মার্বেল লেক – পুরুলিয়ার ‘গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন’

চোখ জুড়িয়ে দেয় ঘন নীল জল

প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে জঙ্গল-পাহাড়-ঝর্নায় মায়াবী করে সাজিয়ে তুলেছে পুরুলিয়াকে। শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে কয়েক দিনের জন্য হারিয়ে যেতে চাইলে শিমুল-পলাশে ভরা এই জেলার কোনো বিকল্প নেই। পুরুলিয়ার এক প্রধান আকর্ষণ অযোধ্যা পাহাড়। দলমা পাহাড়ের একটি অংশ এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার একটি সম্প্রসারিত অংশ এটি। বেশ কয়েকটি চূড়া রয়েছে এই পাহাড়ে। তার মধ্যে সবচেয়ে উঁচু হল গোরগাবুরু।  চারদিকে শুধু জঙ্গল আর জঙ্গল – মাঝে মাঝে আদিবাসীদের গ্রাম, চাষের জমি। ছৌ মুখোশের জন্য বিখ্যাত চড়িদা গ্রামের অবস্থান এই পাহাড়ের কোলেই। এছাড়াও ময়ূর পাহাড়, টুর্গা এবং বামনি ঝর্নার মতো বেশ কিছু দেখার জায়গা অযোধ্যা পাহাড়ে আছে।

আমেরিকার গ্রান্ড ক্যানিয়নের যেন ছোটো সংস্করণ এই লেক

প্রকৃতি সঙ্গে নির্জন সময় কাটানো হোক বা পিকনিক – অযোধ্যা পাহাড় সবেতেই আদর্শ। কলকাতা থেকে সহজেই পৌঁছনো যায়। তাই পর্যটকদের খুব প্রিয় ডেস্টিনেশন।  অযোধ্যা হিলটপ থেকে বামনি ঝর্নার দিকে গেলে ডান দিকে এক মনোরম জলাশয়ের দেখা মিলবে। পৃথিবীর চতুর্থ সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প পুরুলিয়া পাম্প স্টোরেজ প্রোজেক্টের জন্য বিস্ফোরণ করে পাথর ভাঙতে গিয়ে সেই পাথরের খাঁজে তৈরি হয় এটি৷ অচিরেই ভ্রমণার্থীদের মন জয় করে নেয়। লোকে সাধারণত মার্বেল লেক বলে ডাকলেও এটির অনেক নাম আছে। কেউ বলেন পাতাল ড্যাম। ঘন নীল জল থাকার কারণে নীল ড্যাম নামেও পরিচিত।

চোখ জুড়িয়ে দেয় ঘন নীল জল 

আমেরিকার গ্রান্ড ক্যানিয়নের যেন ছোটো সংস্করণ এই লেক। দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রশান্তিতে ভরে ওঠে মন। আরও বেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন জলাশয়টিকে সাজানো-গোছানোর উদ্যোগ নিয়েছে।  এখানকার জল পরিশ্রুত করে পানের উপযোগী বানানোর চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই লেকের ধারে তৈরি হবে ক্যাফেটেরিইয়া এবং ওয়াচ টাওয়ার। গরম কফিতে চুমুক দিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বেশ রোমাঞ্চ হবে। পরের বার পুরুলিয়া গেলে মার্বেল লেক দেখতে ভুলবেন না।

কখন যাবেন
মার্বেল লেকে যাওয়ার সবথেকে ভালো সময় শীত এবং পুজোর ছুটি। বর্ষাকালেও ঘুরে আসতে পারেন। পুরুলিয়ার তখন আরেক রূপ। তবে বর্ষায় হঠাৎ করে হড়পা বান নামতে পারে। তাই সচেতন থাকা দরকার।
কোথায় কোথায় যাবেন
অযোধ্যা পাহাড় থেকেই চলে যাওয়া যায় জয়চণ্ডী পাহাড়, বড়ন্তি, শুশুনিয়া, গড় পঞ্চকোট, ঘাটশিলা প্রভৃতি জায়গায়।
কীভাবে যাবেন
হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনে করে গিয়ে আপনাকে নামতে হবে পুরুলিয়া অথবা বরাভূম স্টেশনে। হাওড়া-চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার অথবা রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ধরতে পারেন। অযোধ্যা পাহাড়ে যাওয়ার দুটি প্রধান রাস্তা। একটি ঝালদা (পুরুলিয়া শহর থেকে ৪৫ কিলোমিটার) হয়ে, আরেকটি সিকরাবাদ (পুরুলিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার) হয়ে। গাড়ি ভাড়া করে সহজেই যেতে পারবেন। এছাড়া কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকে পুরুলিয়া যাওয়ার বাস ছাড়ে। ইচ্ছে করলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে সড়কপথে চলে যেতে পারেন। দুর্গাপুর ব্যারেজ পেরিয়ে বাঁকুড়া হয়ে অযোধ্যা পাহাড়।
কোথায় থাকবেন
অযোধ্যা হিলস ফরেস্ট গেস্ট হাউজ কমপ্লেক্সে থেকে অনায়াসে ঘুরতে পারেন চারপাশের জায়গা। যোগাযোগ –
West Bengal Forest Development Corporation Limited
KB 19, Sector 3, Salt Lake
Kolkata 700106
Phone: 033-23350064, +91 7604044479
E-mail: helpdesk@wbfdc.com
এছাড়াও পুরুলিয়া শহরে বেশ কিছু হোটেল এবং রিসর্ট আছে। সেগুলির একটিতেও থাকতে পারেন।
Developed by DXDasia