ভালোবাসার কথা বলতে এলাম : দারুচিনি দ্বীপ

বাণিজ্যিক নৌ-শিক্ষণের সূত্রে সাতশোর উপর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাগরে ভাসা ও নিত্য নতুন বন্দরে ভ্রমণ – পর্ব ৩০

গত পর্বের পর

ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডের অন্তর্গত সেন্ট থমাস দ্বীপে Charlotte Amalie-তে আমাদের জাহাজ নোঙর ফেলেছে গত বৃহস্পতিবার। আগের বন্দরের চেয়ে একেবারে আলাদা Charlotte Amalie। জলের রং স্বচ্ছ নীল আর ডাঙা বলতে বেশ উঁচু পাহাড় দেখা যাচ্ছিল কেবিনের জানলা দিয়ে। পাহাড়ের টিলায় টিলায় বাড়ি দেখতে পাচ্ছিলাম আর সেই সব বাড়ির রং হয় সাদা নয়তো হালকা হলুদ। মাথার চাল ইট রঙের। হঠাৎ মনে হয় বুঝি বা ভূমধ্যসাগর এলাকায় এসে উপস্থিত হয়েছি। পাহাড়গুলিকে দেখলে মনে হবে শিলিগুড়িতে দাঁড়িয়ে দূরে হিমালয়ের নিচের সারিকে দেখছি। ঘন সবুজে স্নিগ্ধ হয়ে রয়েছে তাদের সমস্ত শরীর। তবে পাহাড়ের নিচে সমতলভূমির জায়গায় রয়েছে সুনীল সাগর। সেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকগুলি সাদা পাল তোলা নৌকা। আমরা বন্দরের যে এলাকায় রয়েছি তার নাম হেভেনসাইট। ক্যাপ্টেন বুসি বেশ করিৎকর্মা লোক। উনি আমাদের সুবিধার জন্য জাহাজ থেকে সাগরের মূল এলাকা পর্যন্ত একটা শাটল বাসের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতি আধ ঘণ্টা অন্তর সেই বাস বিনি পয়সায় জাহাজের ছাত্র ও শিক্ষকদের পৌঁছে দেবে Charlotte Amalier রাজপথে। এখানে বাস আর ট্যাক্সি সব একরকম দেখতে। একটা টাটামোবাইলের মতো ট্রাকের পিছনে তিরপলের ছাউনি আর সারিসারি সিটের ব্যবস্থা। প্রায় চার সারি সিট এরকম ভাবে রয়েছে। প্রতি সারিতে চারজন মানুষ বসতে পারে। ট্যাক্সিতে উঠলে যাত্রী পিছু ভাড়া দিতে হবে। এখানে মিটারের ব্যবস্থা নেই। ছোটো দ্বীপে গোনাগুনতি গন্তব্যস্থল। সেই গন্তব্যস্থল অনুযায়ী মাথাপিছু ভাড়া ঠিক করা আছে। জাহাজ থেকে Charlotte Amalie যেতে যাত্রী পিছু $4 ট্যাক্সিতে লাগে। তাই চারজন উঠলে $16 গচ্চা। যেহেতু সকলেই ঘনঘন আনাগোনা করবে তাই আমরা ক্যাপ্টেন বুসিকে মনে মনে প্রচুর ধন্যবাদ জানালাম শাটেল বাসের ব্যবস্থা করার জন্য। রাস্তায় দেখলাম এখানকার সব স্থানীয় বাসিন্দারা এরকমই চেহারার ট্যাক্সিতে চেপে যাতায়াত করছে। পরে জানলাম যে দেখতে এরকম হলেও ওগুলি ট্যাক্সি নয়। ওদের নাম সাফারি বাস আর দ্বীপের যে কোন জায়গায় যাও না কেন, ভাড়া হল $2। স্থানীয় মানুষ এর সাহায্যেই চলাফেরা করে।

