KIFF-এ রাজবংশী ভাষার ছবি ‘মানসাই’ বলবে প্রান্তিক জনজীবনের কথা

‘আনহার্ড ইন্ডিয়া : রেয়ার ল্যাঙ্গুয়েজ’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে ছবিটি

ত্তরবঙ্গ, আসাম এবং অধুনা বাংলাদেশের একটা অংশের জনপদজুড়ে এই বাংলার আদি এবং অকৃত্রিম ভাষার পূর্ববর্তী রূপ ‘রাজবংশী’। সেই রাজবংশীভাষী মানুষের সুখ দুঃখের ভাগিদার মানসাই নদী ও ‘মানো’ নামের একটি মেয়েকে ঘিরেই পরিচালক আশুতোষ দাসের ছবি ‘মানসাই’। ২৮তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-এর ‘আনহার্ড ইন্ডিয়া : রেয়ার ল্যাঙ্গুয়েজ’ বা ‘অশ্রুত ভারতীয় ভাষা’ বিভাগে মনোনীত হয়েছে ছবিটি। দেখানো হবে আগামী ১৭ই ডিসেম্বর, দুপুর ১:৩০ টায় রবীন্দ্র সদন প্রেক্ষাগৃহে।

ছবির পরিচালক আশুতোষ দাস মাথাভাঙা ২ ব্লকের রামঠেঙ্গা গ্রামের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। ছোটোবেলা থেকেই রাজবংশী মানুষের মাঝেই তিনি বড়ো হয়েছেন। নিজেও ছোটবেলা থেকেই নাটক, যাত্রা এসবে অভিনয় করতেন। আদতে পেশায় শিক্ষকতার পাশাপাশি গল্প, কবিতা, নাটক লেখালেখিও করতে ভালোবাসেন। এই ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপও করেছেন তিনি  নিজেই। প্রথম দিকে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি, মিউজিক ভিডিও ইত্যাদি তৈরি করেছেন। এটিই তাঁর প্রথম রাজবংশী পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি। এটি তৈরি করার পথে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে একসময় হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেইসময় জুপিটার ক্রিয়েশন ফিল্ম-এর অভিজিৎ শ্রীদাস তাঁর হাত ধরেন। জুপিটার ক্রিয়েশন-এর ব্যানারেই মুক্তি পাচ্ছে ‘মানসাই’।

কালের নিয়মে নিজেদের সমাজ, শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিজস্ব আঙ্গিকের শিল্প সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে আছে রাজবংশীরা। সেই রাজবংশী মানুষের আবেগের, ভালোবাসার, সুখ-দুঃখের ভাগিদার মানসাই নদীকে নিয়েই এই ছবি। আর এই ছবির গল্প ‘মানো’ নামের একটি মেয়েকে ঘিরে। তার জীবন চড়াই-উতরাইয়ে ভরা, ঠিক যেন একটা নদী—‘মানসাই’।  মানসাই ছবির গল্প তিস্তাবুড়ির পৌরাণিক আখ্যানের সারমর্ম বলা যেতেই পারে। সে নারী দেবতা হোক বা মানবী। জীবনের প্রতি পদে নিজেকে প্রমাণ করতে হয় জীবন দিয়েই। উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক জনপদের পাড় ঘেঁষে বয়ে চলে মানসাই নদী, আর তাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজবংশী সম্প্রদায়ের সহজ মানুষগুলোর জীবনের কথাই বলবে ছবিটি।

কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ছাড়াও মোট ৯৪ মিনিটের এই পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবিটি ইতিমধ্যেই ‘দ্য লিফ্ট অফ গ্লোবাল নেটওয়ার্ক সেশন’ এবং ‘পাইনউড স্টুডিও ফার্স্ট টাইম ফিল্ম মেকার সেশন ২০২২’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশেও প্রদর্শিত হবে।  

ছবিটির সৃজনশীল পরিচালক উত্তরবঙ্গ তথা বাংলার স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব অভিজিৎ শ্রীদাস। ছবিটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন পায়েল মুখোপাধ্যায়, অর্জুন সুব্রত, সুস্মিতা বর্মন, কৃষ্ণ দেওয়ান, কমল বর্মন, রবি বর্মন সহ অন্যান্যরা। ছবির এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার প্রসেনজিৎ সিকদার, সংগীত পরিচালনা করেছেন রজত বিশ্বাস এবং ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফার রাজিব সাউ এবং প্রনয় সরকার। ছবির কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই উত্তরবঙ্গেরই মানুষ।

‘মানসাই’-এর একটি মূল ভিত্তি সংগীত। তিস্তাপারের ভাওয়াইয়ার কথায়-সুরে এ ছবি সমৃদ্ধ হয়েছে। “মানসাই-এর গান আমরা নতুন ভাবে তৈরি করি লক ডাউন  চলাকালীন, কাজটা কঠিন ছিল এসময়। বাড়ির  বাইরে বেরিয়ে স্টুডিওতে তখন কে আসবে। অবশেষে  মার্টিনা (মার্টিনা সিংহ) কে পাওয়া গেল, কি যে গাইল মেয়েটি, তার সঙ্গে প্রবীন পরেশদা বাঁশি বাজালেন, পেশায় রিক্সা চালক, একাধারে আকাশবাণীর শিল্পী। এছাড়াও ইদম শাহজীর কথায় গান গেয়েছে সায়ন (সায়ন চক্রবর্তী) রজত দা (রজত বিশ্বাস) নতুন করে কম্পোজ করল গানটা। পুরো মিউজিকের পোস্ট প্রোডাকশান আমি নিজে হাতে সামলেছি।” বঙ্গদর্শনকে জানান অভিজিৎ শ্রীদাস।

আগামী ৮ মে ছবিটি মুক্তি পেতে চলেছে মুভি সেইন্টস নামে একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন মুভি প্ল্যাটফর্মে। আগামীদিনে উত্তরবঙ্গের সিনেমা হলগুলোতেও রিলিজ করার পরিকল্পনা চলছে।

তথ্য ও ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অভিজিৎ শ্রীদাস

Developed by DXDasia