
পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিষ্ঠা ৪০ বছর, কিন্তু এই মেলার বয়স ৪৪ বছর
হুগলি জেলার গরলগাছা হাইস্কুল মাঠে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল গরলগাছা সায়েন্স ক্লাব আয়োজিত ৪৪তম বিজ্ঞান কৃষি ও গ্রামীণ শিল্প মেলা। মেলার শুভ উদ্বোধন করেন বিজ্ঞানকথা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পঞ্চানন মণ্ডল। দ্বারোদঘাটন ও ক্লাবের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে মেলার সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলাকার চিকিৎসক ডাঃ তপন ব্যানার্জি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ, হুগলি জেলার সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত, চণ্ডীতলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের সম্পাদক সৈকত ব্যানার্জি এবং গরলগাছা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ সাধুখাঁ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য লক্ষীকান্ত পোল্লে, শিবপ্রসাদ খাঁড়া, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডঃ অশোক দাস মহাপাত্র, গরলগাছা সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রাইচরণ ব্যানার্জি, সম্পাদক প্রবাল ব্যানার্জি, চণ্ডীতলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের শাখা সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ হুগলি জেলা কমিটির জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য তথা চণ্ডীতলা বিজ্ঞান কেন্দ্রের সহ-সম্পাদক কুনাল লাহা ও অরিজিৎ পোল্লে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য বিরুপাক্ষ চক্রবর্তী।

কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত সমাজ গড়তে সমস্ত বিজ্ঞান সংগঠনের একসঙ্গে কাজ করা ছাড়া বর্তমানে অন্য কোনো বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথ সামন্ত গরলগাছা সায়েন্স ক্লাবকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিষ্ঠা ৪০ বছর, কিন্তু এই বিজ্ঞান মেলার বয়স ৪৪ বছর।
উদ্বোধনী বক্তব্যে পঞ্চানন মণ্ডল সমাজে বিজ্ঞানমনস্কতা গড়ে তোলার গুরুত্ব ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসারের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা থেকে মুক্ত সমাজ গড়তে সমস্ত বিজ্ঞান সংগঠনের একসঙ্গে কাজ করা ছাড়া বর্তমানে অন্য কোনো বিকল্প নেই। রবীন্দ্রনাথ সামন্ত গরলগাছা সায়েন্স ক্লাবকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের প্রতিষ্ঠা ৪০ বছর, কিন্তু এই বিজ্ঞান মেলার বয়স ৪৪ বছর। গরলগাছা সায়েন্স ক্লাব দীর্ঘ ৫৩ বছর ধরে এলাকায় বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদ প্রসারের কাজে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে। মেলা শেষ হয়েছে ১লা জানুয়ারি।

মেলায় বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনী , কৃষি ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। বিভিন্ন দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বসে আঁকো, হাতের লেখা, আবৃত্তি, ক্যুইজ, নৃত্য, মহিলাদের শঙ্খধ্বনি ও সংগীত প্রতিযোগিতা। এছাড়াও সাংস্কৃতিক মঞ্চে ছিল সেমিনার, শ্রুতি নাটক, ডক্টর বলরাম মজুমদার স্মারক বক্তৃতা এবং একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলার মাধ্যমে বিজ্ঞান, কৃষি ও গ্রামীণ শিল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজে বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তার প্রসার ঘটবে এই আশা আয়োজকদের।
