প্যাগোডা থেকে দেখতে পাবেন অনবদ্য প্রাকৃতিক দৃশ্য
দার্জিলিং-কে বলা হয় ‘পাহাড়ের রানি’। পর্যটকদের খুব প্রিয় গন্তব্য এটি। মেঘে ঢাকা এই শহর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সমাদৃত। দার্জিলিং চায়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। এই চা মূলত দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলায় চাষ হয়। এছাড়া দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে প্রচুর মানুষকে আকর্ষণ করে। দার্জিলিংয়ের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে একের পর এক দর্শনীয় স্থান। জাপানি শান্তি প্যাগোডা তার মধ্যে অন্যতম।
বুদ্ধ মন্দির
শান্তি প্যাগোডা
দার্জিলিং শহরের কেন্দ্র থেকে গাড়িতে জাপানি প্যাগোডা যেতে মোটামুটি ১০ মিনিট সময় লাগে। এটি নির্মিত হয়েছিল জাপানের বৌদ্ধ সন্ন্যাসী তথা নিপ্পনজান-মিওহোজি সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা নিচিদাতসু ফুজির তত্ত্বাবধানে। ১৯৭২ সালে এই প্যাগোডার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন নিচিদাতসু ফুজি। মহাত্মা গান্ধির অহিংসা দর্শন তাঁকে প্রভাবিত করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ংকর ধ্বংসলীলায় তিনি খুবই বিচলিত হন। প্রেম এবং মানবতা প্রচার করতে বিশ্বের নানা দেশে তিনি শান্তি প্যাগোডা গড়ে তোলেন। ১৯৯২ সালে দার্জিলিংয়ের প্যাগোডাটির উদ্বোধন করা হয়।
জাপানি স্থাপত্যরীতি
উপবিষ্ট বুদ্ধ
একটি বৌদ্ধ মন্দির রয়েছে প্যাগোডার সঙ্গেই। সেখানে দেখতে পাবেন নিচিদাতসু ফুজির ছবি। বুদ্ধের মূর্তিও আছে। কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উঠে বিশাল প্রার্থনা ঘরে যেতে হয়। প্রার্থনার সময়ে যদি উপস্থিত থাকেন, ড্রামের তালে তালে এক গভীর প্রশান্তি উপলব্ধি করতে পারবেন। ভোর সাড়ে ৪টে থেকে ৬টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টের থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত এখানে প্রার্থনা চলে। ভোর সাড়ে ৪টে থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত মন্দির আর প্যাগোডা খোলা থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। কোনো প্রবেশমূল্য নেই।
প্যাগোডার অলংকরণ
শায়িত বুদ্ধ
মন্দিরের পর যেতে হবে প্যাগোডায়। সেখানে আছে গৌতম বুদ্ধের চার অবতারের মূর্তি – উপবিষ্ট, দণ্ডায়মান, শায়িত এবং ধ্যানস্থ। বুদ্ধের জীবনকাহিনির ওপর ভিত্তি করে বানানো অলংকরণও মুগ্ধ করবে। চোখে পড়বে প্যাগোডা এবং মন্দিরে স্থাপিত রাজকীয় সিংহের ভাস্কর্য। বিশ্ব মানবতা এবং অহিংসার প্রতীক এই প্যাগোডা। জাপানের নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী অনুয়ায়ী নির্মিত। দার্জিলিংয়ের উচ্চতম স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সৌধ এটি। দৈর্ঘ্য ২৮.৫ মিটার এবং ব্যাসার্ধ ২৩ মিটার।
দণ্ডায়মান বুদ্ধ
প্যাগোডার সিঁড়ি
প্যাগোডায় উঠলে আপনি দেখতে পাবেন অনবদ্য প্রাকৃতিক দৃশ্য। চারদিকে সবুজ আর সবুজ, আর দূরে তুষারধবল পাহাড়। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘাও চোখে পড়বে।
শান্তি প্যাগোডার অবস্থান
মেঘবালিকা ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান