সত্তরের দশকের তথ্যচিত্রে নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিলেন বাঙালি পরিচালকরা

এদেশে শুরু হয়েছিল স্বাধীন তথ্যচিত্র আন্দোলন

থ্যচিত্রের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বল্প পরিসর ও স্বল্প সময়ের মধ্যে একটা বক্তব্যকে বা তথ্যকে রূপে ও ছন্দে দর্শকের মনে ছাপ ফেলে যাওয়া। শুধু সম্পাদনার কেরামতিতে একাজ সম্ভব হয় না। যথোপযুক্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিন্যাস, একটা বিশেষ ভাবনা বা চিন্তাধারা এবং সম্পাদনার কলাকৌশল—এই তিনের সমন্বয়ে সত্যিকারের তথ্যচিত্রের জন্ম হয়। গবেষকদের মতে, ফ্লাহার্টির ‘নানুক’ থেকেই তথ্যচিত্র নামক সিনেমাভাষার আবির্ভাব। এভাবে পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকজন চিত্র-পরিচালকের নির্বাক তথ্যচিত্র নির্মাণের ধারা, চিন্তা ও প্রয়োগ পদ্ধতি নানা ভাবে নানা দেশে প্রকাশ পেতে থাকে।

হলিউডের বিখ্যাত পরিচালক আরভিং পিচেলের থেকে পাঠ নিয়ে আসা, পরবর্তীতে জঁ রেনোয়াঁর সহকারী হিসেবে কাজ করা হরিসাধন দাশগুপ্তকে বলা হয় ভারতীয় তথ্যচিত্রের জনক। ফিল্ম ডিভিশন, ইউ এস  আই এস, ইউনেস্কো, টি বোর্ড, সংগীত নাটক একাডেমি প্রভৃতি সংস্থার হয়ে নানা ধরনের তথ্যচিত্র তৈরি করেন। শান্তি প্রসাদ, এস. সুখদেবের মতো প্রখ্যাত তথ্যচিত্র নির্মাতারাও ছিলেন তাঁর সমসাময়িক। তথ্যচিত্রে তাঁর হাতেখড়ি বিংশ শতাব্দির পাঁচের দশকে আর এই পাঁচের দশকেই বাংলা তথ্যচিত্রের বিপ্লব আসে। যা এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন, শান্তি চৌধুরী, চিদানন্দ দাশগুপ্ত, বিমল কর, পূর্ণেন্দু পত্রী, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, উৎপলেন্দু চক্রবর্তী, গৌতম ঘোষ প্রমুখ। ভারতীয় তথ্যচিত্রের ইতিহাস ও বিবর্তন এখানে আলোচ্য বিষয় নয়। একটা বিশেষ সময়ে নির্মিত হওয়া তথ্যচিত্র নিয়েই এই আলোচনা। এই দেশ তথা বাংলার সত্তরের দশক। 

স্বাধীনতার পর ভারতে সরকারি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে তৈরি হওয়া ফিল্ম ডিভিশনের একছত্র অধিকারের পাশ কাটিয়ে, এই সত্তরের দশকের শুরু থেকে শেষে বাঙালি পরিচালকরা তৈরি করেছিলেন একঝাঁক তথ্যচিত্র। তার মধ্যে বেশ কিছু ভারত সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। অন্যান্যদের সঙ্গে এই ‘নিষিদ্ধ’ তালিকায় সামিল ছিল সত্যজিৎ, ঋত্বিকের তথ্যচিত্রও।

ষাট-সত্তরের দশকে সারা দেশ টালমাটাল। ১৯৫২ সালে ইন্দো-চিন যুদ্ধ, ১৯৬৫-তে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় ইন্দো-পাক যুদ্ধ, ষাটের দশক জুড়ে পাঞ্জাবী সুবা আন্দোলন, উত্তর পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, নকশাল আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সারাভারতব্যাপী রেলশ্রমিকদের ধর্মঘট, জরুরি অবস্থা – নানা কিছু ঘটে চলেছে। বৃহত্তর কলকাতা, গ্রামাঞ্চল, মফস্সল সর্বত্র একটাই শ্লোগান শোনা যেত: ‘সত্তরের দশক মুক্তির দশক’। আরও শোনা যেত: ‘ভাত দে হারামজাদা’। 

