চৈতন্যদেব তৃপ্ত হয়েছিলেন যে পদে, পুর দেওয়া পটলভাজায় সাবেক বাংলার স্বাদ

‘প্রেমাবেশে’ তিনদিন উপবাসের পর একাধিক পটলের পদ চেখেছিলেন চৈতন্যদেব

‘কোমল নিম্বপত্র সব ভাজা বার্ত্তাকী।
পটোল ফুলবড়ি ভাজা কুষ্মাণ্ড মানচাকি।।’

‘প্রেমাবেশে’ তিনদিন উপবাসের পর অদ্বৈত আচার্যের ঘরে খেতে বসেছেন চৈতন্যদেব। সেখানে পটলের একাধিক পদ। একটা সাদামাটা, আটপৌরে সবজিরও এমন মহিমা যে তার স্বাদ তৃপ্তি দিতে পারে স্বয়ং চৈতন্যদেবকেও। এই তথ্যটুকুকে সরিয়ে রাখলেও অবশ্য পটলকে তুচ্ছ ভাবার কারণ নেই কোনো। বাংলার হেঁশেলের আবহমান গল্পে পটল গভীরভাবে জড়িয়ে।

আজো পটলেরই পদ। এবং এই পদও ‘ভাজা’। চৈতন্যদেব পটলভাজা রসিয়ে খেয়েছিলেন। আর, সেই পটলভাজার ভিতরেই যদি ‘পুর’ পুরে দেওয়া হয় তাহলে? এই পদও কিন্তু সাবেক বাংলার পদ। পুর নানাকিছুরই হতে পারে। চাইলে দিতে পারেন চিংড়ির পুর-ও। আজ অবশ্য নিরামিষ পুরের কথাই থাকল।   

উপকরণ:

পটল- ৬টা মাঝখান থেকে ফালি করে কাটা
নারকেল-কোড়া- হাফ কাপ
হলুদ সরষে- ১ চামচ
কালো সরষে- ১চামচ
কাঁচা লঙ্কা- ২টো
রসুন কোয়া- ৪ টুকরো
বেসন- ৪ টেবিল চামচ 
হলুদ গুঁড়ো- ১/৪ চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো- ১ চা-চামচ
গরম মশলা-গুঁড়ো- এক চিমটে
সরষের তেল, সাদা তেল, নুন, চিনি, জল পরিমাণমতো। 

প্রণালি:

পটলগুলো দু’ফালি করে কেটে মাঝখানের বীজের অংশটুকু বাদ দিয়ে দিন। সামান্য নুন মাখিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন। ঐ সময় পুরটা তৈরি করে নিন। পুরের জন্য নারকেল, সরষে, রসুন, কাঁচালঙ্কা, নুন, চিনি পরিমাণমতো নিয়ে সবটা একসঙ্গে বেটে নিন। এবার কড়াইতে সরষের তেল দিন অল্প করে। তেল গরম হলে বেটে রাখা পুরের উপকরণটি ভালো করে সাঁতলে নিন। এরপর একে একে সব পটলের মাঝে পুর ভরে নিন। একটি পাত্রে বেসন, নুন, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, গরম মশলা-গুঁড়ো আর জল দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন, যাতে মিশ্রণটি খুব পাতলাও না হয় আবার খুব ঘনও না হয়। 

কড়াইয়ে বেশ খানিকটা সাদা তেল দিন। তেল ভালো গরম হলে পুর ভরা পটলগুলি বেসনের মিশ্রণে ডুবিয়ে কড়াইয়ে দিন। এপিঠ- ওপিঠ ভালো করে ভেজে তুলে নিন। এভাবে সব পটলগুলি ভেজে নিন। গরম গরম ভাতের সঙ্গে পুরভরা পটল খান। 

ছবি: তর্পিণী ভুঁইঞা

Developed by DXDasia