কলকাতার রাস্তায় চলমান আর্ট গ্যালারি

মহানগরে পালিত হল বিশ্ব শিল্প দিবস

এমনিতে বাঙালি নববর্ষের সারাটা দিন থাকে শিল্প আর সংস্কৃতির অনুশীলনে ভরপুর। তার ওপর সেই দিনটা যদি সারা পৃথিবীতে নান্দনিকতার জন্য উৎসর্গীকৃত থাকে, তাহলে তো আর কথাই নেই। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্মেছিলেন ১৪৫২ সালের ১৫ এপ্রিল। রাষ্ট্রসংঘ তাঁর জন্মদিনটিকে বিশ্ব শিল্প দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছরই সারা দুনিয়ার শিল্পী এবং শিল্পপ্রেমীরা এই দিনটায় মেতে ওঠেন সৃজনের উদযাপনে। ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানীও যে বিশ্ব নান্দনিকতার দিনটির গুরুত্ব মহা সমারোহে মানুষের সামনে তুলে ধরবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। গত বছর থেকে আমাদের শহর কলকাতাতেও বিশ্ব শিল্প দিবস পালন শুরু হয়েছে। সেবার গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের সামনে থেকে শোভাযাত্রা বেরিয়ে তা শেষ হয়েছিল আকাদেমি অফ ফাইন আর্টসের সামনে গিয়ে। সোমবার বাংলা নববর্ষের দিনে সেই আয়োজন দ্বিতীয় বছরে পা দিল। 

এবারেও ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন ইন্সটিটিউট অফ কালচারের সামনে থেকে সেই পথচলা গড়িয়াহাট হয়ে দেশপ্রিয় পার্কে গিয়ে পৌঁছয়। তখন ঘড়িতে মোটামুটি ৯টা বাজে। ছৌ এবং রণপার জমকালো আয়োজন ছিল দেখার মতো। আর ছিল রংবেরঙের ট্যাবলো। শোভাযাত্রায় স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের অংশগ্রহণ এক অন্য মাত্রা যোগ করেছিল। বিভিন্ন আঁকার স্কুল, আর্ট কলেজ, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরা তো ছিলেনই, তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন সাধারণ শিল্পপ্রেমী মানুষেরা। সব মিলিয়ে হাজার খানেক মানুষ পা মিলিয়েছিলেন। প্ল্যাকার্ডে রবি ঠাকুর থেকে শুরু করে অবন ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়, গণেশ পাইন – প্রখ্যাত সব শিল্পীদের প্রতিকৃতি নিয়ে হাঁটছিলেন তাঁরা। শিল্পীর উদ্ধৃতিও ছিল প্ল্যাকার্ডে। যেন কলকাতার রাস্তায় চলমান আর্ট গ্যালারি। গোটা অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং রূপায়ন করে বেঙ্গল আর্টিস্টস’ ফোরাম। নেতৃত্বে গুণী শিল্পী যোগেন চৌধুরী। আর ছিলেন সমীর আইচ, দেবব্রত চক্রবর্তী, মৃণাল মণ্ডল, প্রদীপ রক্ষিতের মতো খ্যাতনামা শিল্পীরাও।

শোভাযাত্রার পর দেশপ্রিয় পার্কে বসে গানের আসর। তারপর শিল্পী যোগেন চৌধুরী, তাপস কোঙার, অসিত পাল, গভর্নমেন্ট আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ ছত্রপতি দত্ত, শিল্প সমালোচক মনসিজ মজুমদারের বক্তব্যে উঠে আসে, শিল্প এখন কীভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে মিডিয়া – কারোরই আগ্রহ নেই ভিজ্যুয়াল আর্টে, একথা নিয়ে আলোচনা হয়। জানানো হয়, শিল্পচর্চাকে আমজনতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য, প্রচার বাড়ানোর জন্য আর্টিস্টস’ ফোরাম কী কী কর্মসূচি নিতে চলেছে। সারা বছর ধরে অনুষ্ঠান এবং কর্মশালার কী ধরণের পরিকল্পনা রয়েছে, সেটাও তুলে ধরা হয়। সব মিলিয়ে, কলকাতার শিল্পী ও শিল্পপ্রেমী মানুষরা নান্দনিকতার এক অনবদ্য যাপন উপহার দিলেন নববর্ষের দিনে। 

তথ্য সহায়তা – মৃণাল মণ্ডল 

ছবি সূত্র – ফেসবুক 

Developed by DXDasia