মালদহের বিখ্যাত মিষ্টি ‘রসকদম্ব’-ও কি জিআই স্বীকৃতির পথে?

রসকদম্বের জিআই স্বীকৃতির দাবিতে মালদহের বাসিন্দা ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা সরব হয়েছেন

রসগোল্লা আসলে কার? বাংলা নাকি ওড়িশা? সেই নিয়ে টানাপড়েন ছিল তুঙ্গে। লাগাতার যুদ্ধের পর রসগোল্লা বাংলার মুকুটেই এনেছিল নতুন পালক। নদিয়ার সরপুরিয়া এবং সরভাজাও জিআই স্বীকৃতির পথে এগিয়েছে। এবার দাবি উঠল মালদহতেও। সেখানকার বিখ্যাত মিষ্টি রসকদম্বের জিআই স্বীকৃতির দাবিতে জেলার বাসিন্দা ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা সরব হয়েছেন। মালদহ মার্চেন্ট চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রসকদম্বের খ্যাতি জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এই মিষ্টি বেশ কয়েকদিন রেখে খেলেও নষ্ট হয় না। ফলে দূরদূরান্তে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায়। রসকদম্ব জিআই স্বীকৃতি পেলে মালদহের সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে। 

ছোট রসগোল্লার উপর খাঁটি ক্ষীরের প্রলেপ দিয়ে তৈরি করা হয় রসকদম্ব। তার আগে কড়া পাকে ওই বিশেষ ধরনের ক্ষীর প্রস্তুত করা হয়। পাশাপাশি পোস্ত ও চিনি দিয়ে বিশেষ এক ধরনের দানা তৈরি করা হয়। ক্ষীর মাখানোর পর তার উপর ওই দানা দেওয়া হয়। ফলে কদমের মতো দেখতে হয় বলে এই মিষ্টির নাম রসকদম্ব। কথিত আছে, চৈতন্য মহাপ্রভু রামকেলি আগমনের সময় মালদহে রসকদম্বের চল ছিল। ফলে ওই মিষ্টি কয়েকশো বছরের পুরোনো বলেই ঐতিহাসিক ও গবেষকরা মনে করেন।

১৬০০ খৃষ্টাব্দে প্রাচীন বাংলার রাজধানী গৌড়ের শেষ সুলতান ছিলেন সুলেমান কুরবানি। সুলতানের বংশধররা রাজধানী গৌড়কে সরিয়ে নিয়ে যান টাড়ায়। সে সময় মিষ্টির কারিগররা যে খাজা তৈরি করতেন তার নাম ছিল টাড়ার খাজা। মালদা থেকে অনেক প্রাচীন মিষ্টি হারিয়ে গেছে কিন্তু রসকদম্বের চাহিদা বেড়েছে, শোনা যায় রসকদম্বের আজকের যে রূপ তা তৈরি হয়েছিল ১৮৬১ সালে। মালদার মেহেরপুরের কারিগররা নতুন রূপ দেন। রসগোল্লার পুর দেওয়া শুরু তখন। সেই প্রাচীন ঘরানা আজও বদল হয়নি। এতকাল পরেও সেই ঐতিহ্য রয়েছে। তবে ইদানীং পোস্তর দাম বেড়েছে, তাই অনেকে পোস্তর বদলে দিচ্ছেন চিনি। পুরোনো কারিগররা অবশ্য চিনি দেন না। রতন সুইটসের কর্ণধার রতন ঘোষ বললেন, পূর্বপুরুষের আমল থেকেই তাঁরা রসকদম্ব তৈরি করেন। মালদার মানুষ ভাবেন, বাড়িতে রসকদম্ব না থাকলে বোধহয় কৌলিন্য হারাতে হবে।

জিআই ট্যাগ পাওয়া এবং দেখভালের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট বিভাগ রয়েছে। সেখানেই সংশ্লিষ্ট সামগ্রীর রেজিস্ট্রেশন হয়। বছর পনেরো আগে দার্জিলিং চা দেশের মধ্যে প্রথম জিআই স্বীকৃতি পায়। তারপর সেই তালিকায় বিভিন্ন রাজ্যের হস্তশিল্প, খাদ্যসামগ্রী-সহ নানা জিনিস জায়গা করে নিয়েছে। রসকদম্ব জিআই স্বীকৃতি পেলে মালদহের নাম ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে। আমের পর মালদহ হয়ে উঠবে মিষ্টিরও তীর্থক্ষেত্র। রসকদম্ব কি জিআই স্বীকৃতি পাবে? উত্তরের দিকে নজর রাজ্যবাসীর।

Developed by DXDasia