
ঝাড়গ্রামের বৈতালপাড়া গ্রামে রয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি
বই মানুষের চিরকালীন বন্ধু। গ্রন্থাগারে সেই বন্ধুর নিবাস। কেউ কেউ নিজের বাড়িতে বইয়ের বিপুল ভাণ্ডার সংগ্রহ করে রাখেন, তা সত্ত্বেও গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা কমে না। কারণ, গ্রন্থপাঠে মানুষের জ্ঞানতৃষ্ণা বেড়ে যায়, নিজের সংগ্রহকে মনে হয় অপর্যাপ্ত। তখন লাইব্রেরিতে হানা দেওয়া ছাড়া গতি থাকে না। আর সাধ থাকলেও যাদের বই কেনার বা বাড়িতে রাখার সামর্থ্য নেই, গ্রন্থাগারই তাদের সেই তৃষ্ণা মেটায়। আর যদি এরকম হয় যে লাইব্রেরি নিজেই এসে বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ছে, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। ঝাড়গ্রামে গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের বৈতালপাড়া গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষরা এভাবেই নিজেদের যাপনে বইকে সঙ্গী করে নিয়েছেন। তাঁরা চলমান লাইব্রেরির থেকে নিয়মিত বই নেন, পড়ে আবার সময়মতো সেগুলি লাইব্রেরিতে ফেরতও দেন।
এই লাইব্রেরি তৈরি হয়েছে বৈতালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের উদ্যোগে। সেই স্কুলে আলমারি জুড়ে রয়েছে বই। বইগুলো কেনা হয়েছে সর্বশিক্ষা মিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের খরচে। পড়ুয়ারা যেমন যেখানে নিয়মিত বই পড়ে, তেমনি অভিভাবকরাও গল্পের বই পড়তে নিয়ে যান, পড়ে হয়ে গেলে ফেরত দেন স্কুলে। এছাড়া স্কুলে খবরের কাগজ পড়ার বন্দোবস্তও রয়েছে। তবে, ঘরের অভাবে আলাদা গ্রন্থাগারকক্ষ সেখানে চালু করা সম্ভব হয়নি। অথচ, শিক্ষকদের প্রত্যাশা, গ্রামবাসীদের মধ্যে পড়াশোনার চর্চা বাড়ুক।
আরও পড়ুন
একটি আস্ত গ্রাম হয়ে উঠছে ‘ওপেন স্টুডিও’
এরকম পরিস্থিতিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুখময় পাণ্ডা এবং সহ-শিক্ষক দিগন্ত লাহিড়ী গ্রামের মানুষদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়ার জন্য ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির পরিকল্পনা করেন। ৬০০টির মতো বই নিয়ে হাতে টানা গাড়িতে তৈরিও হয়ে যায় সেই লাইব্রেরি। নাম রাখা হয় ‘কিশলয় গ্রন্থাগার’। গোপীবল্লভপুর- ১ ব্লক প্রশাসন এই লাইব্রেরি গড়ে তোলার অর্থ জোগান দেয়। এখন নিয়ম করে গ্রামের অলিতে গলিতে পৌঁছে যাচ্ছে সেই গাড়ি। তাতে গল্প, কবিতা, উপন্যাসের বই যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে পাঠ্যপুস্তক, শিশুসাহিত্য, খেলা, রান্না – আরও নানা বিষয়ের অঢেল বইয়ের সম্ভার।
প্রত্যেক শনিবার স্কুল ছুটির পর সেই লাইব্রেরি-গাড়ি গ্রামের সাধারণ মানুষের দরজায় নিয়ে যান দুই শিক্ষক। লাইব্রেরির খাতায় নাম লিখিয়ে বই নিতে পারেন গ্রামবাসী। পরের সপ্তাহে সেই বই ফেরত দিয়ে হয়। লাইব্রেরির কাজে সহায়তা করে বৈতালপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও। স্কুলের শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের এই উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন সবাই। এই ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার বৈতালপাড়া গ্রামের আম-বাসিন্দাদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যেস তৈরি করেছে।
