
উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ মৌটুসি দে কার্যত এই চর্চায় ব্রতী হয়েছেন
করোনার জেরে বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে সমস্যায় পড়েছেন বহু মানুষ ; সমস্যা অর্থনৈতিক, মানসিকও। করোনার জেরে কাজ হারিয়েছেন কেউ, কেউ আবার হারিয়েছেন আপনজনকে। এই অবস্থায় উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের কিছু মানুষ বেঁচে থাকার রসদ খুঁজতে ভিন্ন উপায় অবলম্বন করছেন।
চোপড়ার বাসিন্দা তথা উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ মৌটুসি দে কার্যত লকডাউনের স্ট্রেস কাটাতেই নিজের বাড়ির ছাদে টবের মধ্যে বিভিন্ন শাকসবজি, ফুল ফল চাষে মেতেছেন। এমনকি টবের মধ্যে আপেলও ফলিয়েছেন তিনি। তা ছাড়া মটরশুঁটি, পুঁইশাক, কলমি শাক তো আছেই। রয়েছে বিভিন্ন ফুলও। মৌটুসদেবী বলেছেন, গতবছর লকডাউনের সময় মনের স্ট্রেস কাটাতেই এই ভাবনা শুরু হয়। আর ভাবনা থেকে কাজে নেমে পড়া। এখন এই সব ফুল-ফল গাছ নিয়ে সময় কেটে যায়। তাতে মন বেশ ভালো থাকে।
অন্যদিকে, মাশরুম থেকে যে বিভিন্ন কিছু তৈরি করা যেতে পারে তার উদাহরণ তৈরি করছেন চোপড়ার মাশরুম চাষীরা। চোপড়া ব্লকের চাষিদের মাশরুম বিক্রির বড় বাজার শিলিগুড়ি। যানবাহন বন্ধ থাকায় তারা বাইরে মাশরুম পাঠাতে পারছেন না। তাই বাড়িতেই মাশরুম দিয়ে আচার, পাঁপড়, বড়ি সহ নানান খাবারের জিনিস তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছেন লকডাউনে নাজেহাল চাষীরা। সেগুলি এলাকার বাজারে বিক্রি করার পাশাপাশি পরে তা বাইরে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।


সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চাষীরা জানান, তাঁদের উৎপাদিত মাশরুম তারা শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, পানিট্যাঙ্কি পাঠাতেন। কিন্তু এখন গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় সেগুলি বাইরে পাঠানো যাচ্ছে না। তাই উৎপাদিত মাশরুম থেকে আপাতত বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বানানো হচ্ছে। কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ডঃ অঞ্জলি শর্মা জানিয়েছেন, চোপড়ার মাশরুম চাষিদের অনেকেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাঁদের মধ্যে অনেকে মাশরুম চাষ করেই সংসার চালান। তার সঙ্গে মাশরুম থেকে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তৈরি এক নতুন ভাবনা। বিশেষ করে এই করোনা পরিস্থিতিতে, যখন অর্থনৈতিক সঙ্কট চলছে। গতবছরও চাষীরা এধরনের খাদ্যসামগ্রী তৈরি করেছিলেন। এবারও কয়েকজন এই কাজ শুরু করেছেন। এটা একটা প্রশংসনীয় দিক।
