জলপাইগুড়িতে বিনামূল্যে অক্সিজেন পৌঁছে দিতে ছুটছে ‘মানবিক’ টোটো

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে গোটা দেশ

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে গোটা দেশ। বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন না পাওয়াটা এখন সবথেকে বড় সমস্যা। আর এই দুঃসময়ে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরে শুরু হয়েছে টোটোর মাধ্যমে বিনামূল্যে অক্সিজেন পরিষেবা। পরিষেবা শুরু হওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই জলপাইগুড়ি এলাকায় ৩৫ জনকে বিনা পয়সায় টোটোর মাধ্যমে অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গ্রীন জলপাইগুড়ির উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক কাজ।

টোটোতে বিনা পয়সায় অক্সিজেন পরিষেবার সঙ্গে ৭২ ঘন্টার মধ্যে ২১ জন রোগীকে বিনা ভাড়ায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন ওই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা। শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে তাদের আরও একটি এম্বুলেন্স পরিষেবা। গ্রীন জলপাইগুড়ির সম্পাদক অঙ্কুর দাস জানিয়েছেন, চব্বিশ ঘণ্টা টোটোর মাধ্যমে তাঁরা অক্সিজেন পরিষেবা দিতে প্রস্তুত। টোটোর মধ্যে সবসময় তিনটি অক্সিজেন সিলিন্ডার সবসময় প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য ২০০৭ সালে শুরু হয়েছিল এই গ্রীন জলপাইগুড়ি। জলপাইগুড়ি শহরের রাজবাড়ি পাড়ায় এর প্রধান কার্যালয় হলেও সংস্থার সদস্যরা ছড়িয়ে রয়েছেন দিল্লি, মুম্বাই থেকে শুরু করে বেঙ্গালুরু সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সংস্থার সদস্য এভাবে ৩৬০ জন। সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো সমাজসেবী উজ্জ্বল সেনের হাত ধরে। তিনি ২০১৭ সালে প্রয়াত হলেও সংস্থার মানবিক ও সামাজিক কাজ থেমে থাকেনি। এই মুহুর্তে সংস্থার উদ্যোগে ত্রিশটি সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। টোটোর মাধ্যমে অক্সিজেন পরিষেবা সেই অর্থে ত্রিশতম কর্মসূচি। দুঃস্থ অসহায় মানুষদের খাদ্য পৌঁছে দেওয়া ছাড়াও বস্ত্র বিতরন, রক্ত দান, রক্তের গ্রুপ নির্নয়, বিয়ে বা কোনও অনুষ্ঠান বাড়িতে বেঁচে যাওয়া খাবার সংগ্রহ করে এনে অভুক্তদের মধ্যে বিলি করা, চিকিৎসা শিবির প্রভৃতি এই সংস্থার মানবিক কর্মসূচিগুলোর উদাহরণ। আবার অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধা, যাদেরকে দেখার কেউ দেখার নেই, তাদেরকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া, ওষুধ প্রদানও গ্রীন জলপাইগুড়ির আরও একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস। 

কিন্তু এই ধরনের মানবিক ও সামাজিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য দরকার অর্থ, সেই অর্থ আসছে কীভাবে, জানতে চাইলে সম্পাদক অঙ্কুর দাস বলেন, ফেসবুকে তাদের অনেক সদস্য। সেই সদস্যরা তাদের নিয়মিত অর্থ সাহায্য করেন। টোটো অক্সিজেন পরিষেবার জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তাঁরা এক লক্ষ টাকা পেয়েছেন। আবার গত মাসে তাঁরা সদস্যদের কাছ থেকে সাত লক্ষ টাকা সাহায্য পেয়েছেন। এভাবে প্রতিদিন সাহায্য আসছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই তাদের সদস্য রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও রয়েছে। তাদের সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই চলছে এরকম মানবিক কর্মসূচি। 

 

Developed by DXDasia