দার্জিলিংয়ের হারিয়ে যাওয়া আকর্ষণ

পাহাড়ের রানি পর্যটকদের ফিরিয়ে দেবে সেই স্মৃতি

গোর্খাল্যান্ড টেরিটরিয়াল অ্যাডমিনিস্টেশনের উদ্যোগে আংশিকভাবে খোলা হয়েছে একটি পর্যটনকেন্দ্র – প্রায় তিন বছর বাদে। দার্জিলিং থেকে মোটামুটি ১৫ কিলোমিটার দূরে জায়গাটির নাম জামুনি। সেখানকার লোকজন জীবনধারণের জন্য পর্যটনের ওপর এতটাই নির্ভরশীল যে তাঁদের ক্রমাগত দাবিতেই শেষ পর্যন্ত ট্যুরিস্ট স্পট আবার চালু হল। স্থানীয় মানুষেরাই জায়গাটি পরিষ্কার এবং গোছগাছ করেছেন।

করোনা মহামারির কারণে লকডাউনের সময়ে গোটা রাজ্যেই পর্যটন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আনলক শুরু হলে দার্জিলিং আবার ফিরতে থাকে আগের ছন্দে – রাজ্যের অন্যান্য গন্তব্যের মতোই। তবে জামুনিতে নতুন করে পর্যটন চালু হওয়ায় ভ্রমণার্থীদের খুশি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ২০১৭ সালের বিক্ষোভে দার্জিলিংয়ের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আবার সেগুলির কয়েকটিতে প্রাণ ফিরে আসছে ধীরে ধীরে।

সোনাদা স্টেশন তার মধ্যে একটি। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেন সেখান দিয়ে যাতায়াত করে দিনে দু’বার। স্টেশনের ঐতিহ্যিবাহী স্থাপত্যে আগুন লাগিয়ে ভস্মীভূত করে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। কঠোর পরিশ্রম এবং প্রবল যত্নে মেরামতের কাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালে ফের খোলা হয় স্টেশন। যদিও আদি কাঠামোটি এখন আর নেই।

গয়াবাড়ি স্টেশন 

গয়াবাড়ি স্টেশনেও আগুন লাগানো হয়েছিল। স্টেশনটির প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে ১৮৭৯ এবং ১৮৮১ সালের মাঝখানে। আগুন লাগলেও স্টেশনের আদি কাঠামো বেঁচে যায়, যদিও বাকি অংশ অনেকটাই মেরামত করতে হয়েছিল ইউনেস্কোর নিয়মবিধি মেনে। যেহেতু, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।

দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের সদর দপ্তর ইলিসিয়া বিল্ডিংও আগুন জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করতে চেয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। সেই ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তবে এতটাই ভয়াবহ ক্ষতি হয় যে ইউনেস্কো দুঃখের সঙ্গে জানিয়েছিল, খুব বেশি ক্ষতি হলে হেরিটেজের তকমা আর থাকবে না।

দার্জিলিংয়ের অবস্থান 

দার্জিলিং থেকে ৩০ কিলোমিটারের মতো দূরে কার্শিয়াংয়ে প্রায় শতাব্দী-প্রাচীন রাজ রাজেশ্বরী হলের অবস্থান। কার্শিয়াংয়ের বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে পরিচালিত সেই হল। একদল বিক্ষোভকারী আগুন লাগিয়ে দেয় হলটিতে, যদিও তাদের শনাক্ত করা যায়নি। পুরোনো নথিপত্র, সাউন্ড সিস্টেম, আসবাব-সহ গোটা বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। সরকারি অর্থসাহায্যে হলটি সংস্কারের কাজ চলছিল, তারই মাঝপথে বিক্ষোভ শুরু হয়। কার্শিয়াংয়ে দুর্গাপুজোর একমাত্র স্থায়ী কাঠামো এখন কেবল ধ্বংসস্তূপ। এর আগেও ১৯৮৬ কিংবা ২০০৭ সালের বিক্ষোভে কিন্তু এটি টিকে ছিল।

দার্জিলিংয়ের আরেকটি প্রধান আকর্ষণ কিন্তু হারিয়ে যায়নি। শীত আসছে, আকাশও পরিষ্কার হচ্ছে। দার্জিলিংয়ের নানা জায়গা থেকে তুষারশুভ্র হিমালয় দেখার সেরা সময় এটি। 
 

কোথায় কোথায় যাবেন
দার্জিলিংয়ে রয়েছে আরও বেশ কিছু দর্শনীয় জায়গা। যেমন শান্তি প্যাগোডা, দার্জিলিং ম্যাল, টাইগার হিল, ঘুম স্টেশন, বাতাসিয়া লুপ, পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক, হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট, তেনজিং রক, হিমালয়ান মাউন্টেয়ারিং ইন্সটিটিউট, দার্জিলিং রোপওয়ে ইত্যাদি।
কীভাবে যাবেন
দার্জিলিংয়ের সবথেকে কাছের রেলস্টেশন নিউ জলপাইগুড়ি। সেখান থেকে সড়কপথে এই হিল স্টেশনে যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। গন্তব্যে পৌঁছনোর জন্য প্রাইভেট ট্যাক্সি, শেয়ার্ড ক্যাব এবং বাস পেয়ে যাবেন। বিমানে যেতে চাইলে আপনাকে বাগডোগরা এয়ারপোর্টে নামতে হবে। সেখান থেকে প্রাইভেট ট্যাক্সি, শেয়ার্ড ট্যাক্সি এবং বাস পেয়ে যাবেন সহজেই। দার্জিলিং পৌঁছতে সময় লাগবে চার ঘণ্টার মতো।
কোথায় থাকবেন
দার্জিলিংয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টি। সেখানেই কয়েকদিন থেকে নিশ্চিন্তে ঘুরতে পারেন নানা গন্তব্যে। প্রয়োজনে ফোন করুন ৯৭৩৩০০৮৭৭৫ নম্বরে। এছাড়া দার্জিলিংয়ে বেশ কিছু বেসরকারি হোটেল এবং রিসর্ট আছে। বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন –
West Bengal Tourism Development Corporation Ltd
DG Block, Sector-II, Salt Lake
Kolkata 700091
Phone: (033) 2358 5189, Fax: 2359 8292
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in,
mdwbtdc@gmail.com,
dgmrwbtdc@gmail.com
Developed by DXDasia