ফজলি বিবি নাকি ফজল বিবি – ‘ফজলি’ নামকরণে আম-আদমি

ফলের রাজা আম, আবার আমেদের রাজা ফজলি

এই প্যাচপেচে গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ দৌড়ে চলেছেন, নাভিশ্বাস ফেলছেন। কিন্তু কুলকিনারা পাচ্ছেন কি? পাচ্ছেন পাচ্ছেন। আরে মশাই, ‘আম’ বলে একটা ফল আছে তো নাকি! যত দুঃখ সব ভুলিয়ে দেয়। আর ভালো আম খেলেই চলে যেতে হবে মালদহ। তাও আবার যে সে আম নয়, এক্কেরে টাটকা ফজলি। আঁশবিহীন, রসালো, সুগন্ধযুক্ত, সুস্বাদু ও মিষ্টি আম এই ফজলি। আম-আদমির সবচেয়ে পছন্দের। ফলের রাজা আম, আবার আমেদের রাজা ফজলি।

আমের অন্যান্য প্রজাতির চেয়ে বেশ দেরিতেই হয় ফজলি। ভালো জিনিস খেতে ও খাওয়াতে সময় তো লাগবেই। ফজলি শুধু স্বাদে-গন্ধে অনন্য তাই নয়, আকারেও বেশ বড়ো। ফজলি আমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিস্তীর্ণ ইতিহাস। খানিক মজারও।

ঔপনিবেশিক সময়ে তখন বাংলার স্বাধীন সুলতানদের রাজত্ব প্রায় অস্তাচলে। সালটা ১৮০০ সালের আশেপাশে। প্রাচীন বাংলার গৌড়ে এক ভগ্নস্তূপে বাস করতেন এক প্রৌঢ়া। নাম– ফজলি বিবি। তিনি সন্ন্যাসী-ফকিরদের ভোগ দিতেন গাছের আম দিয়ে। এটাই নাকি তাঁর ‘প্যাশন’ ছিল। তাঁর বাড়ির ভগ্নস্তূপের উঠোনে ছিল একটি আম গাছ। গাছটির নিয়মিত যত্নআত্তি করতেন ফজলি বিবি।একবার মালদহের কালেক্টর র‌্যাভেনস সাহেব এসে ফজলি বিবির বাড়ির কাছে শিবির স্থাপন করেন। একদিন গৌড় যাওয়ার পথে সাহেবের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় ফজলি বিবির।

সাহেব তখন তৃষ্ণায় কাতর। প্রৌঢ়া তাঁর নিজস্ব নিয়মমতে জলের বদলে সাহেবকে একটি আম খেতে দেন। মিষ্টি আমে তৃষ্ণা মিটে যায় কালেক্টরের। তিনি তখন ফজলি বিবির কাছে আমের নাম জানতে চান। বুঝতে না পেরে প্রৌঢ়া তাঁকে নিজের নাম বলে বসেন। সেই থেকেই নাকি এমন আমের নাম ‘ফজলি’।তবে এ সবই লোকমুখে প্রচলিত গল্প। অনেকেই বিশ্বাস করেন না। কারণ কারোর কারোর মতে, পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুলতান ইউসুফের আদরের নর্তকী ফজল বিবির নামেই নাকি এসেছে ফজলি আম। নাম নিয়ে তো তর্ক-বিতর্ক থাকবেই। তবে ফজলি যুগের পর যুগ ধরে বজায় রেখেছে নিজের আভিজাত্য। ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হয়ে ওঠা মালদহের অন্যতম আকর্ষণ কিন্তু এই আমও। গ্রীষ্মকালে কিছু হোক না হোক, বাঙালির শেষ পাতে আম না হলে ঠিক চলে না। আর সেই আমের নাম যদি ফজলি হয়, তাহলে তো কথাই নেই।

আচ্ছা, ফজলি বিবি বা ফজল বিবিরা নিশ্চয় আমাদের পাশে বসে মুচকি হাসেন! গল্প থেকে চরিত্র তো বাস্তবেও উঠে আসে, তাই না?

Developed by DXDasia