
বিদেশি অতিথিকে ঘিরে জমে উঠেছে বাজার
করোনাকালে ঘরের বাইরে মানুষের আনাগোনা কমেছে। নানা জায়গায় বিভিন্ন ধরনের জীবজন্তুকে দেখা যাচ্ছে প্রকাশ্যে। এবার হাওড়া জেলার বালিতে এক বিরল হাঁসের খোঁজ মিলল।

দিন দশেক আগে হাওড়ার ঘোষপাড়ায় এক স্থানীয় বাসিন্দার চোখে পড়ে রংচঙে এই হাঁস। জলাশয়ের অন্য হাঁসগুলির থেকে তাকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল সহজেই। তার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সেই ব্যক্তি। তারপর থেকে পক্ষীপ্রেমী, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার, পর্যটকের ভিড় হতে শুরু করে বাগপুকুর জলাশয়ের আশেপাশে। পাখি বিশেষজ্ঞরাও হাজির হন। কলকাতা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটারের মতো দূরে, তাই পৌঁছনো যায় সহজেই।

সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এই ‘অতিথি’ আসলে ‘ক্যারোলিনা ডাক’ বা ‘উড ডাক’। সে উত্তর আমেরিকার বাসিন্দা। এমন পাখির ভারতে পরিযানের কোনো নজির এতদিন পক্ষীবিদদের কাছে না। তাছাড়া এখন পরিযায়ী পাখিরা সাধারণত এদিকে আসে না। হাঁসটি কীভাবে এল, কেনই বা বাংলার এক ছায়াশীতল গ্রামের জলাশয়কে পছন্দ করল, তা পাখি বিশেষজ্ঞদের কাছে এখনও অজানা। বন বিভাগ একে খাঁচাবন্দি না করে প্রাকৃতিক পরিবেশেই রেখে দিতে চাইছে। জলাশয়ে বেশ ফূর্তিতেই আছে হাঁসটি।
হাঁসটিকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে, সেই ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের। বনকর্মীদের একটি দল তাকে নজরে রাখছে প্রতিনিয়ত। তবে হাঁসটিকে দেখতে মানুষের ভিড় কমছে না। কেউ ডিএসএলআর, কেউ বা অ্যান্ড্রয়েড ফোনেই তার ছবি তুলে নিচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব সঠিকভাবে মোতায়েন করতে স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ পোস্টিং হয়েছে। এত লোকের আনাগোনায় বাজার জমে উঠেছে বাগপুকুর এলাকায়। নৌকোভ্রমণের ব্যবস্থা হয়েছে। চা এবং অন্যান্য খাবারের দোকান সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। ঝালমুড়িওয়ালাদেরও পোয়া বারো। জানা গিয়েছে, এক বিক্রেতার থেকে দিনে প্রায় ২০০-৩০০ কাপ চা বিক্রি হচ্ছে। এক মিষ্টিওয়ালা দিনে ৫০০০ টাকার কাছাকাছি বিক্রি করতে পারছেন। টোটোচালক এবং রিক্সাচালকদেরও যথেষ্ট রোজগার হচ্ছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় অর্থনীতি বেশ চনমনে।

ছোট্ট এই পাখিকে ঘিরে পর্যটন শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর। পূর্বস্থলীতে এভাবেই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। ঘোষপাড়ায় পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা বাড়লে তা পর্যটকদেরও আকর্ষণ করবে। স্থানীয় অর্থনীতিরও উন্নতি হবে। পশ্চিমবঙ্গের নানা ট্যুরিস্ট স্পট এমনিতেই ভ্রমণার্থীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। এখন নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ঘোষপাড়ার এই জলাশয়।

ছবি সৌজন্যে – প্রদ্যুৎ চৌধুরী
