নস্টালজিয়া উস্কে আজ কলকাতায় ফিরল দোতলা বাস

উদ্বোধন করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দেড় দশক পেরিয়ে মহানগরের বুকে আবার চালু হল ডবল ডেকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগের উদ্যোগে নস্টালজিয়া ফিরে এল পুজোর আগেই। জনপরিবহন নয়, অজানা তিলোত্তমাকে নতুন করে চেনাতে দু’টি ঝাঁ-চকচকে দোতলা বাস ছুটবে কলকাতার রাজপথে। 

প্রায় শতবর্ষ আগে, কলকাতার রাস্তায় প্রথম দোতলা বাস চালু হয়েছিল ১৯২৬ সালে। লন্ডনের আদলে শ্যামবাজার থেকে কালীঘাট রুটে এই পরিষেবা শুরু করেছিলেন ব্রিটিশরা। দ্রুতই কলকাতাবাসীর মন জয় করে নেয় ডবল ডেকার। দেশ স্বাধীন হলে ক্যালকাটা স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএসটিসি) দোতলা বাস চালানোর দায়িত্ব পায়। মহানগরের পরিচয়ের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গিয়েছিল দোতলা বাসগুলি। ১৯৮৫ সালের পর আর দোতলা বাস কেনেনি সিএসটিসি। তেলের বিপুল খরচের কথা জানিয়ে ৯০-এর দশকে বিভিন্ন রুটে ডবল ডেকার বাস কমাতে থাকে তখনকার বামফ্রন্ট সরকার। তারপর ২০০৫ সালে মহানগরের রাস্তায় দোতলা বাস চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। সেইসব বাসে চড়ার স্মৃতি এখনও রোমন্থন করেন বহু মানুষ।

নতুন ডবল ডেকার বাস 

কেরল এবং কাশ্মীরের আদলে কলকাতার গঙ্গাবক্ষে হাউজবোট চালু করে ভ্রমণার্থীদের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। এবার পুজোর আগেই কলকাতার পর্যটনে প্রসার ঘটাতে তাঁরা ডবল ডেকার বাসে করে প্রমোদভ্রমণের আয়োজন করছেন। সফরের নাম ‘অজানা কলকাতা’। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ এই পরিষেবার শুভ উদ্বোধন করলেন। 

কলকাতার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে এই বাস চলাচলের ব্যবস্থা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগ। রাজ্য পরিবহন দপ্তর বাসগুলির নকশা করেছে। তৈরি করেছে জামসেদপুরের সংস্থা ‘বেবকো’। বাসগুলি পরিবেশ-বান্ধব, ডিজেল চালিত, বিএস-ফোর অনুসারে নির্মিত এবং জ্বালানি সংরক্ষণের উপযোগী। সিসিটিভি, প্যানিক বাটন, স্বয়ংক্রিয় দরজা, ডেস্টিনেশন বোর্ডের মতো নানা অত্যাধুনিক বন্দোবস্ত থাকছে। রয়েছে একটাই দরজা এবং ছাদে ওঠার সিঁড়ি। মোট আসন সংখ্যা ৫১। বাস দু’টি যাতে রাস্তায় নামতে পারে, তার জন্য সেন্ট্রাল ইন্সটিটিউট অফ রোড ট্রান্সপোর্টের অনুমতি নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দোতলা বাসগুলির রং নীল-সাদা। 

সফরের নাম ‘অজানা কলকাতা’ 

পর্যটকদের নানা দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখাবে বাসগুলি। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ফোর্ট উইলিয়াম, সেন্ট জনস চার্চ, জিপিও, পুরোনো মুদ্রাভবন, ডালহৌসি স্কোয়ার (বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ), গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল, কার্জন পার্ক, টাউন হল, ট্রেজারি বিল্ডিং, প্রিন্সেপ ঘাট, লাল দিঘি প্রভৃতি দেখার সুযোগ পাবেন ভ্রমণার্থীরা। 

বাসের অত্যাধুনিক বন্দোবস্ত 

১৩ থে ২২ অক্টোবর ভ্রমণার্থীদের সামনে পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরের লোক প্রসার শিল্পীরা বাউল, ঝুমুর, কবিগান, ভাটিয়ালি, তরজা লোকগান পরিবেশন করবেন বাসের মধ্যে। 

কোভিড সংক্রান্ত স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মেনে এবছরের ২৩ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করবে বাসগুলি। ২৩ অক্টোবর থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইটে গিয়ে ভ্রমণার্থীরা বুকিং করতে পারবেন। 
 

Developed by DXDasia