কলকাতা বইমেলা ২০২৬-এ রেকর্ড জনসমাগম ও বই বিক্রি : সাফল্যের নেপথ্য-কাহিনি

বই বিক্রির আনুমানিক পরিমাণ ২৭ কোটি থাকা এবং দর্শনার্থী প্রায় ৩২ লক্ষ

ত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শেষ হল আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার ৪৯তম সংস্করণ। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক অর্থাৎ বইমেলা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এই মেলায় এবছর অংশগ্রহণ করেছিল এক হাজারেরও বেশি বাংলা-দেশি ও বিদেশি বইয়ের স্টল এবং তিনশোরও বেশি লিটল ম্যাগাজিন। আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে বলা হয় দর্শনার্থীর দিক থেকে এশিয়ার বৃহত্তম বইমেলা। পৃথিবীর মানচিত্রে কোথাও বই ঘিরে সাধারণ মানুষের এহেন উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায় না। ৪৯ বছর ধরে কলকাতা বইমেলা সেই উদযাপনই করে চলেছে।

প্রতি বছরেই রেকর্ড হারে মানুষের জমায়েত ও বই বিক্রির হিসেব বলে দেয় বইমেলার প্রতি পাঠকদের ভালোবাসা আসলে কেমন! পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-এর বই বিক্রির আনুমানিক পরিমাণ ২৭ কোটি থাকা এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩২ লক্ষ।

প্রতি বছরেই রেকর্ড হারে মানুষের জমায়েত ও বই বিক্রির হিসেব বলে দেয় বইমেলার প্রতি পাঠকদের ভালোবাসা আসলে কেমন! পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৬-এ বই বিক্রির আনুমানিক পরিমাণ ২৭ কোটি থাকা এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩২ লক্ষ। প্রতিবারেই এই হিসেব দেয় পাবলিশার্স ও বুকসেলার্স গিল্ড, যা নিয়ে মতানৈক্য ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়। অনেকেই বলেন কীসের ভিত্তিতে এবং কোন উপায়ে এই হিসেব দেওয়া হয় তা অজানাই রাখেন গিল্ড কর্তৃপক্ষ। তবে একথাও ঠিক, এমন হিসেব আশা জোগায় অজস্র বইপ্রেমী মানুষের মনে। ছোটো তথা আঞ্চলিক কিছু প্রকাশনী সংস্থা বছরের এই একটি বইমেলার দিকে তাকিয়েই বই প্রকাশ করেন। সেক্ষেত্রে বইয়ের বিক্রি ভবিষ্যতে কাজ করার সাহস দেয়।

এ বছর বইমেলা সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে দীর্ঘ ছুটির তালিকা। নেতাজি জয়ন্তী থেকে সাধারণতন্ত্র দিবস পর্যন্ত টানা চার দিনের ছুটি এবং সঙ্গে সপ্তাহান্তের ভিড়। এছাড়া প্রথমবারের মতো হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে মেলা প্রাঙ্গণ (করুণাময়ী) পর্যন্ত সরাসরি যাতায়াত ব্যবস্থা থাকায় পাঠকদের আসতে অনেক সুবিধা হয়েছে। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায় এই জনসমাগমকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার দর্শনার্থী এবং বই বিক্রি—উভয় ক্ষেত্রেই আমরা ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি দেখেছি।” ২০২৫ সালে ২৭ লক্ষ মানুষ মেলায় এসেছিলেন এবং ২৫ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবার তা বেড়েছে।

এ বছর ইউক্রেন প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছে এবং চীন ১৫ বছর পর বইমেলায় ফিরে এসেছে। ২০২৭ সালের বইমেলা ৫০ বছরে পদার্পণ করবে।

১৯৭৬ সালে যখন এই মেলা শুরু হয়েছিল, তখন মাত্র ৩২ জন প্রকাশক অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১০০-এ (লিটল ম্যাগাজিনসহ)। রাশিয়া আর ইউক্রেন যখন বাইরে যুদ্ধ করে, তখন কলকাতা বইমেলায় এই দুই দেশ মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকে, ফিরিয়ে দেয় সম্প্রীতির ছবি। উল্লেখ্য, এ বছর ইউক্রেন প্রথমবার অংশগ্রহণ করেছে এবং চীন ১৫ বছর পর বইমেলায় ফিরে এসেছে। ২০২৭ সালের বইমেলা ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। সেই মাইলফলক ছোঁয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণের কাছে ‘বইতীর্থ’ স্থাপনের জন্য ১০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছেন ইতিমধ্যে। ২০২৭ সালের ৫০তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে গিল্ড আগামী ২১ জানুয়ারি (২০২৭) সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষের বইমেলা উদ্বোধনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাবে বলে স্থির করেছে।

৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯.০৫ মিনিটে ৪৯ বার হাতুড়ি বাজানোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বইমেলার সমাপ্তি ঘটে। সমস্ত লেখক-পাঠক-প্রকাশক করতালি ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে আবারও অপেক্ষা করতে শুরু করেন আগামী বইমেলার।

২০২৬-এর বইমেলায় বঙ্গদর্শন.কম টানা এক সপ্তাহ নানাবিধ লেখা প্রকাশ করেছে। একঝলকে দেখে নিন:
১। বইমেলায় পাঠক নেই, শ্রোতা আছে? পড়ুয়ার বদলে দর্শকের ভিড়?
২। ভুঁইফোঁড় পুরস্কার, ইন্সটা-রিল আর পডকাস্ট যখন বইমেলা-আড্ডার বিষয়
৩। বইমেলার আনন্দ ছোটোদের পেতে দিন, নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে দিন
৪। কলকাতা বইমেলায় উত্তমকুমার এবং বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাস
৫। বইমেলার প্রেম আজীবন রঙীন, হলদেটে হয় না
৬। বইমেলা সইমেলা
৭। কলকাতা বইমেলায় আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইউক্রেনের স্টল : এক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন

___________ 
গ্রাউন্ড রিপোর্ট: সুমন সাধু | কৃতজ্ঞতা স্বীকার: পিটিআই

Post Tags
Developed by DXDasia