পলাশি – যে গ্রাম বদলে দিয়েছিল ভারতবর্ষের ইতিহাস

ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে পরাজিত হন বাংলার নবাব

চারদিকে আম বাগান আর মাঠ। মাঝখানে একটু ফাঁকা জায়গা। সোনালি রঙের একটি মূর্তি রয়েছে সেখানে। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার মূর্তি। ১৭৫৭ সালে তিনি ব্রিটিশদের হাতে পরাজিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে গোটা ভারতে শুরু হয় ঔপনিবেশিক আধিপত্য। সেই যুদ্ধ আজ ‘পলাশির যুদ্ধ’ নামে বিখ্যাত। নদিয়া জেলায় ভাগীরথী নদীর পূর্ব তীরে ছোটো গ্রাম এই পলাশি। কৃষ্ণনগর থেকে মোটামুটি ৫০ কিলোমিটার দূরে।

ঐতিহাসিক রণাঙ্গনটি প্রথমবার দেখলে অবশ্য খুব একটা আকর্ষণীয় মনে হবে না। যুদ্ধের উপযোগী কোনও পরিবেশ নেই। বরং চোখে পড়বে মাঝারি আকারের এক আমবাগান এবং মাঠ। অথচ ভারতীয় উপমহাদেশের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছিল এখানেই। আপনি যদি হাঁটতে থাকেন, কল্পনায় ভেসে উঠবে কামানের গর্জন, আহত এবং মরণাপন্নদের আর্তনাদ, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেসরকারি সৈন্য বনাম নবাবি বাহিনীর উথালপাথাল সংঘর্ষ। 

অনেকেই জেনে অবাক হন, পলাশি কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলায় অবস্থিত নয়। কলকাতার আগে মুর্শিদাবাদ ছিল বাংলার রাজধানী। পলাশি থেকে কলকাতার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার। আর মুর্শিদাবাদ প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে। বাংলার পুরোনো রাজধানীতে বড়ো মাপের সফর আরম্ভ করার আদর্শ জায়গা পলাশি।

‘পলাশি’ নামটি এসেছে পলাশ ফুল থেকে। এই গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। বাস এবং ট্রেনের মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে যুক্ত। সহজেই যেতে পারবেন। ভাগীরথীর গতিপথ পালটে যাওয়ায় মূল যুদ্ধক্ষেত্রের কিছু অংশ এখন নদীগর্ভে। তবে পলাশি স্মারক অবশ্যই দেখবেন। নবাবের যে সেনাপতিরা যুদ্ধে শহিদ হন, তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত হয়েছে স্মারকস্তম্ভ। আর সিরাজ-উদ-দৌলার মূর্তির কথা আগেই বলেছি। 

পাশাপাশি তিনটে স্মারকস্তম্ভ রয়েছে পলাশি প্রান্তরে। গোলন্দাজ বাহিনীর প্রধান মির মদন, বন্ধুকধারী বাহিনীর সেনাপতি বাহাদুর আলি খান এবং গোলন্দাজ বাহিনীর দলপতি নৌবে সিং হাজারিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মিত। তলায় একটি ফলকে লেখা রয়েছে, ২৩ জুন দুপুর দুটো নাগাদ মির মদনের নেতৃত্বে তোপ দাগার সময় তাঁরা শহিদ হন। মির মদনকে গোর দেওয়া হয় পলাশি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ফরিদ শাহের সমাধিতে।

ভারতীয় এবং ব্রিটিশদের মনে পলাশি যুদ্ধের প্রভাব ছিল ব্যাপক। যুদ্ধের বিজেতা ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ক্লেয়ারে নিজের জমিদারির নাম পালটে রাখেন ‘Plassey’। পাশেই ইউনিভার্সিটি অফ লিমেরিকে সভাপতির পুরোনো অফিসের নাম বদলে ১৮ শতকের শেষে রাখা হয় Plassey House। আজও বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই বাড়িতে কাজকর্ম চলে।

পলাশি গিয়ে নিজের চোখে দেখে আসুন ঐতিহাসিক রণাঙ্গন। সঙ্গে মুর্শিদাবাদ ঘুরে দেখতে ভুলবেন না। বহরমপুরে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি (পূর্বতন বহরমপুর ট্যুরিস্ট লজ)। থাকা এবং খাওয়ার দারুণ বন্দোবস্ত। সেখানে কয়েকদিন থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার নানা ডেস্টিনেশনে যেতে পারেন। তার গল্প হবে আরেকদিন।

_______

বুকিং এবং অন্যান্য তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন – 
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
Udayachal Tourist Lodge
DG Block (1st floor), Sec II, Salt Lake, Kolkata – 700091
Phone: 033 2358 5189
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com

Website: https://www.wbtdcl.com/
 

Developed by DXDasia