সোনার মতো গল্প, উৎপল দত্ত, শেষ পর্ব
সোনার মতো গল্প (প্রসঙ্গ- উৎপল দত্ত) অন্তিম পর্ব
'সোনার মতো গল্প'-এই আসরে উৎপল দত্ত-কে নিয়ে আজ তৃতীয় এবং শেষ পর্ব। এর আগের দু'টো পর্বে তাঁর নাটক, নাটকে তাঁর রসবোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা এগুলো নিয়ে কথা বলেছেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। এই পর্বের আলোচনায় উঠে এসেছে উৎপলের চলচ্চিত্র জীবন এবং ব্যক্তিগত রসবোধ। জাতীয় চলচ্চিত্রে বাংলা ভাষাকে অসম্ভব বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিলেন একমাত্র তিনিই। ‘দো আনজানে’ ছবিতে আমরা দেখতে পাই প্রেম চোপড়া অভিনীত রঞ্জিত চরিত্রটিকে তিনি বলছেন, ‘রঞ্জিত জীবনকে বারেমে তুমহারা কোয়ি দিলরুবা নহি হ্যায়…কী বলে…তজরুবা(অভিজ্ঞতা) নহি হ্যায়!’ এইভাবে কথার মাঝে বারবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে ‘কী বলে’ জুড়ে দিয়ে বাংলা ভাষা অবাঙালি শ্রোতা-দর্শকের মগজে ‘পুট’ করতেন তিনি। আর এভাবেই ভারতীয় চলচ্চিত্রে উৎপল দত্ত তাঁর অভিনয়ের একটা 'আইডেন্টিটি’ তৈরি করেছিলেন।
অসম্ভব ভালো ইংরেজি বলতেন শুধু তাই নয়, অনেকগুলো ভাষাই ছিল তাঁর নখদর্পণে। তুখড় ইংরেজি জানতেন বলে অনর্গল ভুল ইংরেজি বা ইংরেজিতে 'ভুলভাল' বকাতেও তাঁর অসীম পারদর্শীতা ছিল। যেমন শ্রীমান পৃথ্বীরাজ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে তিনি তাঁর জামাতার পরিচয় পরিচয় করিয়ে দেন- 'হি ইজ মাই হাসব্যান্ডস ডটার…ইয়ে মানে, ডটারস হাসব্যান্ড' এই বলে। কথা বলার ধরণ এবং সংলাপ, এই দুয়েই ছিল তুখড় 'পারফেকশন'। হিন্দি ছবিতে কাজ করার পিছনে একটি মহৎ উদ্দেশ্যও ছিল তাঁর। যেহেতু সেসময় থিয়েটার জনপ্রিয় না হওয়ার অনেক টাকা ঋণ হয়ে যায় মিনার্ভা থিয়েটারের, সেই ঋণ পরিশোধের জন্যই হিন্দি ছবিতে তাঁর যোগদান। তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই ‘থিয়েটারের বিশ্বকর্মা’।
একবার তিতুমীর-এর রিহার্সাল চলাকালীন তাঁর দলের দুই ছেলে তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি মেক্সিকান রিভ্যলুশন নিয়ে কোনও নাটক ভাবেননি কেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি ছেলেদুটিকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাঁরা অমুক বইগুলো(খান দশেক ইংরেজি বইয়ের নাম গড়গড় করে বলেছিলেন, যেগুলোর আদৌ কোনও অস্তিত্ব নেই) পড়েছে কি না। স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা কোনও উত্তর দিতে পারে না। তবে, এই রসিকতার পর তিনি ছেলেদুটিকে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত উত্তর দিয়েছিলেন। বুঝিয়েছিলেন বিপ্লব বা ‘রিভ্যলুশন’ অর্থ। কী বলেছিলেন তিনি? দেখুন ভিডিও-তে।