স্বাধীনতার পর ভারতে সরকারি প্রচারের মাধ্যম হিসেবে তৈরি হওয়া ফিল্ম ডিভিশনের একছত্র অধিকারের পাশ কাটিয়ে, এই সত্তরের দশকের শুরু থেকে শেষে বাঙালি পরিচালকরা তৈরি করেছিলেন একঝাঁক তথ্যচিত্র। সামাজিক, রাজনৈতিক, প্রতিবাদী। তার মধ্যে বেশ কিছু ভারত সরকার নিষিদ্ধ করেছিল। অন্যান্যদের সঙ্গে এই ‘নিষিদ্ধ’ তালিকায় সামিল ছিল সত্যজিৎ, ঋত্বিকের তথ্যচিত্রও। 

সত্তরের দশকে সত্যজিৎ রায় বানিয়েছিলেন ‘সিকিম’ (১৯৭১), ‘ইনার আই’ (১৯৭২) ‘বালা’ (১৯৭৬)। এর মধ্যে ‘সিকিম’ তথ্যচিত্রটির ওপর জারি হয়েছিল নিষেধাজ্ঞা। সিকিম সত্যজিতের দ্বিতীয় তথ্যচিত্র, দ্বিতীয় রঙিন চলচ্চিত্র। সিকিমের তৎকালীন রানি হোপ কুকের বিশেষ উদ্যোগ ছিল এর নেপথ্যে। তিনি ভেবেছিলেন এই তথ্যচিত্র সিকিমের পর্যটনে সহায়ক হবে। কিন্তু, সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐশ্বর্য, রাজতন্ত্র, ঔদার্য ইত্যাদি দেখানোর পাশাপাশি সত্যজিৎ দেখিয়ে ফেলেছিলেন রাজপ্রাসাদের বর্ণাঢ্য কারুকার্যের পটে রাজারানির সাদাকালো ছবি। কোনও এক রাজকীয় অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে সত্যজিৎ তুলে ধরেছিলেন প্রাসাদের এলাহী খানাপিনার দৃশ্যকে; সেখানে অজস্র রাজঅতিথির সমাগম, প্রয়োজনের ঢের অতিরিক্ত খাদ্যবস্তুর অপচয়। প্রাসাদের বাইরে অন্ধকার আস্তাকুড়ে অপচিত খাবারের পাহাড়। প্রাসাদের বিলাসের তীক্ষ্ণ বৈপরীত্যে শেষ দৃশ্যে শীতের রোদে একপাল বস্তির ছেলের দেখা মেলে রাস্তায়। হাড়-কাঁপানো ঠাণ্ডায় শালপাতার চুট্টি ভাগাভাগি করে টানছে। কিন্তু, ওরা সবাই হাসে। তথ্যচিত্রের শুরু হয়েছিলো সূর্যোদয়ের মাধ্যমে। শেষের এই মুখগুলির প্যানিং-এ কোনও প্রতিবাদের ভাষা খুঁজেছিলেন সত্যজিৎ?

সত্যজিৎ রায়ের সিকিম তথ্যচিত্রের পোস্টার

স্বাভাবিক ভাবেই ছবিটি নিয়ে আপত্তি আসে রাজ পরিবার থেকে। ছবির মালিকানা বদল হয়, সত্যজিৎকে না জানিয়ে কাঁচি চালানো হয়। সেই সংস্করণও নিষিদ্ধ হয়। নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় সিকিম ভারতের অঙ্গরাজ্য হবার পর, ১৯৭৫-এ। ৪০ বছর ব্যানড ছিল ‘সিকিম’। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি এই প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত সরকার। সিকিমের একটি প্রিন্ট আমেরিকাতে এবং আরেকটি ব্রিটিশ ফিল্ম ইনিস্টিউটে রক্ষিত আছে।

