চিরচেনা কাতলার অচেনা বাহার

নতুনভাবে আবিষ্কার করুন কাতলার স্বাদকে

“ওগগরা ভত্তা
 গাইক ঘিত্তা
 মোইলি মচ্ছা
 নালিত গচ্ছা 
দিজ্জই কান্তা 
খা(ই) পুনবন্তা।”

এমন খাবারের কথা পড়লেও জিভে জল আসে। গরম গরম ভাত, তাতে গাওয়া ঘি, মাছের ঝোল আর নলিতা শাক। ভাষাটা অবশ্য বাংলা নয়, প্রাকৃত। বঙ্গদেশে মাছ নিয়ে লেখা প্রথম পদ হয়তো এইটাই। এরপরে চর্যাপদেও মাছধরার ছবি মিলবে। মাছের কথা পাওয়া যাবে মধ্যযুগের নানা কাব্যেও। কত রকমের মাছের কথা সেখানে। আর, পরে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তো লিখেই গেছেন, “ভাত মাছ খেয়ে বাঁচে বাঙালি সকল, ধানে ভরা ভূমি তাই মাছ ভরা জল।” 

আজ একটা মাছের পদই হোক। বাংলার অনুষ্ঠানবাড়ির মাছ মানেই সবার আগে রুই অথবা কাতলা। বড়োসর কাতলা মাছ, পেটটি নাদুস-নুদুস। আহা, তার যা স্বাদ! কাতলা মাছ আমরা কতভাবেই না খাই রোজ। সেই চিরচেনা কাতলাকেই খানিক নতুনভাবে আবিষ্কার করা যাক আজ। এই পদের নাম কাতলা বাহার। খেলেই বুঝবেন, নামকরণ কতখানি সার্থক। 

উপকরণ:-
 
কাতলা মাছ- ৪ টুকরো
পোস্তবাটা- ১ চামচ
ধনেবাটা- ১ চামচ 
মৌরিবাটা- ১ চা-চামচ
পেঁয়াজ- ১টা মাঝারি আকারের 
শুকনোলঙ্কা- ২টো 
রসুন-  ২ কোয়া
আদা- সামান্য একসঙ্গে বাটা
হলুদগুঁড়ো- ১ চা-চামচ
জিরেগুঁড়ো- ১ চা-চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো – ১ চামচ
কাজুবাটা- দেড় চামচ
আলু- ১টা বড়ো লম্বা করে কাটা 
ঘি- সামান্য
পাঁচফোড়ন, গরম মশলাগুঁড়ো, নুন, চিনি, তেল প্রয়োজনমতো।
 

প্রণালি:-

মাছ ও আলু নুন-হলুদ দিয়ে মাখার পর ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখতে হবে। তারপর, কড়াইতে প্রয়োজনমতো তেলে পাঁচফোড়ন, শুকনোলঙ্কা দিয়ে তাতে পেঁয়াজ-আদা-রসুন-শুকনোলঙ্কার বাটা ঢেলে দিতে হবে। মিনিট চারেক নাড়িয়ে ওতে পোস্ত, মৌরিবাটা, গুঁড়ো মশলাগুলো ও মশলা ধোয়া জল দিয়ে ভালোভাবে কষাতে হবে তেল না ছাড়া পর্যন্ত। তেল ছাড়লে জল দিতে হবে প্রয়োজনমতো। বাদামবাটা যোগ করতে হবে ও ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে দিতে হবে। ঝোল ফুটে উঠলে আলু ও মাছগুলো দিয়ে দিতে হবে। আরো মিনিট পাঁচ সাত ফোটার পর ঝোল মাখা মাখা হয়ে এলে উপর থেকে সামান্য ঘি ও গরম মশলাগুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।

Developed by DXDasia