
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলোয় পর্যটকদের উৎসাহ
সংখ্যা নাকি গল্প বলে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের থেকে পাওয়া কয়েকটি সংখ্যার মধ্যে ফুটে উঠেছে আশার গল্প। ইতিবাচকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। সারা বিশ্বে অতিমারি ছড়িয়ে পড়ায় আমাদের রাজ্যেও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই তার নেতিবাচক প্রভাব পর্যটন শিল্পের ওপর পড়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ডেস্টিনেশনে আবার পাড়ি দিচ্ছেন ভ্রমণার্থীরা।
চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ থেকে সারা দেশে লকডাউন শুরু হয়। বেশি দূরত্বে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায় নিজে থেকেই। ট্রেন এবং বিমান উড়ান স্থগিত রাখা হয়। লকডাউন আস্তে আস্তে শিথিল হতে থাকলে অল্প কিছু বিমানের উড়ান চালু হয়, যদিও রেল পরিষেবা বন্ধ থাকে। একই সঙ্গে ধীরে ধীরে হোটেল, রিসর্ট, গেস্ট হাউজ প্রভৃতি আবার খুলতে থাকে। যদিও সেগুলিতে কত মানুষ থাকবেন, তা নিয়ে রয়ে যায় চিন্তা। কারণ, একদিকে ভ্রমণে যেমন বিধিনিষেধ রয়েছে, তেমনি সেই প্রতিষ্ঠানগুলি স্বাস্থ্যবিধি কতটা মেনে চলছে, তা নিয়েও মানুষের মনে সংশয় উঁকি দিতে থাকে।
আরও পড়ুন: নস্টালজিয়া উস্কে আজ কলকাতায় ফিরল দোতলা বাস
এরই মধ্যে আশার আলো দেখাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলি। অকুপেন্সির হার সেগুলিতে লকডাউনের আগের মতোই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের থেকে যথেষ্ট বেশি। এবার পশ্চিমবঙ্গের বহু পর্যটক রাজ্যের মধ্যেই বেড়াতে পছন্দ করছেন। বিশেষ করে দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এতগুলি ট্যুরিজম প্রপার্টির কোনো একটিকে বেছে নিচ্ছেন ছুটি কাটানোর জন্য। তাঁরা চাইছেন, যেখানেই যান, কাছে যেন দুর্গাপুজোর মণ্ডপ থাকে।
প্রকৃতির কোলে বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টি, বকখালি
এই তালিকার শুরুতেই আছে বকখালির বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানে অকুপেন্সির হার আশ্চর্যভাবে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৬ শতাংশ। গোটা প্রপার্টিই স্যানিটাইজ করা। অতিথিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সব রকম বন্দোবস্ত রয়েছে। আপনি নিশ্চিন্তে বাঁকা চাঁদের আকৃতির দক্ষিণমুখী বেলাভূমিতে অবসর কাটাতে পারেন। কাছেই ফ্রেজারগঞ্জ, হেনরি আইল্যান্ড, ম্যানগ্রোভের জঙ্গল এবং আরো বেশ কিছু দেখার জায়গা।
অরণ্য ট্যুরিজম প্রপার্টির নিরিবিলি কটেজ, জলদাপাড়া
একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছে আলিপুরদুয়ার জেলার জলদাপাড়ায়, অরণ্য ট্যুরিজম প্রপার্টিতে। লকডাউনের আগে সেখানে অকুপেন্সির হার ছিল গড়ে ৩০ শতাংশ। যা লকডাউনের পর ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। ডুয়ার্সের আদিম জঙ্গল চিরকালই পর্যটকদের খুব প্রিয়। একশৃঙ্গ গঙ্গারের জন্য জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান বিখ্যাত। ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফির স্বর্গরাজ্য এই জায়গা।
পাহাড়ের কোলে কালিম্পংয়ের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান হাউজ ট্যুরিজম প্রপার্টিতে অকুপেন্সি ২১ শতাংশ থেকে হয়েছে ৩৫ শতাংশ। মাইথনের মুক্তধারা ট্যুরিজম প্রপার্টিতে অকুপেন্সি ৪১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাগরিকা ট্যুরিজম প্রপার্টিতে অকুপেন্সির শতাংশ ৩৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে হয়েছে ৪৮। লকডাউনের আগে ব্যারাকপুরের মঙ্গলধারা ট্যুরিজম প্রপার্টিতে অকুপেন্সির হার ছিল ৫৮ শতাংশ। লকডাউনের পর বেড়ে হয় ৬০ শতাংশ।
দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টি, দিঘা
কোনো কোনো প্রপার্টিতে অকুপেন্সি এখনও লকডাউনের আগের হারকে অতিক্রম করতে পারেনি। তবে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের আধিকারিকরা। যেমন দিঘায় অবস্থিত দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টিতে এখন অকুপেন্সি ৩৬ শতাংশ। ৫৬ শতাংশ ছিল লক ডাউনের আগে। ভ্রমণার্থীদের আনাগোনা যদিও ক্রমেই বাড়ছে। শান্তিনিকেতনের শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টিতে লকডাউনের আগে অকুপেন্সির হার ছিল ৪৭ শতাংশ। এখন ৩৫ শতাংশ। আবার শান্তিনিকেতনেরই রঙ্গবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টিতে লকডাউনের আগে অকুপেন্সি ছিল ৩৩ শতাংশ, যা এখন প্রায় ছুঁয়ে ফেলা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম আশাবাদী যে এখানে অকুপেন্সি শিগগিরই লকডাউনের আগের হারকে ছাড়িয়ে যাবে।
শান্তবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি, শান্তিনিকেতন
পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ট্যুরিজম প্রপার্টিগুলির সবথেকে বড়ো সুবিধা হল, আপনি কলকাতা থেকে সড়কপথে খুব সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন। নিজের যদি গাড়ি না থাকে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাস ধরতে পারেন। প্রায় সব গন্তব্যেই সেগুলি যায়।
যে কোনো ট্যুরিজম প্রপার্টির বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in,
mdwbtdc@gmail.com,
dgmrwbtdc@gmail.com
