জুনপুট এবং উদয়পুর – বাংলার লুকোনো সামুদ্রিক খাজানা

নির্জনতা আর প্রশান্তির আশ্চর্য সমাহার

উদয়পুর 

একটা প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক। জুনপুট কীভাবে বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে জুড়ে আছে? অনেকেই হয়তো উত্তর জানেন। যাঁরা জানেন না, ভাবার জন্য কিছু সময় তাঁদের দেওয়া হল।

জুনপুট 

পর্যটকদের কাছে দিঘার আকর্ষণ কখনই কমবে না। দশকের পর দশক ধরে ছুটির সময়ে বাঙালির প্রিয় গন্তব্য। দিঘার আশেপাশে অন্যান্য সৈকতেরও জনপ্রিয়তা বাড়ছে ধীরে ধীরে। যেমন মন্দারমণি, তাজপুর কিংবা শঙ্করপুর। সেই তুলনায় জুনপুট এবং উদয়পুর একটু অফবিট। যদি উইকএন্ডে খানিক নির্জনতা আর প্রশান্তি চান, তাহলে এই দু’টি সৈকত আপনার আদর্শ ডেস্টিনেশন।

জুনপুট 

দিঘা থেকে মোটামুটি ৪০ কিলোমিটার এবং কাঁথি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জুনপুট। কলকাতা থেকে দিঘা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার এবং কাঁথি ১৫০ কিলোমিটারের মতো। দুই জায়গাতেই সড়ক কিংবা রেলপথ ধরে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়। এসপ্ল্যানেড থেকে নিয়মিত বাস ছাড়ে। ট্রেন চড়তে হয় হাওড়া থেকে। দিঘা থেকে উদয়পুরের দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। নিউ দিঘা আর তালসারির মাঝখানে ওড়িশার সীমান্তে এই সৈকত।
 
জুনপুটের ধার ঘেঁষে দু’কিলোমিটার দূরেই ছোট্ট গ্রাম গোপালপুর। সেখানে রয়েছে মনোরম বাঁকিপুট সৈকত। উঁচু উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পশ্চিমবঙ্গের নিরিবিলি বেলাভূমির মধ্যে জুনপুট অন্যতম। ফার গাছে ভরা, জনমানব বিশেষ নেই। অনেকক্ষণ ধরে বালির ওপর হাঁটলে বেশ মজা পাবেন। দুপুর ৩টের সময় দরিয়াপুর বাতিঘর খুলে যায় দর্শকদের জন্য। গোটা অঞ্চলের রোমাঞ্চকর ভিউ পাবেন তার থেকে। মাছের গন্ধে যদি অসুবিধে না হয়, পেটুয়াঘাটে গিয়ে দেশপ্রাণ ফিসিং হারবার ঘুরে আসুন।  

জুনপুট 

এবার শুরুতে করা প্রশ্নের দিকে ফেরা যাক। বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে জুনপুটকে জুড়ে দিয়েছে কিংবদন্তি উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যখন কাঁথির ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, জুটপুটের এক মন্দিরই তাঁকে উপন্যাসটি লিখতে প্রেরণা জুগিয়েছিল। 

উদয়পুর সৈকতেও লোকজন বিশেষ নেই। দেখতে পাবেন ঝাউগাছেন ঘন জঙ্গল। সৈকতের কয়েকটি ঝুপড়িতে সমুদ্রের তাজা মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি রান্না করে বিক্রি হয়। ভোরবেলা বেলভূমিতে গিয়ে সরাসরি মৎস্যজীবীদের থেকে কাঁচা অবস্থাতেও কিনতে পারেন। সূর্যোদয়ের নয়নাভিরাম দৃশ্য নিজের চোখে দেখার সুযোগ পাবেন তাতে।  

উদয়পুর 

জুনপুট এবং উদয়পুরে পর্যটকদের জন্য থাকার বন্দোবস্ত আছে। তবে আমরা পরামর্শ দেবো দিঘায় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব দিঘালি ট্যুরিজম প্রপার্টিতে কয়েকদিন থেকে আসতে। সৈকত দুটি থেকে দূরত্ব বেশি নয়। থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা অনবদ্য। কোভিড স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে পালন করা হয়।

বুকিং এবং অন্যান্য তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন – 

West Bengal Tourism Development Corporation Ltd.
Udayachal Tourist Lodge
DG Block (1st floor), Sec II, Salt Lake, Kolkata – 700091
Phone: 033 2358 5189
Email: visitwestbengal@yahoo.co.in, mdwbtdc@gmail.com, dgmrwbtdc@gmail.com
Website: https://www.wbtdcl.com/  

Developed by DXDasia