কলকাতার কাছেই এই জায়গাগুলিতে ঘুরে আসুন বর্ষায়

উপভোগ করুন বর্ষার সৌন্দর্য

কংসাবতীর তীরে বর্ষার জলধারায় নিজেকে ভিজিয়ে নিন

পাহাড়ে ঘেরা বিশাল জলাধার। চারদিকে সবুজ অরণ্য বর্ষায় আরও মায়াবী হয়ে ওঠে। জুড়িয়ে দেয় চোখ এবং মন। বৃষ্টির মরসুমে ঘুরে আসুন কুমারী এবং কংসাবতী নদীর সংযোগস্থলে। বাঁকুড়া জেলার এই জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরূপ। নানা রকমের পাখি দেখারও সুযোগ রয়েছে এখানে। সময় করে পরেশনাথ পাহাড়েও চলে যেতে পারেন। 

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে গাড়ি চালিয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে দুর্গাপুর, বাঁকুড়া, খাতড়া হয়ে মুকুটমণিপুর যেতে  সময় লাগবে ৫ ঘণ্টার কাছাকাছি।
কোথায় থাকবেন
সারাদিন ঘোরাঘুরির পর বিষ্ণুপুর ট্যুরিজম প্রপার্টতেই থাকতে পারেন। যোগাযোগ ৯৭৩২১০০৯৫০।

 

ছুটি কাটান সমুদ্র সৈকতে

তাজপুর সমুদ্র সৈকতে আপনি পাবেন বর্ষায় ছুটি কাটানোর আদর্শ পরিবেশ। কলকাতা থেকে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরে এই জায়গা। তাজপুর ভারতের দীর্ঘতম সৈকতগুলির একটি। বৃষ্টির মধ্যে এখানে সমুদ্রস্নানের মজাই আলাদা। এমন আনন্দের স্বাদ আপনি আর কোথাও পাবেন না। যখন বড়ো বড়ো ঢেউ উঠবে, বেলাভূমির লাগোয়া রিসর্টগুলি থেকে আপনি দেখতে পাবেন, কীভাবে সমুদ্র তার রং পাল্টাচ্ছে। সে এক অসাধারণ দৃশ্য। খুশি মতো উপভোগ করুন প্রকৃতির সৌন্দর্য।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে সড়কপথে গাড়ি করে গিয়ে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরুন। তারপর ১১৬বি নম্বর জাতীয় সড়কে উঠে চলে যান তাজপুর। সব মিলিয়ে ৪-৫ ঘণ্টার যাত্রা।
কোথায় থাকবেন
তাজপুরে সারাদিন কাটিয়ে রাতে দিঘায় গিয়ে থাকতে পারেন দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টিতে। যোগাযোগ – ৯৭৩২৫১০১৩৪।

 

ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে

পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জেলা ঝাড়গ্রাম বর্ষায় যেন স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠে। শালগাছগুলি ভরে ওঠে নতুন পাতায়। চারদিকে ফুটে ওঠে রংবেরং-এর ফুল। সব মিলিয়ে যেন রূপকথার পরিবেশ। বেলপাহাড়ির জঙ্গলে আপনি দেখতে পাবেন মহুয়া, পিয়াল, ইউক্যালিপটাসের সমাহার। আর রয়েছে ছবির মতো সুন্দর গ্রাম কাঁকড়াঝোড়। কেটকি ঝরনার অপরূপ মায়ায় আপনি পড়বেন মোহিত হয়ে। 

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে প্রথমে জাতীয় সড়ক ১৬, তারপর জাতীয় সড়ক ৪৯ ধরে খড়গপুর-লোধাশুলি হয়ে চলে যান ঝাড়গ্রাম। গাড়িতে যেতে মোটামুটি ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে।
কোথায় থাকবেন
জঙ্গল ঘুরে দেখার পর ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ট্যুরিজম প্রোজেক্টে থাকতে পারেন। যোগাযোগ – ৭৪৭৭৪২৪৮৫৪। এছাড়া ঝাড়গ্রাম প্রাসাদেও থাকার বন্দোবস্ত আছে। যোগাযোগ -৬২৯৪০২৪৩১৯।

 

