অভাবের সংসারে শিল্পচর্চা, বয়সের কাছে জিতে গেছে অদম্য জেদ

দীপকবাবুর কাজ ডুয়ার্স থেকে মুম্বাই, এমনকি জার্মানিতেও পাড়ি দিয়েছে

উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারে বাড়ি দীপকবাবুর। টানা পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে মালবাজার নর্থ কলোনির বাড়ি থেকে এই শিল্পী তাঁর সৃজনকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন প্রায় নিঃশব্দে। আমরা অনেকে তাঁর খবর না জানলেও দীপকবাবুর সৃষ্টি ডুয়ার্স থেকে মুম্বাই, এমনকি জার্মানিতেও পাড়ি দিচ্ছে।

দীপক বণিক। বয়স ৬৪। খবরের কাগজ বা নিউজপেপার কাটিং দিয়ে তিনি বিভিন্ন মডেল তৈরি করেন। বিভিন্ন বন্যপ্রাণী থেকে শুরু করে অন্য অনেক সামগ্রী তাঁর ঘরে শোভা পাচ্ছে। ডুয়ার্সের জঙ্গল দেখতে আসা বহু পর্যটক দীপকবাবুর খবর পেয়ে চলে যাচ্ছন তাঁর বাড়ি। তারপর সেসব কিনেও নিয়ে যাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকায়। আর এভাবেই বেঁচে আছে তাঁর শিল্প কর্ম। ছড়িয়ে পড়ছে দেশ-বিদেশ।

খবরের কাগজ বা নিউজপেপার কাটিং দিয়ে তিনি বিভিন্ন মডেল তৈরি করেন

যদিও নিউজপেপারের সঙ্গে নিজস্ব কিছু মুন্সিয়ানা কাজে লাগিয়ে এই সব মডেল তৈরি করা তাঁর পেশা নয়। এটা তাঁর নেশা। কিছু ছেলেমেয়েকে ছবি আঁকা শেখানো আর বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে সামান্য কিছু বেতনের বিনিময়ে সংসার চলে দীপক বণিকের। তবে রুটিরুজি সংগ্রহের কাজের ফাঁকেই চলে এই মডেল তৈরির নেশা। সকাল, রাত যখনই একটু সময় পান বসে পড়েন সৃষ্টির অনাবিল নেশায়। প্রতিদিন সংগ্রহ করেন পুরোনো, নতুন নানান সংবাদপত্র। তারপর মেতে ওঠেন কোন মডেল কীভাবে পেপার কেটে তৈরি করবেন। মডেল তৈরির সময় থাকে তুলি, জলরং। তাতে আরও সৃষ্টিকর্মগুলি প্রাণ পায়। দীপকবাবু বলেন, “পর্যটকরা অনেকেই আসছেন। এসব সংগ্রহ করে তাঁদের ঘর সাজিয়ে তুলছেন। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু নেই।”

ঘরের আলমারি বা শো-কেস সাজিয়ে তুলতে এই মডেলের জুড়ি নেই। এইসব শো পিস বা মডেল ভেঙে যাওয়ার কোনও ভয় নেই। কিন্তু কেন এই নেশা পাগল করল দীপকবাবুকে! প্রশ্ন করলে তিনি জানান, ছোটো থেকেই ছিল ছবি আঁকার নেশা। সেই নেশা থেকেই ধীরে ধীরে এই সৃজন কাজের দিকে ঝোঁক বাড়িয়ে দেয়। তাঁর বক্তব্য, “নতুন প্রজন্ম যত বেশি ছবি আঁকা বা সৃজন কাজে আসবে ততই সমাজের ভালো হবে।” তিনি তাই এলাকার নতুনদের মধ্যেও ছবি আঁকার নেশা ধরিয়ে দিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যতদিন বাঁচবেন এই সৃজনের নেশাতেই তিনি বাঁচবেন বলে উল্লেখ করেন।

অল্প বয়স থেকেই তাঁর ছবি আঁকার নেশা
 

Developed by DXDasia