বইমেলার আনন্দ ছোটোদের পেতে দিন, নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে দিন

ন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা একটা উৎসবের মুহূর্ত। অনেকেই এখানে আসবে। কিনতে আসবে বই। কারোর প্রথম বই প্রকাশ পাবে। কেউ বা এসে পৌঁছে যাবে বই এর সুমুদ্রে আনন্দ পেতে।

বড়োদের সঙ্গে ছোটোরাও ‌আসবে। মেলায় কলেজস্ট্রিটের মতো ছাড় পাওয়া যায় না ঠিকই, তবে বাচ্চাদের মেলা ঘুরে দেখাবেন। লিটল ম্যাগাজিনের জায়গায় নিয়ে গিয়ে ওই পত্রিকাদের চেনাবেন। ভবিষ্যতে ওরা যখন ম্যাগাজিন করতে আগ্রহী হবে, স্মৃতি রোমন্থে আনন্দ পাবে। বাচ্চারা অনেক বই দেখেই কিনতে চাইবে। বিশেষত চকচকে মলাট দেখে ছোটোরা আবদার করবে। বইটি কিনতে চাইবে। হয়েতো সে বইটি ওদের উপযুক্ত নয়, দোকানে বা মেলায় জোরে কিছু বলবেন না। বুঝিয়ে ওই স্টল থেকেই ওকে অন্য বই কিনে দেবেন। যে বাচ্চারা লিখতে পারে, তাদের সঙ্গে একটা ছোটো খাতা রাখতে বলবেন তাতে ওরা যে যে বই ভালো লাগছে বা পড়তে চায় তার নাম, লেখকের নাম, প্রকাশনা যেন লিখে নেয়। মনীষীদের জীবনী বই কিনে দিতে পারেন।

বইমেলার যে আলাদা আনন্দ আছে ছোটোদের এই মজাটা পেতে দিন। বই হাতে নিতে দিন। সুকুমার রায়ের কবিতা পড়তে দিন, উপেন্দ্রকিশোররের গল্পের বই হাতে তুলে দিন। নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে দিন। এভাবেই সবার অজান্তে বই বাচ্চাটির বন্ধু হয়ে উঠবে।

আজকাল জেলার বইমেলাও বেশ ভালো হয়। কোনো এক প্রকাশক বন্ধুর (যার দোকানে সব বাচ্চাদের বই থাকে)  অভিজ্ঞতা জানলাম যে তার দোকানে মা তার ছেলেকে নিয়ে স্টলে আসেন। বই দেখেন, কিন্তু বাচ্চাটি একটি বই নেবে বলে আবদার করলে বইটি কিনে দেন না। দয়া করে এমনটি করবেন না। দরকার হলে অভিভাবকেরা নিজেরা একদিন মেলায় দেখে যাবেন কোথায় ছোটোদের জন্য বই রাখা আছে। তারপর ছোটোদের নিয়ে প্রথমেই সেই স্টলগুলিতে নিয়ে যাবেন। তিন-চারটি বই কিনলেই ওরা খুশি হয়ে যাবে প্রথমেই।

একথা সত্যি ছোটোদের জন্য মেলায় আলাদা কোনো জায়গা নেই। নেই আলাদা মঞ্চ। থাকলে হয়েতো বাচ্চাদের বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়ত। এমন যদি হতো যেখানে শুধুই বাচ্চাদের বই থাকত! ছোটোরা তা উল্টে পাল্টে দেখত! কেমন হতো!

 

ছোটোদের কাছে বইমেলা মানে হল বই দেখার মেলা। একটা মেলায় না আছে পুতুল, না আছে গাড়ি-ঘোড়া, না আছে বেলুন, আছে শুধু মজা। কিছু জায়গায় হয়েতো খাবার পাওয়া যায় তা খাওয়াবেন। তবে বইমেলার যে আলাদা আনন্দ আছে ছোটোদের এই মজাটা পেতে দিন। বই হাতে নিতে দিন। সুকুমার রায়ের কবিতা পড়তে দিন, উপেন্দ্রকিশোররের গল্পের বই হাতে তুলে দিন। নতুন বইয়ের গন্ধ শুঁকতে দিন। এভাবেই সবার অজান্তে বই বাচ্চাটির বন্ধু হয়ে উঠবে।

কী বই ছোটোরা কিনতে পারে এ ব্যাপারে স্কুলের শিক্ষকের একটা দায়িত্ব থেকে যায়। পড়াতে পড়াতে অনেক বইয়ের কথা নিশ্চয়ই বলবেন। ছোটো ছেলেটি বা মেয়েটি বইমেলায় এসে সেই বইটি যখন খুঁজে পাবে ওর যেমন বিস্ময় জাগবে মনে, তেমনই সে আনন্দ পাবে।

কলকাতার এই আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু হয় ১৯৭৬ সালে যা আজও চলছে। ২০২৬-এর আন্তর্জাতিক বইমেলা শুরু ২২/১/২৬, শেষ হবে ৩/২/২৬-তে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মেলার বেশ পরিবর্তন হয়েছে। মেলা চলে এসেছে সল্টলেকের করুণাময়ীতে। সরকার বাসের ব্যবস্থাও সুন্দর ভাবে করেছেন, তার সঙ্গে আছে মেট্রোরেল। ফলে মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছে যাওয়া বড়ো একটা জটিল হবে না। তবে সময় লাগতে পারে। এত কথা বলার কারণ হল বই না ধরলে, না পড়লে অনেক কিছু ওদের কাছে অস্পষ্ট হয়ে থাকবে। বড়ো হয়ে সেই ক্ষত সারানো বড্ড পরিশ্রম সাপেক্ষ।

অনেক বাড়িতে শিশুদের বইমেলায় নিয়ে যেতে কেউ পারে না, বই কেনারও হয়তো সাধ্য নেই। স্কুলগুলির উচিত তাদের ছাত্রছাত্রীদের বইমেলায় নিয়ে আসার। স্বল্প দামে যে বই পাওয়া যায় তা কিনে দেওয়ার। এভাবেই হয়তো আমাদের নতুন প্রজন্ম বই ভালোবেসে গান গাইবে, কবিতা লিখবে। লিখবে প্রবন্ধ, গল্প।

_____________
মতামত লেখকের নিজস্ব 

Written by