২৭তম কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে কোন পুরস্কার গেল কার ঝুলিতে?
স্বমেজাজেই শেষ হল ২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (KIFF 2022)। ১ মে রবীন্দ্র সদনে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ছিল চাঁদের হাট৷ বিভিন্ন বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রগুলির পুরস্কারের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হল সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রে জীবিত শিল্পীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান। পাশাপাশি সম্বর্ধনাও জানানো হল তাঁদের। উল্লেখ্য, এবছর সত্যজিৎ রায় মেমোরিয়াল লেকচারের প্রধান বক্তা ছিলেন পরিচালক-প্রযোজক সুজিত সরকার।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ছিলেন টলিউডের একঝাঁক তারকাও। এদিনই গোল্ডেন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার অ্যাওয়ার্ড (Golden Royal Bengal Tiger Award) প্রাপকদের নামও ঘোষণা করা হয়। সেই পুরস্কার তালিকায় সমাপতিত গোটা বিশ্ব। প্রাপ্তির ঝুলি শূন্য নয় বাংলারও।
এবারের চলচ্চিত্র উৎসবে ভারতীয় ভাষায় সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নিয়েছে অমর্ত্য ভট্টাচার্যের ‘অ্যাডিউ গোদার’ (Adeu Godard) (পড়ুন রিভিউ)। যে অনুসন্ধান কিংবদন্তি ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক জাঁ-লুক গোদার শুরু করেছিলেন ষাটের দশকে, সেই খোঁজ, সেই বিশ্লেষণ তিনি আজও জিইয়ে রেখেছেন। তিনি আবিশ্বের চলচ্চিত্রবোদ্ধাদের কাছে ‘শিক্ষক’ এই কারণেই যে চিরাচরিত ফর্ম-কে নস্যাৎ করে দেওয়া সেই অনুসন্ধানের বীজ তিনি ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। এবং সেই বীজেরই ফসল বলা চলে অমর্ত্য ভট্টাচার্যের এই ছবিটিকে।
ভারতীয় ভাষায় নির্মিত ছবির জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন ইসরাত আর খান (ছবিঃ গুঠলি লাড্ডু – Guthlee Laddu)। ভারতীয় ছবির বিশেষ জুরি পুরস্কার পেল অনুরাগ পাতির বাংলা ছবি ‘প্রাপ্তি’ (Prapti)।
এশিয়ান সিলেক্ট (নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড) — যে বিভাগে ছবি মনোনীত হওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকেন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতারা। সেখানে সেরা ছবির পুরস্কার পেল অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মানিকবাবুর মেঘ’ (Manikbabur Megh) (পড়ুন রিভিউ)। একটা মানুষের যদি প্রিয় বন্ধু হয়ে যায় আকাশের ভেসে থাকা মেঘ, তাহলে মেঘের সঙ্গে মানুষের কী কথা থাকতে পারে! তারা একে অপরের দিকে চেয়ে থাকতে পারে। আর তাদের কথা থাকবে ভিতরে ভিতরে। মেঘ-মানুষের মিলনটাই তখন সংলাপের মতো। এই ছবির পর্দা জুড়ে কত কত কথা। দর্শকদের মধ্যে কেউ কেউ সেই কথা শুনতে পেয়েছেন, কেউ পাননি। অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় ‘মানিকবাবুর মেঘ’ছবিটিকে নির্দিষ্ট কোনো তকমা দিতে চান না। বাস্তব, পরাবাস্তব, জাদুবাস্তব – সবকিছুই হতে পারে আবার নাও হতে পারে। ছবির বিষয় এমনই অদ্ভুত, নজরকাড়া।
ভারতীয় ভাষায় সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নিয়েছে অমর্ত্য ভট্টাচার্যের ‘অ্যাডিউ গোদার’। ভারতীয় ভাষায় নির্মিত ছবির জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন ইসরাত আর খান। এশিয়ান সিলেক্ট (নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড) পেল অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত প্রথম ছবি ‘মানিকবাবুর মেঘ’। ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন : ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজেস বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার পেল ঈশান ঘোষের ভারতীয় ছবি ‘ঝিল্লি’। এই বিভাগে সেরা পরিচালক হলেন পোল্যান্ডের ওলা ইয়ানকোস্কা ‘অ্যানাটমি’ ছবির জন্য৷ বিশেষ জুরি পুরস্কার গেল তিউনিসিয়া দেশের ছবি ‘স্ট্রিমস’।
ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন : ইনোভেশন ইন মুভিং ইমেজেস বিভাগে সেরা ছবির পুরস্কার পেল ঈশান ঘোষের ভারতীয় ছবি ‘ঝিল্লি’ (Jhilli) (পড়ুন রিভিউ)। মহানগরের মধ্যেই আস্ত একটা ধাপার মাঠ। মানুষ থেকে জীবজন্তু সবার শরীরেরই হাড়ের টুকরো এখানে পাওয়া যাবে। দেখা যাবে মৃত ঘোড়াদের টগবগ শব্দ। কলকাতার সমস্ত আবর্জনা ধারণ করে আছে ধাপার মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে। আবর্জনা জমতে জমতে পাহাড় হয়ে গেছে। সেখানেই বাস করে বকুল, গণেশ, চম্পা, শম্ভুরা। প্রত্যেকেই বন্ধু। একে অপরের সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে৷ প্রত্যেকেই আবার একা। দারিদ্র্য জ্বালায় প্রত্যেকেই চাইছে নিজের পায়ে ঘুরে দাঁড়াতে। আবর্জনার বাইরে দুর্গন্ধহীন একটা জীবনে বাঁচতে৷ কিন্তু দুর্গন্ধই তাদের তাড়া করে বেড়ায়৷ এ ছবির ক্যামেরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এই বিভাগে সেরা পরিচালক হলেন পোল্যান্ডের ওলা ইয়ানকোস্কা ‘অ্যানাটমি’ (Anatomia) ছবির জন্য৷ বিশেষ জুরি পুরস্কার গেল তিউনিসিয়া দেশের ছবি ‘স্ট্রিমস’ (Streams)।
সেরা ভারতীয় শর্টফিল্মের পুরস্কার পেল সৃষ্টিপাল সিংয়ের ‘গেরু পত্র’ (Geru Patra)। সেরা ভারতীয় তথ্যচিত্র হল সূচি প্রসাদের ‘দ্য লিটল বুক অফ দ্য লিটল ম্যান’ (The Little Book of The Little Man)।
২৭তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাছাই করা ছবির তালিকা এবং ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের নানান তথ্য দিয়ে বঙ্গদর্শন-শনিবারের কড়চা প্রকাশ করেছিল বিশেষ সিনে বুলেটিন। তাছাড়া উৎসবের সাতদিন বাছাই করা সমস্ত খবর, প্রদর্শনী, সিনেমার রিভিউ নিয়ে ভরপুর ছিল বঙ্গদর্শন পোর্টাল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের সেরার সেরা ছবির পুরস্কার মূল্য বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। তাই কান, বার্লিন, ভেনিস, লোকার্নোর মতো বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র উৎসবগুলির পাশাপাশি কলকাতার দিকেও চোখ থাকে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সিনেপ্রেমীদের।