সেই সময় এভাবেই বাধা পেয়েছিল ঋত্বিক ঘটকের ‘আমার লেনিন’ (১৯৭০), মৃণাল সেন-এর মনিপুর (ত্রিপুরা প্রসঙ্গ, ১৯৮২) নিয়ে তথ্যচিত্রও। আমরা জানি দু’জনই তাঁদের চলচ্চিত্র ভাষার মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন, আপস করেননি। তথ্যচিত্রের বেলাতেও তাঁদের মতাদর্শ পাল্টায়নি। ভ্লাদিমির লেনিনের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষে ঋত্বিক তৈরি করেছিলেন ‘আমার লেনিন’। তথ্যচিত্রে সংগীত ব্যবহার খুব প্রশংসা পেয়েছিল, পরিচালনা করেছিলেন জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্র। মৃণালের ত্রিপুরা প্রসঙ্গ নিয়ে তেমন কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। বেঙ্গলিফিল্মআর্কাইভ.কম-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে কুণাল সেন এই ছবি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, “আমি ঠিক জানি না কেন তিনি ছবিটি করতে রাজি হয়েছিলেন। ছবিটা বানাতে গিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং তাড়াতাড়ি শেষ করতে চেয়েছিলেন।”

কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি মুভমেন্টের অন্যতম পুরোধা চিদানন্দ দাশগুপ্ত’র কথা এখানে বিশেষ করে বলতে হয়। অত্যন্ত কম সংখ্যক ছবি করলেও বাংলার তথ্যচিত্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা দিয়েছেন। ১৯৬১ সালে কলকাতাকে নিয়ে তৈরি করেন ‘পোর্ট্রেট অফ আ সিটি’ । এই তথ্যচিত্রে ২০ মিনিটের ভিতর চিদানন্দ দেখিয়েছিলেন কীভাবে কলকাতার নাগরিক জীবন ধীরে ধীতে গতি পাচ্ছে। কীভাবে কারখানা, বাজার-ব্যবসা, সংবাদপত্রের অফিস, রেসকোর্স, মানবিক-সামাজিক অবনমন আরও নানাকিছু গতিশীল হয়ে উঠছে। ছবিটিতে বারিন সাহা ক্যামেরা করেন, অসামান্য সেই কাজ দেশে ও বিদেশে প্রসংশা পায়। ২০২২-এ কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছিল এই ছবি।  

ঋত্বিক ঘটকের আমার লেনিন

সত্তরের দশকে পূর্ণেন্দু পত্রী দুটি সামাজিক তথ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলেন। অবনীন্দ্রনাথ (১৯৭৬) ও পটচিত্র (১৯৭৭)। বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত এই সময় বানিয়েছিলেন ‘দ্য কন্টিনেন্টাল অফ লাভ’ (১৯৬৮), ‘ঢোলের রাজা ক্ষীরোদ নট্ট’ (১৯৭৩), ‘ফিশারম্যান অফ সুন্দরবন’ (১৯৭৪)।এছাড়াও ছিল বারীন সাহার ‘ভাসা’, সলিল চৌধুরীর ‘গৌতম দ্য বুদ্ধ’, তরুন মজুমদারের ‘অরণ্য আমার’। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম সরকারি প্রযোজনায় তথ্যচিত্র নির্মিত হয় ১৯৬৭ সালে, যার নাম ‘জয়যাত্রা’। সাতের দশকে তথ্যচিত্রে তপন বোসের ‘An Indian Story’, উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর‘মুক্তি চাই’, গৌতম ঘোষের ‘হাংরি অটাম’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

প্রভূত অর্থনিয়োগকারী শ্রেণী রাষ্ট্র এবং খাদ্যশস্যের ব্যবসায়ীদের আঁতাত স্পষ্ট দেখিয়ে ১৯৭৪-এ ‘হাংরি অটাম’ (Hungry Autumn) ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল ভারতের তথাকথিত সোস্যালিস্ট পক্ষপাতিত্বের মিথটি। বহু-প্রশংসিত কাহিনিচিত্রগুলির পাশাপাশি নানা ধরনের বিষয় নিয়ে অনেকগুলি তথ্যচিত্রও বানিয়েছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ। গৌতমের সিনে-দেখা বিকশিত হয়েছে নানা পথে। নিজের বেশিরভাগ তথ্যচিত্রে ক্যামেরা তিনি নিজেই করেছেন, এর মধ্যে কয়েকটার সংগীতায়োজনও তাঁর।

