মাছেদের বন্ধু মনোজ সরকার

কুয়োর রিংয়ের মধ্যে বানিয়েছেন কৃত্রিম পুকুর

কুয়োর রিংয়ের মধ্যে তিনি তৈরি করেছেন কৃত্রিম পুকুরের পরিবেশ। রয়েছে কচুরিপানা, শ্যাওলা। আর তাতেই রঙিন মাছ চাষ হচ্ছে। শিলিগুড়ি ঘোঘোমালির মনোজ সরকার বছর দেড়েক ধরে মাছ চাষ শুরু করলেও করোনা লকডাউনের সময় সেই কাজের প্রক্রিয়া আরও বেড়ে যায়। এ থেকে তাঁর দু’টো পয়সাও রোজগার হচ্ছে। আরও মজার বিষয় হল, কুয়োর রিংগুলোর মধ্যে জমে থাকা জলে যাতে মশার লার্ভা বংশ বিস্তার করতে না পারে, তার জন্য তিনি রিংগুলোর মধ্যে গাপ্পি মাছও ছাড়ছেন। গাপ্পি মাছ লার্ভা খেয়ে মশার বংশবৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। 

ছোটোবেলা থেকেই রঙিন মাছের প্রতি আলাদা দুর্বলতা রয়েছে তাঁর 

নিজের বাড়িতে প্রথমে একটি, তারপর আরও একটি – এই করে ২২টি কুয়োর রিং বসিয়েছেন। প্রথমে সামান্য কিছু রঙিন মাছ বাজার থেকে কিনে আনেন। যেমন রেড মলি, ব্ল্যাক মলি, ইয়েলো মলি, প্লাটিনা, কই কার্ফ, গোল্ড ফিস প্রভৃতি। শুরু হয় চাষ। দু’বেলা করে খাবারও দিতে থাকেন। এখন তার রিংয়ে হাজার হাজার মাছ। পাঁচ টাকা, দশ টাকা, পনের টাকায় প্রতি পিস হিসাবে বিক্রি করেন সেসব মাছ। অনেকেই বাড়িতে এসে কিনে নিয়ে যায় তাদের অ্যাকোরিয়ামে সৌখিনতার জন্য। আবার গাপ্পি মাছগুলোও তিনি বিক্রি করেন তিন টাকা, চার টাকা প্রতি পিস হিসাবে। গাপ্পি চাষের জন্য বাড়িতে আলাদা চৌবাচ্চাও তৈরি করেছেন। ফুলের টব, থার্মোকলের বাক্সের মধ্যেও চলছে তাঁর মাছ চাষ। কিন্তু কেন?

তিনি বলেন, আসলে ছোটোবেলা থেকেই রঙিন মাছের প্রতি আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। তাই এই কাজে অবসর সময়টা ব্যয় করা। শীতের মধ্যে মাছগুলো যাতে কষ্ট না পায় তার জন্যও তিনি ভেবেছেন। গ্রামেগঞ্জে তিনি ঘুরে বেড়ান গাড়ি নিয়ে। তারপর পুকুর-ডোবায় নিজেই নেমে পড়েন। সেখান থেকে কচুরিপানা, শ্যাওলা নিজে হাতে সংগ্রহ করে বাড়ি ফেরেন। এরপর সেসব কচুরিপানা, শ্যাওলা কুয়োর রিংয়ের মধ্যে বিছিয়ে দেন। শীতের শিশির বা কুয়াশার ঠান্ডা থেকে মাছগুলোকে রক্ষা করে কচুরিপানা। আর কচুরিপানার নিচে থাকা শ্যাওলার মধ্যে থেকে মাছগুলো লুকোচুরি খেলে!  

অনেকেই তাঁর থেকে মাছ কিনে নিয়ে যায় অ্যাকোয়ারিয়ামের জন্য

আজকাল শহরে পুকুর নেই। সবার বাড়িতে ছাদ। তার মধ্যে এই রকম মাছ চাষ করা যায়, মনটাও ভালো থাকে। খরচ বিশেষ নেই। মাসে মাছগুলোর জন্য পাঁচশ টাকার খাবার দিলেই যথেষ্ট। তবে রিংগুলো তাঁর বসাতে খরচ হয়েছে। একেকটি রিংয়ের পিছনে আটশ টাকা। কুয়োর রিংয়ের মধ্যে কিছু শামুকও ছেড়েছেন। শামুকের লালাও খায় মাছগুলো। তবে নিয়মিত রিংগুলো পরিষ্কার রাখতে হয়। মাসে আট-দশ হাজার টাকা সহজেই রোজগার হয়।
 

Developed by DXDasia