শাটল বাস

Charlotte Amalie ফেরিঘাট

জাহাজ থেকে Charlotte Amalie যেতে যাত্রী পিছু $4 ট্যাক্সিতে লাগে। তাই চারজন উঠলে $16 গচ্চা। যেহেতু সকলেই ঘনঘন আনাগোনা করবে তাই আমরা ক্যাপ্টেন বুসিকে মনে মনে প্রচুর ধন্যবাদ জানালাম শাটেল বাসের ব্যবস্থা করার জন্য।

জাহাজ বাঁধবার একটু পরেই সেই শাটেল বাসে চেপে পৌঁছে গেলাম Charlotte Amalie বা সেন্ট থমাসের পার্ক স্ট্রিটে। সমুদ্রের তীর ঘেঁষে সুন্দর দোকান সাজানো। অনেকদিন হলো আখের রস থেকে চিনি আর রাম তৈরির ব্যবস্থা উঠে গেছে। এখন এই দ্বীপের লক্ষ্মীর ভাঁড়ার হল পর্যটন। হার কাঁপানো শীতে অস্থির হয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে পর্যটক চলে আসে এই দ্বীপে মিনেসোটা, উইসকনসিন, বস্টন, মেইন, এমনকি কানাডা থেকে। আর তাদেরকে খাইয়ে দাইয়ে, রাম, চুরুট, গয়না, জামা, সুগন্ধি এইসব বেচে দিন চালায় দ্বীপের ব্যবস্থায়ী সম্প্রদায়। কেউ চাকরি করে, কেউ বাস, ট্যাক্সি, ফেরি চালায়, কেউ বা হোটেলের সাফাই-এর কাজ করে। হাঁটছিলাম যে রাস্তা ধরে তার একপাশে ঘন নীল সমুদ্র আর অন্যপাশে সাজানো গোছানো দোকানের সারি। ক্ষণিকের অতিথি পর্যটকেরা ছুটির মেজাজে গায়ে রোদ্দুর মেখে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এইসব দ্বীপে কারো কোনো ব্যস্ততা নেই। এখানে হাঁটলে মনে হবে না পৃথিবীতে ওয়াল স্ট্রিট বা ধর্মতলা বলে কোনো জায়গা থাকতে পারে। কয়েকটা দোকানের একটা ব্লক পেরোলেই সরু মুচি কবলস্টোনের গলি ধরে পেছনের রাস্তায় যাওয়া যায়। সেই সব রাস্তার দোকানগুলি অনেক ছাপোষা, সাজ পোশাকের তেমন বালাই নেই। অনেক স্থানীয় মানুষের চেহারার সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট খেলোয়ারদের মিল পাচ্ছিলাম। জলের ধারে যে রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাবার খেলাম (ফিশ অ্যান্ড চিপস উইথ টার্টার সস) তার ম্যানেজারকে দেখতে ঠিক দাড়ি গোঁফহীন ভিভ রিচার্ডসের মতো মনে হল। অনেকের মাথায় দেখলাম বব মার্লের কায়দায় লম্বা জটা। অনেকে সেই জটা খোঁপা করে মাথার পেছনে বেঁধে রামের গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে। এখানে সবসময় দোকানগুলিতে হালকা নাচের বাজনা বাজে। তাই বৃহস্পতিবারের খটখটে দুপুরকেও শনিবারের মায়াবী সন্ধ্যা বলে ভুল হবে।

