
বাজার থেকে ঘি কেনার সময় যা যা মাথায় রাখবেন
কৃত্রিম ঘি প্রাণঘাতী। খারাপ খবর দিয়েই আমরা শুরু করছি, যাতে ভালো খবর পরে দিতে পারি। বাজার থেকে কেনা বেশিরিভাগ ঘি বিষাক্ত।বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বহু সংস্থার ঘিয়ের মধ্যে প্রাণীজ ফ্যাট অথবা হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট থাকে। একসঙ্গে দু’টোও থাকতে পারে। এগুলোর প্রভাব মারাত্মক। রক্ত সংবহনতন্ত্রের ক্ষতি হয়, রক্তের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, এমনকি হৃদপিণ্ডের ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট।
এইসব ঘিতে অনেক সময় জন্তু-জানোয়ারের হাড়ের গুড়ো মেশানো হয়। মানুষের মস্তিষ্ক, লিভার, কিডনিতে যার খারাপ প্রভাব পড়ে। হজমশক্তিও দুর্বল করে দেয়।
কৃত্রিম ঘিয়ে থাকতে পাতে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম এবং দস্তা। এগুলির থেকে মস্তিষ্ক, কিডনি-সহ রেচনতন্ত্র, হৃদপিণ্ড, লিভার এমনকি জনন অঙ্গেরও ক্ষতি হতে পারে। যে সব কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়, সেগুলি খেলে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়।
এবার ভালো খবরে আসা যাক। বিশুদ্ধ ঘিয়ে এইসব রোগের সম্ভাবনা নেই। প্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয়দের রান্নায় এবং আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গন্ধ যেমন সুন্দর, তেমনি প্রচুর খাদ্যগুণে ভরপুর।
লবণহীন মাখনকে জ্বাল দিয়ে ঘি তৈরি করা হয়। মাখনের বিকল্প হিসেবে বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাডিটিভ, প্রিজারভেটিভ, ট্রান্স ফ্যাট থেকে মুক্ত এটি। বিশুদ্ধ ঘি আপনি ফ্রিজে না রেখেও বছরখানেক সংরক্ষণ করতে পারবেন।
বিশুদ্ধ ঘি ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন রকম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই থাকে প্রচুর পরিমাণে। ফ্যাট দ্রবণীয় ভিটামিন, মনোআনস্যাচুরেটেড ওমেগা ৩ ইত্যাদিও থাকে, যেগুলি রক্তে কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগ কমাতে সাহায্য করে।
অনলাইনে খুব সহজেই বিশুদ্ধ ঘি কিনতে পারবেন আপনি। চামড়া এবং মাথার ভালো ময়েশ্চারাইজার হিসেবে এটি কাজে দেবে। শুষ্ক চামড়া এবং চুলের বৃদ্ধিতে উপকারী।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের পিছনে প্রাণের ঝুঁকি
যন্ত্রণা-প্রদাহ কমাতে এবং হজম শক্তি বাড়াতে বিশুদ্ধ ঘি খুবই কার্যকরী। দুগ্ধজাত খাবার খেলে যাদের সমস্যা হয়, তারা বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করতে পারেন, কারণ তাতে কেবলমাত্র দুগ্ধ প্রোটিন ল্যাকটোজ থাকে।
এইসব উপকারিতা নিজে প্রত্যক্ষ করতে একবার বিশুদ্ধ ঘি ব্যবহার করে দেখুন।