গৌতম ঘোষের হাংরি অটাম

১৯৭৭ সালে তৈরি উপলেন্দুর ‘মুক্তি চাই’ নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে একটি প্রচারমূলক ছবি। ছবিটি বিনা শর্তে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দাবি করেছিল। তপন বোসের তথ্যচিত্র ‘প্রিজনার অব কনসেন্স’ জোতদার এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামরত কৃষক শ্রেণীভুক্ত বন্দিদের বক্তব্য আরও বেশি সংখ্যক মানুষের সামনে তুলে ধরেছিল। সাতের দশকের শেষে বিহারের ভাগলপুর জেলায় পাশবিক অত্যাচার বিচারাধীন বন্দিদের অন্ধ করে দেয় পুলিশ। তাদেরকে তপন তুলে ধরেন তাঁর ছবি ‘অ্যান ইন্ডিয়ান স্টোরি’-তে। উচ্চবর্ণের জোতদার এবং পুলিশের অত্যাচারের শিকার মানুষের সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে রাজনীতিক, আমলা এবং পুলিশের আঁতাত স্পষ্ট করে ছবিটি। ছবিটির কাজ শেষ হয় যখন, ইন্দিরা গান্ধি শাসনক্ষমতায়। ছবিটিতে পুলিশের সমালোচনা থাকায় একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ফিল্ম সেন্সর বোর্ড। ছোটো ছোটো কিছু পরিবর্তনের পর ছবিটি অবশেষে মুক্তি পেয়েছিল হাইকোর্টের নির্দেশে। 

এভাবেই সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়া সেই সত্তরের দশকে স্বাধীনভাবে প্রযোজিত তথ্যচিত্র তৈরি হচ্ছিল কিন্তু অর্থাভাব, সরকারের বিরূপ মনোভাব এবং পরিবেশনে ঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবের কারণে চিত্রনির্মাণ ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। তপন বোসের ‘ভূপাল : বিয়ন্ড জেনোসাইড’, মঞ্জিরা দত্ত’র ‘দ্য লাইফ অব বাবুলাল ভুইঞা’, প্রদীপ দীক্ষিতের ‘অলদো দ্য সিটি ইজ কোয়ায়েট’, আনন্দও পট্টবর্ধনের ‘বম্বে আওয়ার সিটি’, শশী আনন্দের ‘ম্যান এগেনস্ট ম্যান’ তৈরি হয়েছিল অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে। ভারতের সিনেমাটোগ্রাফ আইন অনুসারে দেশে প্রতিটি সিনেমাহলে কাহিনিচিত্র প্রদর্শনের আগে কুড়ি মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক ছিল। প্রদর্শিত তথ্যচিত্রের প্রযোজকের প্রাপ্য সিনেমাহলে সপ্তাহে সংগৃহীত মোট অর্থের এক শতাংশ। কিন্তু ঐ পথটিও আটকে দিয়েছিল ফিল্মস ডিভিশন। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এরা কয়েকবছর আগে থেকেই তাদের প্রয়োজনে সংরক্ষিত করে রাখতো সিনেমাহলগুলি। দূরদর্শনও নানা অজুহাত বের করতো ছবিগুলি সম্প্রচার না করার জন্য। কিছু কিছু অবশ্য আদলতের নির্দেশে সম্প্রচার করতে বাধ্য হয়েছিল। পরে ইউ-ম্যাটিক ভিডিও আসার সঙ্গে সঙ্গে ভারতে স্বাধীন তথ্যচিত্র আন্দোলনে নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হয়েছিল।  

তবে, এই প্রতিবেদনের শুরু থেকে আলোচিত সত্তরের দশকের তথ্যচিত্রগুলি এদেশে স্বাধীন তথ্যচিত্র আন্দোলনের একটি নতুন সংজ্ঞা নির্ণয় করেছিল, একটা দিক নির্দেশ করেছিল। বাংলায় যে মানের তথ্যচিত্র তৈরি হয়েছে তা দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জাতীয় জীবনকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল—যেন সময়ের অনিবার্য দলিল।

_____________
তথ্য ঋণ:
তথ্যচিত্র কথকতা, ঋত্বিক সিনে সোসাইটি
othevoice.in
www.bengalfilmarchive.com

Developed by DXDasia