পঞ্চম বর্ষে পা রাখল লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল
মহান চলচ্চিত্র-নির্মাতা আব্বাস কিয়ারোস্তামি তাঁর ‘ক্লোজ-আপ’ ছবির এক চরিত্রের মুখে একটি সংলাপ বসিয়েছিলেন, বাংলায় যার অর্থ ‘সিনেমা দেখার সময় নেই আমার, জীবন এতটাই ব্যস্ত রেখেছে’। পর্দার এপার আর ওপারের ব্যবধান সরিয়ে দেয় এই সংলাপ, সিনেমা আর জীবন একই সমীকরণে বাঁধা পড়ে। সময়ের বৈদ্যুতিক ছুট আমরা হাড়ে হাড়ে জানি। তবে, ভার্চুয়াল জীবন, দুরত্ববিধি মেনে চলা জীবন, শত ব্যস্ততার জীবন থেকেও বেশ কিছুটা সময় শুধুমাত্র সিনেমা দেখে, সিনেমা দেখিয়ে—সিনেমার সঙ্গে কাটিয়ে দিতে পারেন তাঁরাই, যাঁরা সিনেমাকাতর, যাঁরা সিনেমার গুরুত্ব অনুভব করেন। তেমনই এক ব্যক্তিত্ব ‘লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’ (London Bengali Film Festival)-এর উদ্যোক্তা ও নির্মাতা মুনসুর আলি (Munsur Ali)।
মুনসুর আলি
গণসংযোগের ক্ষেত্রে সিনেমা কতটা প্রভাবশালী তা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। যেকারণে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর ধরে সাড়ম্বরে আয়োজিত হয়ে চলেছে বৈচিত্রময় বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসব। সেরকমই একটি লন্ডনের বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। বাঙালি অভিবাসীদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং তাঁদের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই চলচ্চিত্র উৎসব এবার পঞ্চম বর্ষে পা রাখল।

২১ জুন লন্ডনের বারবিক্যান সেন্টারে পর্দা উন্মোচন হয় এই উৎসবের। উদ্বোধনী মঞ্চে ঘোষণা করা হয়—প্রদর্শনী থেকে প্রাপ্ত অর্থ সিলেট ও সুনামগঞ্জের বানভাসি মানুষের সাহায্যে ব্যয় করা হবে। এ উৎসবের প্রোগ্রাম ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন মডেল-অভিনেত্রী দিলরুবা ইয়াসমিন রুহী। উৎসবে অংশ নেওয়া সিনেমাগুলি প্রদর্শিত হয় বারবিক্যান সেন্টার, পূর্ব লন্ডনের জেনেসিস, ওয়ালিংটনের হলে।
এই উৎসবের উদ্যোক্তা ও চেয়ারম্যান নির্মাতা মুনসুর আলির কথায়, “মূল বাণিজ্যিক ধারার দর্শকের কাছে ভিন্ন ধারার সিনেমা তুলে ধরতেই এই চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন।” তবে, শুধু বাংলাদেশ বা ভারত নয়, ইংল্যান্ডে তৈরি সিনেমাও এবারের উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে।
মুনসুর আলির সঙ্গে চলচ্চিত্র উৎসবের অতিথিরা
উদ্বোধনী দিনে প্রদর্শিত হয় আশরাফ শিশির পরিচালিত ‘আমরা একটি সিনেমা বানাবো’। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রদর্শিত হয় সায়নি গুপ্ত, হুসেন দালাল প্রমুখ অভিনীত, সৌমজিৎ মজুমদারের ছবি ‘হোমকামিং’ এবং পরিচালক মহম্মদ রাব্বী মৃধা পরিচালিত ‘পায়ের তলে মাটি নাই’। তৃতীয় দিনে দেখানো হয় ১৯৪৩ সালে বাংলায় ঘটা মর্মান্তিক দুর্ভিক্ষের সাক্ষী এক মহিলার জবানবন্দী নির্ভর ১৮ মিনিটের একটি ছোটোছবি। চতুর্থ দিনে ছিল গোলাম মোস্তাফা পরিচালিত “অ্যা ফাদার’স ডায়েরি”, অরণ্য পলাশ পরিচালিত ‘গন্তব্য’। পঞ্চম দিনে দেখানো হয় শেখ শাহনাওয়াজের ছবি ‘ব্লাফ’। শেষদিন প্রদর্শিত হয় শাহিদা রহমানের উপন্যাস “আয়া’স চয়েস” অনুপ্রাণিত তন্বী চৌধুরীর ছবি “মীরা’স মাইন্ডারস’ এবং অমিতাভ রেজাই পরিচালিত ‘রিক্সা গার্ল’। ২৬ জুন সাড়ম্বরে সমাপ্তি হয় এই চলচ্চিত্র উৎসবের।
ছবি সৌজন্যেঃ সুবিদিতা ভট্টাচার্য (জনসংযোগকারী অফিসার, মরিংগা এন্টারটেনমেন্ট)