কাঁকড়ায় পরিপূর্ণ বকখালি সৈকত

কলকাতার খুব কাছেই সৈকত শহর বকখালি। এখানকার প্রধান আকর্ষণ ছোটো ছোটো লাল কাঁকড়া। বালির ওপর তারা ঝাঁকেঝাঁকে হেঁটে বেড়ায়। যেন বেলাভূমি জুড়ে কেউ বিছিয়ে দিয়েছে বিশাল লাল গালিচা। বর্ষায় কাঁকড়ার সংখ্যা আরও অনেক বেড়ে যায়। পাখিরা মনের আনন্দে তাদের শিকার করে খায়। 

কীভাবে যাবেন 
কলকাতা থেকে জাতীয় সড়ক ১২ ধরে চলে যান বকখালি। সময় লাগবে ৪ ঘণ্টার মতো।
কোথায় থাকবেন
পরিবার-পরিজন নিয়ে আপনি থাকতে পারেন বালুতট ট্যুরিজম প্রপার্টিতে (আগে যার নাম ছিল বকখালি ট্যুরিস্ট লজ)। যোগাযোগ ৯৭৩২৫১০১৫০।

 

বর্ষায় অপরূপ শান্তিনিকেতন

বৃষ্টির সময়ে যদি কখনও শান্তিনিকেতন গিয়ে থাকেন, তাহলে উপলব্ধি করবেন, কেন রবীন্দ্রনাথ বর্ষা নিয়ে এখানে বসে কয়েকশো কবিতা রচনা করেছেন। বর্ষাকালে এই জায়গা নানা রং-এ রঙিন হয়ে ওঠে। কোপাই নদী তখন জলে ভরপুর। সাঁওতাল গ্রামগুলিরও ঘুরে দেখতে পারেন। আর অবশ্যই দেখবেন বিশ্বভারতী। 

কীভাবে যাবেন
জাতীয় সড়ক ১৯ ধরে গাড়িতে শান্তিনিকেতন পৌঁছতে ৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।
কোথায় থাকবেন
শান্তিনিকেতনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব দুটি ট্যুরিজম প্রপার্টি রয়েছে। তার মধ্যে রঙ্গবিতান ট্যুরিজম প্রপার্টি এই মুহূর্তে খোলা। যোগাযোগ – ৮৬৯৭৯৮৪৯৬০। আশা করা যাচ্ছে, শান্তবিতান ট্যুরিস্ট প্রপার্টি খুলে যাবে খুব শিগগিরই।

 

বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ

বর্ষায় ঘুরে আসতে পারেন বক্রেশ্বরেও। এখানকারের প্রস্রবণের উচ্চ তাপমাত্রা স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। এছাড়া শিবমন্দির এবং তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রেও পর্যটকরা গিয়ে থাকেন। শুধু আগে থেকে খোঁজ নিয়ে নেবেন, করোনার কারণে কোন কোন ভ্রমণস্থলে এখন পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ আছে। জায়গাটি শান্তিনিকেতনের খুব কাছে। তাই একই সঙ্গে বক্রেশ্বর এবং শান্তিনিকেতন ঘুরে আসার পরিকল্পনা করতেই পারেন। 

ডায়মন্ড হারবারের ইলিশ-ঘাঁটি

বর্ষায় গঙ্গার তীরে ডায়মন্ড হারবারেও যেতে পারেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই শহরে গিয়ে গঙ্গার রূপ দেখলে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। এবছর ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা ভালোই। ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে টাটকা ইলিশের স্বাদ উপভোগ করতে ভুলবেন না। তাজা ইলিশ কিনে নিয়েও আসতে পারেন বাড়ির জন্য। পাশাপাশি থাকছে গঙ্গাবিহারের মজা। কালো মেঘের আড়ালে সূর্যাস্তের দৃশ্য আপনার চিরকাল মনে থাকবে। 

কীভাবে যাবেন
ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার পৌঁছতে ঘণ্টা তিনেক সময় লাগে।
কোথায় থাকবেন
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সাগরিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি(আগে যার নাম ছিল ডায়মন্ড হারবার ট্যুরিস্ট সেন্টার সাগরিকা)তে করোনা প্রতিরোধের সবরকম বন্দোবস্ত রয়েছে। আত্মীয়-স্বজন-বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে সেখানেই থাকতে পারেন। যোগাযোগ – ৯৭৩২৫১০০৩৫।

 

Developed by DXDasia