Charlotte Amalie রাস্তাঘাট

সেন্ট থমাসের চারিদিকে অন্যান্য অনেকগুলি দ্বীপ রয়েছে। জাহাজের অনেকে ফেরি করে সেই সব দ্বীপে যাবে বলছিল। লাঞ্চ সেরে সমুদ্রের ধারে হাঁটতে হাঁটতে এক জায়গায় দেখলাম যে কিছু মানুষ লাইন করে দাঁড়িয়ে আছে। জিজ্ঞেস করে জানলাম যে এটা ফেরির লাইন আর ফেরি যাবে সেন্ট জন নামের পাশের একটা দ্বীপে। ফেরির ভাড়া $11 আর যেতে লাগবে ৪০ মিনিট। সময় নষ্ট না করে টিকিট কেটে সেই দোতলা ফেরিতে চেপে বসলাম। দোতলায় বসলে দারুন মজা কারণ তখন মাথার ওপরে খোলা আকাশ আর চারিদিকে সমুদ্রের রং পরিবর্তন স্পষ্ট ঠাহর করা যায়। আমাদের ফেরিচালক একজন মোটাসোটা ভদ্রলোক। তিনি আমাদের মিষ্টি হেসে অভ্যর্থনা জানিয়ে রওনা দিলেন সেন্ট জনের উদ্দেশ্যে। খোলা সমুদ্রে ফেরিতে চেপে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে যেতে দেখলাম মেছো গাংচিল, উড়ুক্কু মাছ, জলের উপরে একটু উঠে থাকা পাহাড়ের চূড়া। আশেপাশের পালতোলা নৌকোদের পিছনে ফেলে আমাদের মোটরাইজড ফেরি বেশ স্পিডে এগোলো সেন্ট জনের দিকে আর সেই গতির ঠেলায় আমাদের সিটে বসে থাকা দুষ্কর হচ্ছিল। ঢেউয়ের ধাক্কায় ফেরি জোরে লাফাচ্ছিল আর আমি প্রাণপণে দোতলার রেলিং আঁকড়ে ভাবছিলাম এইবার নির্ঘাত দাঁত ছিরকুটে জলে পড়বো। যাইহোক, বড়ো কোনো দুর্ঘটনা না ঘটিয়ে যখন সেন্ট জন দ্বীপে পৌঁছালাম তখন দুপুর দুটো বাজে। ফেরির চালক জানালো যে সেন্ট থমাসের শেষ ফেরি ছাড়বে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। দ্বীপের চারিদিকে চোখ বুলিয়ে বুঝলাম যে এই দ্বীপে শহুরে ভাব নেই একেবারেই। চারিদিকে উঁচু পাহাড় জলের পাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আর পাহাড়ের গায়ে ঘন জঙ্গল। যেখানে পাহাড় সমুদ্রে এসে ঠেকেছে সেখানে সাদা বালির চমৎকার তীরভূমি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের মতে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বেলাভূমির একটি রয়েছে সেন্ট জন দ্বীপে। ফেরিঘাটের পাশেই টুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টার। সেখান থেকে একটা ম্যাপ জোগাড় করে জানলাম যে সেন্ট জনের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে ন্যাশনাল পার্ক। এই দ্বীপের নামকরণ করেছিলেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস তবে আখের রসের ব্যবসা করতে ১৭১৮ সালে এখানে ঘাঁটি গাড়ে ডেনমার্কের মানুষ। আফ্রিকান দাস শ্রমিকদের খাটিয়ে এই দ্বীপে শুরু হয় সুগারকেন আর কটন প্লান্টেশন। ১৯৫৬ নাগাদ এই দ্বীপের সিংহভাগ কিনে নেন রকফেলার (Rockefeller) গোষ্ঠী এবং পরে অনেকটাই হস্তান্তরিত হয় আর চলে আসে আমেরিকান সরকারের আওতায়। যেহেতু আমার হাতে সময় অল্প তাই ঠিক করলাম সেই ভ্যান ট্যাক্সিতে একটা গাইডেড ট্যুর নেব। ট্যাক্সি চালক আমাকে ঘন্টা ২-৩ ধরে গোটা দ্বীপ ঘুরিয়ে দেখাবে $25 এর বিনিময়ে। আমার সাথে আমাদের ট্যাক্সিতে উঠলো মিনেসোটা (Minnesota) থেকে উড়ে আসা এক আমেরিকান দম্পতি। ট্যাক্সি চালক বেজকে দেখলে মনে হবে অ্যান্ডি রবার্টসের দাদা আর কিছুক্ষণের ভেতরেই বোঝা গেল যে সে বেশ রসিক মানুষ। বেজ আমাদের দেখালো বিভিন্ন বেলাভূমি যেখানে মানুষ অতি যত্নে প্রকৃতিকে রক্ষা করেছে। এদের নাম ক্যানীল বে, হকসনেস্ট বে, ট্রাঙ্ক বে, মাহো বে, ওয়াটারলেমন বে, সল্টপন্ড বে (Caneel Bay, Hawksnest Bay, Trunk Bay, Maho Bay, Waterlemon Bay, Saltpond Bay) ইত্যাদি। প্রত্যেক জায়গায় থেমে সেই জায়গার বৈশিষ্ট্য বুঝিয়ে দিচ্ছিল বেজ। এখানে সবচেয়ে সুন্দর বেলাভূমির নাম দারুচিনি বে (Cinnamon bay)। বালির রং ধবধবে সাদা আর সমুদ্রের রং ঘন নীল। এই দুইয়ের সাথে মিশেছে নারকেল আর খেঁজুর গাছের কালচে সবুজ। সেই বেলাভূমিতে দারুচিনি রঙের সুন্দরীরা রোদ পোয়াতে এসেছে।

