আজ জহর রায়ের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী
রক্তে ছিল সিনেমা। বাবা সতু রায় নির্বাক যুগের ছবিতে অভিনয় করে খ্যাতি পেয়েছিলেন। তারপর অবশ্য পেশাগত কারণে চলে যান পাটনায়। বরিশালে জন্ম হলেও জহর রায়ের কৈশোর পাটনাতেই কেটেছে। কলেজের পড়া শেষ না করেই পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রুফ রিডারের কাজে যোগ দিতে হয়েছিল। তারপর মেডিকেল রিপ্রেসেন্টেটিভের কাজ, দর্জির ব্যবস্যা। একের পর এক পেশাবদল। এরই মধ্যে অভিনয়ের প্রেমে পড়েছেন। অ্যামেচার থিয়েটারে নেমেছেন। গুরু মেনেছেন চার্লস চ্যাপলিনকে।
তারপর জহর চলে এলেন কলকাতায়। পরিচালক অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় ছিল। তাঁরই ছবি ‘পূর্বরাগ’ দিয়ে চলচ্চিত্র জীবন শুরু হল। তবে অনেকে বলেন, ‘পূর্বরাগ’ নয়, জহরের প্রথম সিনেমা সুশীল মজুমদারের ‘সাহারা’। একের পর এক ছবিতে চমকে দিতে লাগলেন জহর। ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধলেন ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। এই জুটি মন জিতে নিয়েছিল বাঙালি দর্শকদের।তাঁদের নামেই সিনেমা হিট করত। ভানু-জহর হয়ে উঠলেন বাংলার কমেডি সম্রাট। অবশ্য ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জহর রায় দু’জনেই কেবলমাত্র কমেডিয়ান ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন জাত অভিনেতা। দু’জনের বন্ধুত্ব ছিল প্রবাদপ্রতীম।
সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের মতো পরিচালকদের ছবিতে জহর রায় দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। বলিউডে কাজ করার ইচ্ছে বিশেষ ছিল না। তবে ‘পেহলা আদমি’ নামের একটি হিন্দি ছবি করেছিলেন। থিয়েটারেও মাতিয়ে রাখতেন সবাইকে। মঞ্চে অভিনয়ের সময়ে কখনো কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজে থেকে সংলাপ যোগ করে দিতেন। হাস্যকৌতুক পরিবেশনে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। এরই মধ্যে বই পড়ার নেশা ছিল জহরের। বইয়ের সংগ্রহ ছিল তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।
১৯৭৭ সালের ১১ আগস্ট জহর রায়ের মৃত্যু হয়। শেষ যাত্রার মিছিলে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। নিথর কঙ্কালসার মৃতদেহ দেখে বলেছিলেন, “তুমি চলে গেলে চার্লি!”
তথ্যঋণ – সোমেশ ভট্টাচার্য, দিব্যেন্দু ঘোষ, শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।