ব্যতিক্রমী দুর্গাপুজো মালদার ঐতিহ্যবাহী আদি কংসবণিক পরিবারে
করোনা আবহে অনেকটাই ফিকে হয়েছে উৎসবের মেজাজ — এমনটাই মনে করছেন অনেকে। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারেও ব্যতিক্রমী মালদার ঐতিহ্যবাহী আদি কংসবণিক পরিবারের দুর্গাপুজো। এবছর রীতি মেনেই পুজো আয়োজন করা হবে সেখানে।
মালদার প্রাচীন শহর ইংরেজবাজার। শতাব্দী প্রাচীন এই শহরের গা ঘেঁষে বয়ে গেছে মহানন্দা নদী। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, প্রায় ৩৫০ বছর আগে মহানন্দার নিমতলা ঘাটে পাওয়া গিয়েছিল দেবী দুর্গার চণ্ডী রূপের একটি পাথরের মূর্তি। এক বৃদ্ধা স্বপ্নাদেশ পেয়ে সেই মূর্তিটি মহানন্দা নদী থেকে সংগ্রহ করে নিমতলা ঘাটে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজো। বৃদ্ধা প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যুর পর শহরের এক জমিদার পরিবার পুজোর দায়িত্বভার গ্রহণ করে। তাঁদের বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয় দেবীর প্রস্তর মূর্তি। তারপর থেকে নিষ্ঠাভরে পাথরের মূর্তিতেই পুজো হত জমিদার বাড়িতে। তবে কালক্রমে জমিদার মশাইয়ের মৃত্যু হয়। পুজোর দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় মালদার আদি কংসবণিক পরিবারের হাতে। তারপর থেকে কংসবণিক পরিবারের মন্দিরেই পূজিতা হন জগন্ময়ী।

কংসবণিক বনেদিবাড়ির পুজো
মালদার দুর্গাবাড়ি মোড়ে এই বনেদি বাড়ি। অতীতের সেই বৈদিক পৌরাণিক প্রথা মেনে প্রতিবছরই এখানে দুর্গাপুজো হয়। যে ঐতিহ্যে পুজো শুরু হয়েছিল জমিদার বাড়িতে, তা আজও অটুট। প্রথা মেনে পুজোর ঘট ভরতে একই সাজে পায়ে হেঁটে মহানন্দার নিমতলা ঘাটে যান আদি কংসবণিক পরিবারের সদস্যরা। এই পরিবারের দুর্গাপুজো দেখতে প্রতিবছরই হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান। কারণ, দর্শনার্থীরা আজও প্রায় সাড়ে তিনশ বছর আগের সেই ইতিহাসের গন্ধ খুঁজে পান এখানে এলে। তাঁদের দুর্গা মন্দির ১৫২ বছরের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
এবারের পুজোয় পরিবারের সদস্যরা দেবীর কাছে মানত করবেন, যাতে পৃথিবী থেকে মহামারী দূর হয়ে যায়। পদ্মফুল এবং ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে মানত করা হবে। এখানে দুর্গা পূজিতা হন মৃন্ময়ী সিংহবাহিনী রূপে। পুজোর দিনগুলিতে চলে নিয়মিত চণ্ডীপাঠ। এখন জোরকদমে দুর্গাবাড়ি মন্দিরে চলছে পুজোর প্রস্তুতি।