ফেরিঘাটের পাশেই টুরিস্ট ইনফর্মেশন সেন্টার। সেখান থেকে একটা ম্যাপ জোগাড় করে জানলাম যে সেন্ট জনের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে ন্যাশনাল পার্ক। এই দ্বীপের নামকরণ করেছিলেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস তবে আখের রসের ব্যবসা করতে ১৭১৮ সালে এখানে ঘাঁটি গাড়ে ডেনমার্কের মানুষ।

সেন্ট জন দ্বীপ

খাড়া পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে উঠতে উঠতে দেখলাম নানা রঙের ইগুয়ানা (Iguana) বা দৈত্যাকার গিরগিটি, হলদে রঙের বানানাকুইট পাখি (Bananaquit), বিশাল ডানাওয়ালা ফ্রিগেট পাখি (frigate), হেরন (Heron) ইত্যাদি। বেজ আমাদের নানারকম গাছ চিনিয়ে দিচ্ছিল। গাড়ি থামিয়ে একটা লালচে ছাল ওঠা গাছের সামনে এনে বলল, বলোতো এর নাম কি? আমরা তিনজনে অনেক মাথা চুলকে না পারায় বললো, এর নাম হলো ট্যুরিস্ট ট্রি। দেখছো না? সূর্যের তাপে কেমন ছাল বাকলা উঠে গেছে। বুঝলাম কটাক্ষটা মিনেসোটা দম্পতির প্রতি। এখানে রোদ্দুরে নাইতে গিয়ে অনেক সাদা চামড়ার মানুষের অসম্ভব স্নান বার্ন হয় আর পরে তাদের সেই জায়গার চামড়া উঠে আসতে থাকে। সেই জন্য বেজের মতে ওই গাছের নাম হওয়া উচিত ট্যুরিস্ট ট্রি। নিজের রসিকতায় খানিকক্ষণ খ্যাক খ্যাক করে হেসে, পরে বলল ওটা আসলে টারপেনটাইন ট্রি (turpentine)। এরপরে চিনলাম ভীষণ বিষাক্ত মাঞ্চিনিল গাছকে (Manchineel)। এই দ্বীপপুঞ্জে এই গাছ সবখানে পাওয়া যায়।

