উদ্যোগ নিয়েছে মহকুমা কৃষি দফতর
উত্তরবঙ্গের লক্ষ লক্ষ মানুষের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম চা উৎপাদন। প্রচুর পরিশ্রম ও খরচ করে চা পাতার উৎপাদন করছেন চা চাষিরা। এর পরেও অনেক সময় সঠিক দাম পান না তাঁরা। বেশি মুনাফা পেতে চা ফ্যাক্টরিগুলি অনেক কম দামে কাঁচা চা পাতা বিক্রি করতে বাধ্য করে, প্রায়ই এমন অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, বিভিন্ন ওষুধ ও সার উৎপাদক কোম্পানিগুলো কীটনাশক ও সার বেশি দামে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা কামিয়ে ফুলে ফেঁপে উঠেছে উত্তরবঙ্গের চা বলয়গুলোতে। চা বাগান থেকে কীটনাশকের বিষ দূরে রাখতে নানা ব্যবস্থার কথা বলা হলেও কাজের কাজ হচ্ছে না। শিলিগুড়ির বিভিন্ন ছোটো চা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েই চলছে। এ বার চাষিদের বোঝাতে উদ্যোগী মহকুমা কৃষি দফতর।

মহকুমা কৃষি অধিকর্তা দেবাশিস ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, মালিক পক্ষের কেউ কেউ রোগ পোকার আক্রমণের দাবি করছেন। কিন্তু কীটনাশকের ব্যবহার চায়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ব্যপক ক্ষতি হতে পারে।
সম্প্রতি শিলিগুড়ির চায়ের কদর কমার অভিযোগ উঠেছে। তাতেই প্রশ্ন উঠছে চা-এ কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়টি। মহকুমা কৃষি দফতর কৃষকদের ডেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে নানা বিষয়ে সচেতন করছে। প্রয়োজনে চা বাগানে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে নজরদারি রাখবে তারা। সেইমতো চলতি মাসের শুরুতেই, শিলিগুড়িতে মালিকপক্ষ, কীটনাশক সংস্থা এবং কৃষি দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। মহকুমা কৃষি অধিকর্তা দেবাশিস ঘোষ সংবাদমাধ্যমে বলেন, মালিক পক্ষের কেউ কেউ রোগ পোকার আক্রমণের দাবি করছেন। কিন্তু কীটনাশকের ব্যবহার চায়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ব্যপক ক্ষতি হতে পারে। চাষিদের সে ব্যাপারে সচেতন করা হচ্ছে, পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডিমান্ড এন্ড সাপ্লাই এর মধ্যে সমতা হারিয়ে অনেক সময় কাঁচা চা পাতার দামে রেকর্ড পতন ঘটে। যার ফলে প্রচুর লোকসানের মুখে পড়তে হয় চা চাষিদের। টি বোর্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি ২০২৫ এ ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা চায়ের পরিমাণ ২ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার কেজি। যার এভারেজ দাম ২৮২.৬৩ টাকা প্রতি কেজি। উত্তরবঙ্গ সহ উত্তর ভারত থেকে রপ্তানি করা চায়ের পরিমাণ ১ কোটি ৪৬ লক্ষ ২০ হাজার। যার এভারেজ দাম ৩০৪.১৫ টাকা প্রতি কেজি। শিলিগুড়িতে প্রায় পাঁচ হাজারের মত ছোটো চা বাগান মালিক রয়েছেন। তবে এই বাগানগুলির নিজস্ব কারখানা না থাকায়, বটলিফ কারখানায় বিভিন্ন বাগানের পাতা মিশিয়ে চা তৈরি হয়। তাই কোন বাগানের পাতায় কীটনাশক বেশি বোঝা মুশকিল। সে জন্য প্রত্যেক বাগানকে আলাদা করে বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নর্থবেঙ্গল স্মল টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা নানা ভাবে বিষাক্ত কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধের কথা প্রচার করছে। লিফলেট বিলি থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
শিলিগুড়িতে প্রায় পাঁচ হাজারের মত ছোটো চা বাগান মালিক রয়েছেন। তবে এই বাগানগুলির নিজস্ব কারখানা না থাকায়, বটলিফ কারখানায় বিভিন্ন বাগানের পাতা মিশিয়ে চা তৈরি হয়। তাই কোন বাগানের পাতায় কীটনাশক বেশি বোঝা মুশকিল।

প্রসঙ্গত, চা পর্ষদের পক্ষ থেকে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) দ্বারা নিষিদ্ধ যে সব রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়, সেই সব নিষিদ্ধ কিছু রাসায়নিক কীটনাশকের নাম হলো—থায়ামেথক্সাম (৭৮%), সাইপারমেথ্রিন (৭৩%), অ্যাসিটামিপ্রিড (৬৭%), থিয়াক্লোপ্রিড (৬৭%%), ডিডিটি (৬৭%), ডেল্টামেথ্রিন (৬৭%), ডিকোফোল (৬১%), ইমিডাক্লোপ্রিড (৬১%), এবং মনোক্রোটোফস (৫৫%) ।
এই সব নিষিদ্ধ কীটনাশকগুলির মধ্যে মনোক্রোটোফস (মনোসিল) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দ্বারা অত্যন্ত বিপজ্জনক শ্রেণীবদ্ধ কীটনাশক। WHO দ্বারা অত্যন্ত বিপজ্জনক কীটনাশক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ হওয়ায় সরকারি পর্যায়ে চা বাগানে ব্যবহারের জন্য এই কীটনাশকটি নিবন্ধিত হয়নি।