দোতলা বাসে ঘুরে দেখুন কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পর্যটন বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিলোত্তমা কলকাতাকে নতুন করে আবিষ্কারের প্রমোদ-ভ্রমণ। নস্টালজিয়ায় মোড়া এই সফরের নাম ‘অজানা কলকাতা’ বা ‘Kolkata Connect’। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, প্রিয় মহানগরের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার অনবদ্য সুযোগ এটি। স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূরের পর্যটক – যে কেউ অংশ নিতে পারেন ভ্রমণে।
দোতলা বাস
চলতি বছরের ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে সফর। দুপুর দেড়টায় ভ্রমণ আরম্ভ হয়, চলে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত। কোভিড সংক্রান্ত যাবতীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কলকাতার সেরা আকর্ষণগুলি ঘুরে দেখানোর বন্দোবস্ত করেছে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগম। ভ্রমণের সঙ্গে হুগলি নদীর ওপর হাউজবোটে রয়েছে ভূরিভোজের আয়োজন। ডবল ডেকার বাসে করে শহরের একের পর এক ডেস্টিনেশনে পৌঁছবেন। কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত দোতলা বাস। দেড় দশক আগে মহানগরের রাস্তায় দোতলা বাসের চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের দৌলতে আবার ফিরে এসেছে ডবল ডেকার।
পুরোনো মুদ্রাভবন
গন্তব্যের তালিকায় রয়েছে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, ফোর্ট উইলিয়াম, সেন্ট জনস চার্চ, জেনারেল পোস্ট অফিস, পুরোনো মুদ্রাভবন, ডালহৌসি স্কোয়ার (বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ), গ্রেট ইস্টার্ন হোটেল, কার্জন পার্ক, টাউন হল, ট্রেজারি বিল্ডিং, প্রিন্সেপ ঘাট, লাল দিঘি প্রভৃতি। এইসব পর্যটনস্থলে অনেকেই গিয়েছেন বহুবার। কিন্তু এই সফর তার থেকে অনেকটাই আলাদা। কলকাতার বিখ্যাত জায়গাগুলির অজানা গল্প তুলে ধরা হবে ভ্রমণের মাধ্যমে।
আরও পড়ুন: রসিক বিল – পাখিদের স্বর্গরাজ্য
ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের কথাই ধরা যাক। আপনি কি জানেন, এই সৌধের একেবারে শীর্ষে থাকা পরির মূর্তিকে কী নামে ডাকা হয়? কেনই বা সেই নামকরণ? এই ব্রিটিশ স্থাপত্যে কোন মন্ত্রীর (পরবর্তীকালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল) উদ্যোগে ক্যালকাটা গ্যালারি চালু হয়েছিল? এটাও সত্যি যে ১৯১১ সালের আগে যদি ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে স্থানান্তরিত হত, তাহলে কলকাতা পেত না ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে।

জেনারেল পোস্ট অফিস
একইভাবে, কলকাতার বাসিন্দারা কতজন জানেন, আদি ফোর্ট উইলিয়ামের অবস্থান ঠিক কোনখানে? এখন সেখানে কী রয়েছে? অনেকেই ভুলে গিয়েছেন যে সৈন্যশিবির হিসেবেই কলকাতা শহরের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই মহানগরের ইতিহাসে এই দুর্গের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজভবন
ডালহৌসি স্কোয়ারের নামকরণ হয়েছিল ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির নামে। তাঁর আমলেই ভারতে রেলপথ গড়ে ওঠে, টেলিগ্রাফ যোগাযোগ স্থাপিত হয় এবং ডাক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটে। তিনিই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সরকারি পূর্ত বিভাগ। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের ঠিক আগে শেষ হয়েছিল তাঁর কার্যকাল। পরবর্তীকালে ডালহৌসি স্কোয়ারের নাম পাল্টে রাখা হয় বিনয়-বাদল-দীনেশ বাগ। তিন অকুতোভয় বিপ্লবীর নামে, যাঁরা ব্রিটিশ প্রশাসনের স্নায়ুকেন্দ্র রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেছিলেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন। সেই ইতিহাস কতজন মনে রেখেছে?
প্রিন্সেপ ঘাটের নাম রাখা হয় জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতিতে। কে এই জেমস প্রিন্সেপ? কতজন জানেন? তিনি একজন ইংরেজ পণ্ডিত তথা প্রাচ্যবিদ। ‘জার্নল অফ দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অফ বেঙ্গল’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মী ও খরোষ্ঠী লিপির পাঠোদ্ধারের জন্য তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভারতীয় ইতিহাস অনুসন্ধানে তাঁর অবদান অপরিসীম।
কলকাতা হাইকোর্ট
সেন্ট জনস চার্চে শায়িত আছেন জোব চার্বক। তাঁকে অনেকেই কলকাতা শহরের প্রতিষ্ঠাতা মনে করেন। যদিও তা সত্য নয়। কলকাতার প্রতিষ্ঠাতা কোনো একজন ব্যক্তি নন। তবে অনেকেই জানেন না, জোব চার্নক বিয়ে করেছিলেন এক হিন্দু মহিলাকে। এমনকি চার্নকের সহকর্মীরা তাঁর ওপর হিন্দু ধর্ম গ্রহণের অভিযোগ এনেছিলেন। আরও কয়েকজন বিখ্যাত মানুষের কবর রয়েছে সেন্ট জনস চার্চে। তাঁরা কে কে, জানতে অংশ নিন দোতলা বাসের ভ্রমণে।
কলকাতা আপনার জন্য অপেক্ষারত। এখনই বুক করুন আপনার সফর। বিস্তারিত জানতে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমে যোগাযোগ করুন। অথবা ক্লিক করুন www.wbtdcl.com ওয়েবসাইটে।
