শালপাতা আর দশরকমের মাছ, ৯০ বছর ধরে বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করছে পার্বতী হোটেল

জগুবাবুর বাজারের ঠিক বিপরীতে রয়েছে এই হোটেল

ভবানীপুরের বিখ্যাত জগুবাবুর বাজার। তার ঠিক বিপরীতেই দুর্দান্ত সব গন্ধে ম-ম করছে পার্বতী আশ্রম হোটেলের রান্না। একেবারে বাঙালিয়ানা বলতে আমরা যা বুঝি, ঠিক তাই। এই রেস্তোরাঁর পরিবেশন দেখলে আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। আপনার সামনে চলে আসবে শালপাতায় ভাত, যত্ন করে সাজানো রকমারি ডাল, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ-মাংস-ডিমসহ আরও কত কী! আসলে পার্বতী হোটেলের বৈশিষ্ট্যই হল আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করে কম টাকায় ভোজনপ্রিয়দের রসনাতৃপ্ত করা। এই ব্রতই তাঁরা পালন করে আসছেন দীর্ঘ ৯০ বছর ধরে।

পার্বতীতে এলে মনে পড়ে যাবে সেইসব যৌথ পরিবারের কথা। একটা লম্বা বারান্দায় দুপুরে সবাই মিলে বসে শালপাতায় ভাত খাওয়া। যেন এক্কেবারে বাড়ির সাবেকি রান্না। কলকাতার বড়ো বড়ো হোটেলে আজকাল শালপাতায় খাওয়ার চল প্রায় উঠে গেছে। কিন্তু এখনও এই পুরোনো চল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গর্বের সঙ্গে বয়ে নিয়ে গেছেন পার্বতী হোটেলের কর্মীরা।

রেস্তোরাঁর বর্তমান ম্যানেজার অজয় কুণ্ডু। আজ থেকে প্রায় ৯০ বছর আগে ১৯৩১ সাল নাগাদ প্রতিষ্ঠিত হয় পার্বতী হোটেল। প্রতিষ্ঠা করেন স্বর্গীয় জয়দেব কুণ্ডু। বিগত ১৫ বছর ধরে দোকান চালাচ্ছেন তাঁর ছেলে সম্রাট কুণ্ডু। শুধুমাত্র শালপাতা নয়, কলাপাতাতেও খাবার ব্যবস্থা রয়েছে। মাছের মধ্যে পাওয়া যাবে ভোলা, চারাপোনা, রুই কালিয়া, পার্সে, পমফ্রেট, ট্যাংরা, ভেটকি দই ভাপা, তেলাপিয়া, পাবদা, কাতলা কালিয়া, চিংড়ি এই এত ধরনের আইটেম। সঙ্গে পাওয়া যেতে পারে চিকেন এবং ডিম।

সাধারণ নিরামিষ খাবার পাওয়া যাবে মাত্র ৩০ টাকায়। এছাড়াও রুই কালিয়া থালি ৬০ টাকা, কাতলা কালিয়া থালি ৭০ টাকা, তেলাপিয়া কালিয়া থালি ৬০ টাকা, চারাপোনা কালিয়া থালি ৬০ টাকা, পার্সে কালিয়া থালি ৯০ টাকা, পাবদা সর্ষে থালি ১৩০ টাকা, ট্যাংরা ঝাল থালি ১০০ টাকা, ইলিশ ভাপা ১৩০ টাকা, চিংড়ি থালি ১১০ টাকা, চিকেন কারি ৮০ টাকা। অর্থাৎ প্রত্যেকটি আইটেমই ভীষণভাবে পকেট ফ্রেন্ডলি। দোকান খোলা থাকে সকাল ১০-৩০টা থেকে রাত ১১-৩০টা পর্যন্ত।

পার্বতী আশ্রম হোটেলের রান্নাকে ভালোবেসে প্রচুর খাদ্যপ্রিয় মানুষজন এখানে আসেন প্রায় প্রত্যেকদিন। কেউ আসছেন ১৫ বছর ধরে, কেউ আবার ১০ বছর। হাজরা ও ভবানীপুরের বহু অফিসের লোকজন এখানে দুপুরে এসে খেয়ে যান। কলকাতা এখনও কলকাতাতেই রয়েছে। শহরের ইট, কাঠ, বালি, রডের মধ্যেও আসলে হারিয়ে যায়নি মূল প্রাণ। সবাই দৌড়াচ্ছেন, সবাই ব্যস্ত। তার মধ্যেই এই শহর এখনও তিলোত্তমা। এটা আনন্দের শহর, ভালোবাসারও। দোকানের ঠিকানা- ৬৬, আশুতোষ মুখার্জী রোড, ভবানীপুর, কলকাতা- ৭০০ ০২৫।


 

Developed by DXDasia