জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক : শাল-পিয়ালের জঙ্গলে পশুপাখিদের আনন্দনিকেতন

ঝাড়গ্রাম ডিয়ার পার্ক নামেও পরিচিত এটি

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলাটি। জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র এই জেলা রাজরাজাদের ইতিহাসে ঠাসা, শবর লোধা মুণ্ডা মাহাতোদের অধিবাস। লালমাটি আর অফুরন্ত শাল-পিয়ালের সারি মনে অদ্ভুত রহস্যময় শিহরণ জাগায়। এমনিতেই ঝাড়গ্রাম জঙ্গলে হরিণ ছাড়াও নেকড়ে, হায়না, হাতি-সহ বিভিন্ন জীবজন্তুর বাস। এছাড়াও এই রহস্যাবৃত প্রাকৃতিক পরিবেশে শালবনের মাঝেই রয়েছে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক (Jangalmahal Zoological Park)। চিড়িয়াখানাটি ঝাড়গ্রাম ডিয়ার পার্ক ও ঝাড়গ্রাম মিনি জু নামেও পরিচিত।

অন্যান্য চিড়িয়াখানার থেকে এটি আলাদা কারণ কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় ল্যাটেরাইটিক ইকো-সিস্টেমের এক চমকপ্রদ শো-কেস প্রাকৃতিক জঙ্গলের মাঝে গড়ে ওঠা এই চিড়িয়াখানা। ছোটনাগপুর মালভূমির লাল মৃত্তিকাময়, পাথুরে ভূভাগ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিস্তীর্ন জঙ্গলভূমি তার নিজস্ব  জীববৈচিত্র্যে ভরপুর। সেই জীববৈচিত্র্যের একটা বড়ো অংশের যেমন দেখা মেলে এই জুলজিক্যাল পার্কে তেমনই দেখা মেলে এমন বেশ কিছু প্রাণীর, যারা এই ভূপ্রাকৃতিক অঞ্চলে অমিল।

অন্যান্য চিড়িয়াখানার থেকে এটি আলাদা কারণ কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বৈচিত্র্যময় ল্যাটেরাইটিক ইকো-সিস্টেমের এক চমকপ্রদ শো-কেস প্রাকৃতিক জঙ্গলের মাঝে গড়ে ওঠা এই চিড়িয়াখানা।

ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে ধবনী বিটে সাড়ে ২২ হেক্টর জায়গা জুড়ে এই চিড়িয়াখানা। ১৯৮০ সালে ঝাড়গ্রাম মিনি জু নামে আত্মপ্রকাশের সময় এটি একটি ডিয়ার পার্ক ছিল। ২০০৫ সালে সেন্ট্রাল জু অথরিটি এই পার্কের কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে মিনি জু-তে পরিণত করে। পরে বর্তমান রাজ্যে সরকারের তত্ত্বাবধানে ঝাড়গ্রাম মিনি চিড়িয়াখানার সম্প্রসারণ ঘটিয়ে এই জুলজিক্যাল পার্ক তৈরি করা হয়েছিল। চিড়য়াখানার ভোল পাল্টে ফেলতে খরচ করা হয়েছিল কোটি কোটি টাকা। এখানে এখন কয়েকশো চিতল হরিণ, পাঁচটি সম্বর হরিণ, ২২টি স্বর্ণমৃগ, রকমারি পাখি, নীলগাই, তারা কচ্ছপ, গোসাপ, এমু পাখি, সজারু, নীলগাই, ভালুক, হায়না, নেকড়ে, সাপ, গন্ধগোকুল, বাঁদর, হনুমান, মদনটাক পাখি, বন-মুরগি, ময়ূর, কালিজ ও গোল্ডেন ফিজেন্ট, চারটি পূর্নাঙ্গ চিতা বাঘ ও গত বছর জন্ম নেওয়া তিনটি শাবক রয়েছে।

ঝাড়গ্রামে বেড়াতে আসা পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য ২০২৩-এ প্রশাসনের বিশেষ উদ্যোগে জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে তৈরি করা হয় ‘সেলফি জোন’। উদ্বোধন করেন রাজ্যের বন প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। এর পাশাপাশি বন্যপশুদের শুশ্রূষার জন্য চালু হয় অ্যাম্বুলেন্সও। সঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বানানো পণ্য নিয়ে নিয়ে পার্কের ভিতরেই ‘সৃষ্টিশ্রী’ নামে একটি বিপণন কেন্দ্রেরও সূচনা করা হয়, চিড়িয়াখানায় ঘুরতে ঘুরতেই যেখান থেকে আপনি সংগ্রহ করতে পারবেন বাবুই ঘাসের ব্যাগ, ঘর সাজানোর জিনিসপত্র, পাথরের বিভিন্ন জিনিসপত্র, আচার সহ না না সামগ্রী। 

 

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে সড়কপথে লং ড্রাইভে বেরতে পারেন অথবা কলকাতা থেকে এলে হাওড়া থেকে যে কোনো ট্রেনে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে নেমে সেখান থেকে টোটো বা অন্য গাড়ি পেয়ে যাবেন। ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে পূর্বদিকে যে রাস্তাটি চলে গেছে সেই রাস্তায় ৩-৪ কিমি গেলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে এই চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের টিকিটমূল্য জন প্রতি ২৫  টাকা (৩ থেকে ১২ বৎসর পর্যন্ত ১০ টাকা)। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা এবং মার্চ থেকে অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত জু খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। চিড়িয়াখানার সঙ্গেই ঘুরে দেখে নিতে পারেন আশেপাশের দর্শনীয় কিছু স্থান, যেমন – ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, চিলকিগড় রাজবাড়ি, কনকদুর্গা মন্দির, হোলি ট্রিনিটি চার্চ ইত্যাদি।

ছবি : নিজস্ব

 

Developed by DXDasia