ট্যুরিস্ট ট্রি

মাঞ্চিনিল গাছের জন্য সতর্কতা

এর পাতায় বিষ, বিকলে বিষ, ফলে বিষ। বৃষ্টির সময় এই গাছের তলায় দাঁড়ালে মৃত্যু অনিবার্য। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অনেক নাবিক এই বিষ ফল খেয়ে মারা যাওয়ায় উনি এর নাম দিয়েছিলেন ডেথ অ্যাপেল ট্রি। পাহাড়ের গায়ে ঘন জঙ্গলের গাছে গাছে বিশাল উই ঢিবি দেখতে পাচ্ছিলাম। দৈত্যাকার মৌচাকের মতো তারা গাছের গায়ে আটকে রয়েছে। বেজ জানালো যে ওরা সরকারি উইপোকা। ন্যাশনাল পার্কের ভেতরে ওদের অবাধ রাজত্ব। কারোর সাধ্যি নেই ওদের টিকিতে হাত দেয়। একেবারে শেষে বেজ আমাদের নিয়ে গেল মেরি ক্রিকের (Mary Creek) গা ঘেঁষে আনাবার্গ (Annaberg) চিনিকলের ধ্বংসস্তূপে। প্রায় দুশো বছর হল আখের রসের চিনির কল বন্ধ হয়ে গেছে। অতীতকে আঁকড়ে জঙ্গলের মধ্যে তাও মাথা তুলে রয়েছে কয়েকটা ইটের পাঁজা। বোঝা গেল এখানে ছিল একটা উইন্ডমিল। ঝোড়ো হওয়ার দিনে এই উইন্ডমিলের সাহায্যে আখ থেকে রস নিঙড়ে নিতো আফ্রিকার দাসেরা। আখের রস জাল দেবার বড়ো কড়াই, দাসদের জীর্ণ কুটির, ঘোড়ার আস্তাবল সব ছিন্নভিন্ন হয়ে ছড়িয়ে রয়েছে প্রত্যেকের দ্রষ্টব্য হয়ে।

ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অনেক নাবিক এই বিষ ফল খেয়ে মারা যাওয়ায় উনি এর নাম দিয়েছিলেন ডেথ অ্যাপেল ট্রি। পাহাড়ের গায়ে ঘন জঙ্গলের গাছে গাছে বিশাল উই ঢিবি দেখতে পাচ্ছিলাম। দৈত্যাকার মৌচাকের মতো তারা গাছের গায়ে আটকে রয়েছে।

মন প্রাণ ভরে সবকিছু দেখে শুনে পাহাড়ে জঙ্গল ধরে আমাদের ট্যাক্সি নামছিল ফেরিঘাটের দিকে। এমন সময় একটা গাছ দেখে বেজ গাড়ি থামিয়ে সেই গাছের তিনটি পাতা আমাদের তিনজনকে দিলো। বললো যত্ন করে রেখো। এই গাছকে বলে ভালোবাসার গাছ। এই পাতা ঘরে রেখে দিও। জল ছাড়া, খাবার ছাড়া, কোনোরকম পরিচর্যা ছাড়া এই পাতা বেঁচে থাকে আর এর থেকে নতুন পাতার জন্ম হয়। মিনেসোটা গিন্নিকে বললো, স্বামীর কথা স্মরণ করে পাতা আগলে রেখো। আর স্বামীর দিকে তাকিয়ে চোখ মটকে বলল এই পাতা তোমার সুন্দরী সেক্রেটারিকে দিও। বুঝলাম পুরোনো দাম্পত্যের সংজ্ঞা দেশ কাল নির্বিশেষে একই রকম।

ভালোবাসার পাতা

ফেরার সময় ফেরিতে বসে দেখলাম এক আশ্চর্য সুন্দর সূর্যাস্ত। দারুচিনি দ্বীপকে পিছনে ফেলে সেন্ট থমাস অভিমুখে এগিয়ে চলছে ফেরি। সমুদ্র সময়ের সঙ্গে মানানসই প্রসাধন সেরে ফেলেছে। তার গায়ে এখন কমলা রঙের আভা। আমার আঙুল, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের ভেতরে যে কোমল জিনিসটি স্পর্শ করেছিল তা হল দারুচিনি দ্বীপের সবচেয়ে মধুর উপহার… ভালোবাসার একটি পাতা।

চলবে…

_____________

*বাণিজ্যিক নৌ-শিক্ষণের সূত্রে সাতশোর উপর ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাগরে ভাসা ও নিত্য নতুন বন্দরে ভ্রমণ করেছেন আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস মেরিটাইম অ্যাকাডেমির অধ্যাপিকা মধুবাণী ঘোষ (Madhubani Ghosh)। অবিশ্বাস্য সেই ভ্রমণ কাহিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতি সোমবার সন্ধে ৬টায় প্রকাশিত হচ্ছে বঙ্গদর্শনে। আগের পর্বগুলি পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন।

Developed by DXDasia