পুজো-শেষের আড্ডা আর বাঙালির পাতে সুস্বাদু নারকেলের নাড়ু

বাঙালির ঘরে পুজো-পর্বের মিষ্টি মানেই নারকেলের নাড়ু

দুর্গাপুজো শেষ। আসন্ন লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির আগে একটু মিষ্টিমুখ হবে না, তা কী করে হয়! বাঙালির ঘরে পুজো-পর্বের মিষ্টি মানেই নারকেলের নাড়ু। তা গুড়ের হোক বা চিনির। নারকেল এমন একটা ফল যাকে ব্যবহার করেছেন বহু কবি-শিল্পীরা। সাহিত্যে এবং সংস্কৃতিতে ঘুরেফিরে এসেছে নারকেলের কাব্যগুণ। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘শেষের কবিতা’-য় লিখেছেন, “ডাব-নারকেলের মেয়াদ অল্প, সে রসের মেয়াদ; ঝুনো নারকেলের মেয়াদ বেশি; সে শাঁসের মেয়াদ। কবিরা হল ক্ষণজীবী, ফিলজফরের বয়সের গাছপাথর নেই।” 

ছোটোবেলা থেকেই নারকেল গাছ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী। তাঁর লেখায় পাওয়া যায়, “পুবদিকের পাঁচিল ঘেঁষে এক সার নারকেল গাছ। সেই নারকেল গাছের কম্পমান পাতায় আলো পড়বে, শিশিরবিন্দু ঝলমল করে উঠবে, পাছে আমার এই দৈনিক দেখার ব্যাঘাত হয় এইজন্য আমার ছিল এমন তাড়া।” এদিকে নারকেল চিংড়ির কথাই বা আমরা ভুলি কী করে! তারপর ধরুন নারকেল কোরা দিয়ে ডাল, মুড়িমাখায় নারকেল কোরা, পায়েসে নারকেল কোরা, নারকেল দিয়ে কচু বাটা; আহা এসবের স্বাদ যে কী অপূর্ব তা বাঙালি মাত্রই জানে। তবে আজকের আলোচ্য নারকেলের নাড়ু। ছোটো-বড়ো-মাঝবয়সীদের প্রিয় মিষ্টিমুখ।

এ প্রসঙ্গে চলুন ঝালাই করে নিই বাড়িতে মা-ঠাকুমাদের হাতে বানানো গুড়ের নারকেল নাড়ু। প্রথমে বড়ো সাইজের দুটো নারকেল নিতে হবে। নিতে হবে আখের গুড় এবং ঘি এক চা চামচ।

প্রথমে নারকেল খুব ভাল করে কুরিয়ে ওর মধ্যে গুড় দিয়ে খুব ভালো করে মাখিয়ে নিতে হবে। এবারে গ্যাসে কড়াই বসিয়ে করা এর মধ্যে ওই নারকেল মিশ্রণটাকে দিয়ে খুব ভালো করে নাড়তে হবে। গ্যাস অল্প কমিয়ে দিয়ে এভাবে অনবরত নাড়তে হবে যাতে নারকেলের মিশ্রণটি পুড়ে না যায়। তাতে দিতে খানিক হবে বড়ো এলাচ, ছোটো এলাচ। এইভাবে মিনিট ১৫ থেকে ২০ নারকেলের মিশ্রণটি নাড়ার পর গ্যাস বন্ধ করে দিতে হবে। এরপর হাতে ঘি মাখিয়ে গরম নারকেলের মিশ্রণ হাতে নিয়ে পছন্দ মতো সাইজে গোল গোল করে পাকিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে নারকেলের নাড়ু।

ছোটোবেলা থেকেই নারকেল গাছ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী 

বাংলার নারকেল গাছ যে বিশ্বের দরবারেও পৌঁছেছে তা পাওয়া যাবে বেন্থাম সাহেবের লেখায়। বেন্থাম সাহেব তাঁর বিখ্যাত 'ট্রিজ অব ক্যালকাটা অ্যান্ড নেবারহুড' বইতে বলেছেন, খাস কলকাতায় বিশ শতকের প্রথম দশক অবধি আর যে গাছ থাকুক না কেন, নারকেল গাছের কমতি ছিল না। এই গাছ শকুনদের বড্ড প্রিয় ছিল। তারা এই গাছের ডালে সারি বেঁধে বসে থাকে।

নারকেলে থাকে আয়রন, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম। এছাড়াও থাকে ভিটামিন সি, ই বি ওয়ান, বি থ্রি, বি ফাইভ এবং বি সিক্স। এই এতকিছুর মাঝেই বাঙালির ঘরে ঘরে তুমুল জনপ্রিয় নারকেলের নাড়ু। পুজোশেষের আড্ডার পাতে একটু নাড়ু হবে না, তা কী করে সম্ভব!

Developed by DXDasia