
গড়িয়াহাটের বিখ্যাত মাইতি ওরফে নিউ মা তারা হিন্দু হোটেল
গড়িয়াহাট চত্বর জমজমাট থাকে বছরের প্রায় প্রত্যেকটা দিনই। সে দুর্গাপুজো হোক বা কালীপুজো, ভাইফোঁটা হোক বা রাখি বন্ধন। গড়িয়াহাটের মতো ভিড় সারা কলকাতা শহরে জুড়ি মেলা ভার। ঘর সাজাবার সামগ্রী থেকে শাড়ি-পাঞ্জাবি-ব্যাগ কী না নেই এখানে! বহু পুরোনো এই মার্কেটের ধার ঘেঁষে যদি হাঁটা শুরু করা যায়, তাহলে নিজের চোখেই আবিষ্কার করে নেওয়া যাবে অনেক রং, অনেক বৈচিত্র্যকে। এমন বর্ণময় জীবন সারা কলকাতায় পাওয়া যাবে না। কিন্তু কেনাকাটার পর খিদে পেলে কী করবেন! গড়িয়াহাট আপনার জন্য সেই ব্যবস্থাও রেখেছে। কম টাকায় বাড়ির খাবার খাওয়ার জন্য তেমনই একটি পাইস হোটেলের খোঁজ দেওয়া যাক।
আরও পড়ুন
উত্তমকুমার, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, মান্না দে – সেসময় প্রত্যেকের পছন্দ ছিল ধীরেনের ফিশ কবিরাজি
গড়িয়াহাট মার্কেটের ভিতর নিউ মা তারা হিন্দু হোটেল। ১৯৮৪ সালে এই হোটেলটি প্রতিষ্ঠা করেন কালী মাইতি। সেই সময় এই হোটেলের নাম ছিল বীণাপাণি ভোজনালয়। তখন গড়িয়াহাটেই রমরমিয়ে চলছে প্রাচীন আদর্শ হিন্দু হোটেল। আদর্শ হিন্দু হোটেলের ভিড়ে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল বীণাপাণির নাম। ব্যবসায় এসেছিল মন্দা। কালী মাইতিরা ছিলেন চার ভাই – লক্ষ্মী মাইতি, বিশ্বনাথ মাইতি, শ্রীকান্ত মাইতি এবং কালী মাইতি। সেই চার ভাই মিলে নতুন করে সাজিয়ে তুললেন এই হোটেলকে। পাতে এল নতুন নতুন মেনু। বীণাপাণির জায়গায় পড়ল নতুন হোর্ডিং মা তারা হিন্দু হোটেল।

ভাত না পছন্দ করলে পাওয়া যেতে পারে রুটিও। বিকেল ৪টের মধ্যে দোকান বন্ধ হয়ে যায় কিছুক্ষণের জন্য। আবার খোলা হয় সন্ধে ৬-৩০টায়। ভাতের পাশাপাশি গরম গরম রুটি তৈরি করা হয় রাত ১১টা অবধি। ২১২, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ, গড়িয়াহাট মার্কেট এখানকার ঠিকানা। দোকান খুঁজতে সমস্যা হলে যে কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মাইতির হোটেল’-এ যাবেন, সে-ই দেখিয়ে দেবে।

গড়িয়াহাট চত্বর যেমন শপিংয়ের জন্য বিখ্যাত, ঠিক তেমনি এই চত্বরের আনাচে কানাচে রয়েছে খাবারের দোকান। বিশেষ করে ভাতের দোকান। কারণ ভাত ছাড়া বাঙালির হয়তো একদিনও সঠিক চলতে পারে না। মূলত মাছের জন্যই বিখ্যাত এই নিউ মা তারা হিন্দু হোটেল। প্রতিদিন প্রায় ১৭-১৮ রকমের মাছের পদ রান্না হয় এখানে। সেই তালিকায় রয়েছে- ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, কাতলা, রুই, পাবদা, তেলাপিয়া, পমফ্রেট-সহ আরও বাহারি মাছ। দাম নিতান্তই কম। তবে তা বাজারের মাছের দামের উপর নির্ভর করে। ডাল পাওয়া যাবে একরকমের। সোনা মুগের ডাল। আর পাত পেড়ে না খেলে কি হয়! গরম ভাত, মাছ, সবজি, আলু ভাজা, লঙ্কা, লেবু, মাটির ভাঁড়ে জল-সহ সুন্দর পরিবেশনে আপনি তৃপ্ত হবেন।

কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন, এ কলকাতার মধ্যে আছে আরেকটি কলকাতা। তাকে দেখতে হবে, জানতে হবে, বুঝতে হবে। এই দ্রত ব্যস্ততার মধ্যেও যারা আপনার জন্য পাত পেড়ে অপেক্ষা করছে ভালো খাবার নিয়ে, তাঁদের বাড়ির লোক ভাবতে সমস্যা কোথায়! সামান্য কিছু টাকায় এত ভালো ভালো সুস্বাদু খাবার খেতে চাইবেন যে কোনও খাদ্যপ্রিয় বাঙালি।
