হিমালয়ের বুকে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সম্ভার নিয়ে হাজির কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার

খেলার ছলে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো মজাদারভাবে তুলে ধরা হয়েছে এখানে

ডেলো এবং দুরপিন দারা – দুই পাহাড়ের মাঝখানে শৈলশহর কালিম্পং। ছবির মতো সুন্দর এই জায়গা দিয়ে এক সময়ে ভারত এবং তিব্বতের বাণিজ্য চলত। মেঘের মুলুকে সাদা অর্কিডের সমাহার – কালিম্পং যেন এক স্বর্গরাজ্য। প্রকৃতির মায়াময় টানে পর্যটকরা এখানে এখানে আসেন, চমৎকার আবহাওয়ায় বুক ভরে শ্বাস নেন, কিউরিও শপ থেকে সংগ্রহ করেন দুর্লভ সব অ্যান্টিক দ্রব্য, প্রশান্ত বৌদ্ধ মঠে অন্তরের সমস্ত গ্লানি কাটিয়ে সতেজ হয়ে ওঠেন।  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই মনোরম শহরের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেছে কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার। তুষারশুভ্র পাহাড়ের ওপর অর্কিডের রাজত্বে বিজ্ঞানের চমকপ্রদ সম্ভার তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই। প্রকৃতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়েই বিজ্ঞানের উদ্ভব। সেই প্রকৃতির সঙ্গে বিজ্ঞানের আশ্চর্য মেলবন্ধন নিজের চোখে দেখতে কালিম্পং সায়েন্স সেন্টারে আসতেই হবে আপনাকে।

কালিম্পং শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সাত একর জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে এই প্রতিষ্ঠান। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চলে বিজ্ঞান নিয়ে এমন আয়োজন এটাই প্রথম। খেলার ছলে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলোকে এত মজাদারভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যে কোনো মানুষই উপভোগ করবে। স্থানীয় মানুষ এবং কচিকাঁচারা যাতে নিজেদের ভাষায় বিজ্ঞানের চর্চা করতে পারে, তার জন্য কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার নানা সদর্থক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে। পুঁথিগত লেখাপড়ার বাইরে অন্যভাবে বিজ্ঞানের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার বিরল সুযোগ এখানে পাবেন।

এই সায়েন্স সেন্টারের প্রাথমিক লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞানচেতনা জাগ্রত করা এবং আধুনিক জীবনে বিজ্ঞানের সর্বব্যাপী প্রয়োগ সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের পরিসর বৃদ্ধি ঘটানো। শিশুদের মধ্যে অল্পবয়স থেকেই যুক্তিবোধ জাগ্রত হলে গোটা সমাজের অগ্রগতি ঘটে। কালিম্পং সায়েন্স সেন্টার নিষ্ঠার সঙ্গে এই কাজ করে চলেছে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রগতিশীল চিন্তাধারার প্রসার ঘটাতে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং কর্মশালার আয়োজনও করে থাকে।  এছাড়া, সায়েন্স সেন্টারের উদ্যোগে স্থানীয় মানুষেরা নানা জায়গায় বিজ্ঞান ক্লাব তৈরি করেন এবং চলমান বিজ্ঞান শিক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্য এবং প্রযুক্তিচেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজও করে থাকেন। 

কালিম্পং-এ গেলে আপনার সন্তানকে একবার এই সায়েন্স সেন্টারে নিয়ে যেতে ভুলবেন না। তাদের মনোরঞ্জনের জন্য আছে ডাইনোসরদের ওপর থ্রিডি শো, এবং আরও অনেক মজাদার প্রদর্শন। আর তখন যদি কোনো কর্মশালা থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। আপনিও প্রাণভরে উপভোগ করতে পারবেন বিজ্ঞানের মাধুর্য। 

কীভাবে যাবেন 
কালিম্পং শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে এই সায়েন্স সেন্টারের অবস্থান। কালিম্পং-এর অন্য পর্যটকস্থলগুলি যখন দেখতে বেরোবেন, তার মধ্যেই এখানে ঘুরে আসুন। বাসে করে তিস্তা বাজার বাস স্টপে নেমে এখানে যেতে পারেন।

ঠিকানা 
ডেলো, কালিম্পং, পশ্চিমবঙ্গ-৭৩৪৩১৬, ভারত। 
কালিম্পং সায়েন্স সেন্টারে যোগাযোগের নম্বর – +৯১ ৩৫৫২২৭৪৯৫৯


 

Developed by DXDasia