সরস্বতী। আর আছে দুটি শালগ্রাম শিলা। মন্দির চত্বরে ১০৮টি বৃষমুখী জলধারা-গণ্ডকী নদীর পবিত্র জল নির্গত হচ্ছে। মন্দিরের সামনে দুটি কুণ্ড-লক্ষ্মী কুণ্ড ও সরস্বতী কুণ্ড। পুণ্যার্থীদের বিশ্বাস ১০৮টি জলধারার নীচ দিয়ে গেলে মোক্ষলাভ।কুণ্ডদুটিতে স্নান করে সব পাপ স্খালন করে পুণ্যার্থীরা প্রবেশ করেন মন্দিরে। পাপস্খালন করার উতসাহের আতিশয্যে এই মন্দিরের ভাবগম্ভীর শোভার যেন কিছুটা  ছন্দপতন ঘটে। মন্দির চত্বরেই আছে অনেকটা একই শৈলীতে গঠিত মুক্তিনাথ যজ্ঞকুন্ড।মুক্তিনাথকে আবার সতীর পীঠস্থানও বলা হয়। সতীর গণ্ডদেশ এখানে পড়েছিল বলেই নাকি নদীর নাম  কালীগণ্ডকী, আর নারায়ণ সেই নদীর বুকে শিলারূপে অধিষ্ঠান করেন। একমাত্র এই নদীতেই পাওয়া যায় নারায়ণ শিলা। পথের ধারে নারায়ণ শিলার পশরা নিয়ে বসে আছেন অনেকে বিক্রীর জন্য, কালো পাথরে তৈরি আরো সামগ্রীও আছে। মন্দির থেকে একটু উপরে উঠলেই আছে এক গুম্ফা-সাম্বা গুম্ফা নামেই পরিচিত। অতি শান্ত পরিবেশে পাহাড়ের কোলে বৌদ্ধ মন্দির যেন শান্তির প্রতীক। ফেরার পথে মন্দির চত্বর থেকে শেষ 
বিকালে অন্নপূর্ণার শোভা ভোলার নয়, মন চায় না সেখান থেকে ফিরে যেতে।

পরের দিন অলস পায়ে কাগবেনির পাথুরে পথে ঘুরে বেড়ানো, প্রাচীন মুস্তাং-এর ঘ্রাণ পাওয়া আর রুক্ষ পাহাড়ের কোলে লাল গুম্ফার (আসল নাম Kag Chode Thupten Samphel Ling বা Red monastery, ১৪২৯ সালে তৈরি) শান্ত পরিবেশে নিজেকে হারিয়ে ফেলা— এই ছিল আমাদের দিনলিপি। কাগবেনিতে তিনরাত কাটিয়ে এবার ফেরার পালা। এর মধ্যেই কেমন মায়া পড়ে গিয়েছে এই ছোট্ট গ্রামটার উপর। ভাষা বুঝি না অনেকের, ভাষার বাধা কাটিয়েই হাত ধরে টেনে বসিয়েছে, শুনিয়েছে প্রার্থনার গান। ফেরার পথে উপহার দিয়েছে আপেল, কেউ বা কালিগণ্ডকীর পাথর।

এখন আমাদের গন্তব্য জমসম, উদ্দেশ্য ফরাসী সাহেবের পথে আরো উঁকিঝুঁকি মারা। জমসম থেকে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ধুম্বা হ্রদ, বৌদ্ধমতে পবিত্র হ্রদ। থিনি গ্রাম থেকে আধ কিলোমিটার গেলেই ধুম্বা হ্রদ। নীল আকাশের নিচে বরফে ঢাকা নীলগিরির পায়ে এই নীল জলের হ্রদ,চারপাশে রঙ্গীন ধর্মীয় পতাকা যেন শোভাতে আরেক মাত্রা যোগ করেছে। শোনা গেল এই হ্রদে অনেক মাছ থাকলেও মাছ ধরে না কেউ। এর উপরে হাঁটা পথে ১৫ মিনিট গেলেই আছে এক গুম্ফা, কুচুপ তেরেঙ্গা গুম্ফা। সেখানকার সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয় এর পবিত্র জল দিয়ে। এখান থেকে পথ গিয়েছে মারফা গ্রামে, মুস্তাং-এর আপেলের রাজধানী। আমরা অবশ্য সেই পথে যাইনি। জমসম থেকে গাড়ি নিয়ে গেছি লেতে, মারফা। কালি গণ্ডকী নদীর পাশ দিয়ে এ পথে যে গ্রামেই যাও, সেই যেন ছবির মতো সুন্দর।

ধবলগিরি, নীলগিরি, অন্নপূর্ণা ঘিরে রয়েছে লেতেকে।জমসম থেকে দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। ছোট্ট গ্রাম,বড়োজোর হাজার খানেক লোকের বাস। প্রবল হাওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য তিব্বতী ধাঁচে এই সব অঞ্চলেরই বাড়িগুলোর ছাদ একে অপরের সঙ্গে গায়ে লাগানো। ছাদে শুকোচ্ছে নানা শষ্য, শীতের প্রস্তুতি। প্রতিটি বাড়ির দরজা জানালায় ভারি সুন্দর কাঠের কাজ।

মারফা গ্রামের দূরত্ব জমসম থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার। যাঁরা আন্নপূর্ণা সারকিটে ট্রেক করেন, তাঁদের অনেকেই বেছে নেন মারফাকে জমসমের পরিবর্তে। জনকোলাহল থেকে দূরে শান্ত এই গ্রামে পাওয়া যায় পুরোনো মুস্তাং-এর ছোঁওয়া। স্থানীয় ভাষায় ‘মার’ কথার অর্থ পরিশ্রমী, ’ফা’ মানে লোকজন। সত্যি পরিশ্রমী লোকেদের বাস এখানে।এখানকার আপেল মুস্তাং-এর বিখ্যাত। তৈরি হয় সুস্বাদু Marpha apple brandy, Apple jam। অবশ্যই সংগ্রহ করতে ভুলবেন না।

মুক্তিনাথে দেখেছিলাম এক বিদেশিনীকে, কৃত্রিম পা নিয়ে ট্রেক করে এলেন অন্নপূর্ণা সারকিট। তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হল মারফাতে ফেরার পথে। শারীরিক অসুবিধাকে গ্রাহ্য না করে সুদূর বিদেশ থেকে এসে হেঁটেছেন দুর্গম পাহাড়ের পথে। আর আমরা কি কখনো যেতে পারব না একদা নিষিদ্ধ দেশের রাজধানী লো মান্থাং-এ? আশা করতে দোষ কি?

(মনে রাখতে হবে— মুস্তাং-এ প্রবেশের জন্য SAARC অন্তর্ভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য দুটো পারমিট লাগে। একটি হল অন্নপূর্ণা কনসারভেশন এরিয়া প্রজেক্ট পারমিট (ACAP), আরেকটি হল ট্রেকারস ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (TIMS)। প্রথমটির জন্য লাগে নেপালি টাকায় ১০০০ টাকা, দ্বিতীয়টির জন্য ৬০০ নেপালি টাকা। কাঠমান্ডু বা পোখরা থেকে করা যাবে। আর অবশ্যই রাখবেন পাসপোর্ট মাপের দুটি ছবি এবং পাসপোর্ট বা ভোটার কার্ড। ভারতীয় টাকা নেপালে সর্বত্রই চলে, তবে মুস্তাং-এর গ্রামে নেপালি টাকাই চলে বেশি। বাংলা থেকে মুস্তাং-এর দূরত্ব কিন্তু খুব বেশি নয়।)

Developed by DXDasia