‘মুর্শিদাবাদের বিগ বেন’
পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘড়ি মিনার দেখা যায়। সেগুলির মধ্যে কয়েকটি বেশ নামজাদা – ভ্রমণার্থী এবং গবেষকদের প্রিয়। বিশ্বের সবথেকে খ্যাতিনামা ঘড়ি মিনার বলা হয় লন্ডনের এলিজাবেথ টাওয়ারকে। ওই মিনারের ঘণ্টার নাম বিগ বেন, তবে গোটা মিনারটিকেই লোকে সেই নামে ডাকেন। ঘড়ি মিনার এক বিশেষ ধরনের স্থাপত্য, যার মাথায় এক বা একাধিক ঘড়ি লাগানো থাকে। সেটি কোনো স্বতন্ত্র মিনারও হতে পারে, আবার কোনো ভবনের সঙ্গেও যুক্ত থাকতে পারে। বাংলার নবাবদের শহর মুর্শিদাবাদেও রয়েছে এক বিখ্যাত ঘড়ি মিনার। এটি পরিচিত ‘ঘড়িঘর’ বা ‘ঘড়ি মহল’ নামে। স্থানীয় মানুষ এই মিনারকে ‘মুর্শিদাবাদের বিগ বেন’ নামেও ডেকে থাকেন। ঘড়িঘর যেখানে অবস্থিত, সেই পুরো চত্বরকে বলা হয় নিজামত কিলা বা কিলা নিজামত। সেখানেই রয়েছে হাজারদুয়ারি, ইমামবাড়া, মদিনা মসজিদ, চক মসজিদের মতো নানা স্থাপত্য।
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঘড়ি ঘর
ঘড়িঘর যেখানে অবস্থিত, সেই পুরো চত্বরকে বলা হয় নিজামত কিলা বা কিলা নিজামত
ভাগীরথী নদীর পূর্ব পাড়ে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ এবং নিজামত ইমামবাড়ার মাঝখানে প্রাঙ্গণে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঘড়ি ঘর। খুব কাছেই পুরোনো মদিনা মসজিদ এবং বাচ্চাওয়ালি তোপ। সগুর মিস্ত্রির নকশাতে এই সুন্দর ঘড়ি মহল গড়ে উঠেছে। ঐতিহাসিক হাজারদুয়ারি প্রাসাদের রূপকার ছিলেন ডানকান ম্যাকলিওড। তাঁরই বাঙালি সহকারী সগুর মিস্ত্রি। মনে করা হয়, ভাগীরথী নদী দিয়ে যাতায়াত করা নৌকো এবং অন্যান্য জলযানের যাত্রী ও চালকের সুবিধার্থেই এই মিনার তৈরি করা হয়েছিল। সম্ভবত ওই কারণেই ঘড়ির মুখ নদীর দিকে। ভাগীরথীর অন্য পাড় থেকেও দেখা যায় ঘড়ি। মিনারের শীর্ষে রয়েছে এক গম্ভীর শব্দের ঘণ্টা। বহু দূর থেকে ঘণ্টার আওয়াজ শোনা যায়।
‘মুর্শিদাবাদের বিগ বেন’
সগুর মিস্ত্রির নকশাতে এই সুন্দর ঘড়ি মহল গড়ে উঠেছে
আরও পড়ুন: দিঘা উপকূলে সমুদ্রের রূপকথা
ঘড়ি ঘরের পাশেই রয়েছে বিখ্যাত হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, মুর্শিদাবাদের সবথেকে বিখ্যাত পর্যটনস্থল। নবাব নাজিম হুমায়ুন জা তৈরি করিয়েছিলেন এই প্রাসাদ। ইউরোপীয় ঘরানার স্থাপত্যশৈলী, বিশেষ করে ইতালীয় রীতির সৌধগুলোর সঙ্গে মিল প্রচুর। ১ হাজারটা দরজা আছে বলে এর নাম হাজারদুয়ারি। অবশ্য দরজাগুলির মধ্যে ১০০টাই নকল। তবে চট করে দেখে নকল দরজাগুলোকে চিহ্নিত করা বেশ মুশকিল। দেওয়ালের মধ্যে এমনভাবে ডিজাইন করা, বাইরে থেকে দেখলে হুবহু আসল দরজা মনে হবে। দুর্গপ্রাসাদে যদি হঠাৎ করে শত্রুরা আক্রমণ করে বসে, তাদের বিভ্রান্ত করার জন্যই নকল দরজাগুলো বানানো হয়েছিল। বাংলার নবাব, অভিজাত এবং ব্রিটিশদের ব্যবহৃত ও শৌখিন নানা জিনিস স্থান পেয়েছে প্রাসাদে। হাজারদুয়ারির ঠিক বিপরীতে রয়েছে নিজামত ইমামবাড়া। মহরমের দিন এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলি এই স্থাপত্য কেবল বাইরে থেকেই দেখতে পাবেন।
মনে করা হয়, ভাগীরথী নদী দিয়ে যাতায়াত করা নৌকো এবং অন্যান্য জলযানের সুবিধার্থেই ঘড়িঘর তৈরি করা হয়েছিল
বহর ট্যুরিজম প্রপার্টি
ঘড়িঘরের অবস্থান
বহর ট্যুরিজম প্রপার্টির অবস্থান
