
অভিনব সরকারি উদ্যোগ বলে দাবি করছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকেরা
করোনার কারণে এখনও বন্ধ রাজ্যের সমস্ত স্কুল। এখনও অনলাইন ক্লাসের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে স্কুল পড়ুয়াদের। যে সব ছাত্র-ছাত্রীরা অনলাইন ক্লাসের সুবিধা থেকে যারা বঞ্চিত, হাতে সরকারের দেওয়া ট্যাব থাকলেও ক্লাস করার জন্য নেই ইন্টারনেট, তাদের জন্য এবার বাড়ির দরজাতেই আসছে স্কুল। এমনই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি ‘শিক্ষার পরশ’ নামে একটি ভ্রাম্যমান বাসের উদ্বোধন করেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু।
করোনা মহামারীর জেরে গত বছর থেকে স্কুল-কলেজ সহ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সমস্ত শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনে ক্লাস করানোর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। অনলাইন ক্লাস করার জন্য সরকারের তরফে ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাবও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও অনেক জেলারই প্রত্যন্ত এলাকার মানুষেরা অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইন্টারনেট পরিষেবা থেকে অনেক দূরে রয়েছেন। ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছলেও তা ঠিকমতো ব্যবহার করা বা অনলাইন ক্লাস করার পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁরা অজ্ঞ। তাই সেই সমস্ত এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদেরই হাতে-কলমে শিক্ষা দিতে চালু করা হল এই পরিষেবা। ‘শিক্ষার পরশ’ নামে এই ভ্রাম্যমান বাসের মাধ্যমেই শিক্ষার বিভিন্ন সামগ্রী সহ শিক্ষকেরা জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে গিয়ে ক্লাস নেবেন।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসকের কথা অনুযায়ী, মূলত জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই উদ্যোগ। ‘শিক্ষার পরশ' নামে ভ্রাম্যমান বাসটিতে বই-পত্র সহ শিক্ষার বিভিন্ন সামগ্রী থাকবে। এ ছাড়া থাকবেন দু’জন করে শিক্ষক। তাঁরা জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে পঞ্চম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াবেন। ‘শিক্ষার পরশ’ একটি অভিনব সরকারি উদ্যোগ বলে দাবি করছেন পড়ুয়া ও অভিভাবকেরাও।
