করোনামুক্ত হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই আবার চিকিৎসায় যোগ দিলেন এই লন্ডনবাসী বাঙালি

লন্ডনের এক হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত আছেন তিনি

অন্য সব করোনাযোদ্ধার মতোই কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় ব্যস্ত ছিলেন এক ডাক্তার। কর্মরত ছিলেন দক্ষিণ লন্ডনের এক হাসপাতালে। এরই মধ্যে তাঁর শরীরে করোনা সংক্রমিত হয়। সেই যুদ্ধেও জয়লাভ করেন তিনি। সুস্থ হওয়ার দু’দিনের মধ্যেই আবার যোগ দিলেন চিকিৎসার কাজে। 

এই বাঙালি ডাক্তারের নাম নীলাদ্রি কোনার। বর্ধমানের এই যুবক নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন এবং এসএসকেএম মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। ২০১৭ সালে স্ত্রীর সঙ্গে পড়ি দেন ইংল্যান্ড। বিশ্ব মহামারির পরিস্থিতিতে জেনারেল মেডিসিন স্পেশালিস্ট নীলাদ্রি করোনা রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন। ৩১ মার্চ তাঁর শরীরে কোভিড ১৯-এর উপর্সগ দেখা যায়। অবসন্নতা বোধ করায় বাড়ি চলে যান তিনি। পরের কয়েক দিনে শরীর আরও খারাপ হয়। জ্বর, কাশি, মাথাব্যথা ইত্যাদি বাড়তে থাকে। ৩ এপ্রিল করোনা পরীক্ষা করান, ফলাফল আসে ৫ এপ্রিল। এই ৩২ বছর বয়সী চিকিৎসককে গৃহবন্দি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। 

ভারতের সঙ্গে ইংল্যান্ডের করোনা চিকিৎসার পার্থক্য আছে। সেখানে ৭ দিন চিকিৎসার পর যদি দেখা যায়, পরের ৪৮ ঘণ্টা রোগীর জ্বর আসছে না, তাকে সুস্থ বলে ঘোষণা করা হয়। গত সোমবার নীলাদ্রির ৭ দিনের চিকিৎসা শেষ হয়েছে। বুধবার রাতে তিনি আবার ডাক্তারির কাজে যোগ দেন। তাঁর স্ত্রীরও করোনার উপসর্গ দেখা গিয়েছিল অল্প। যদিও পরীক্ষায় দেখা যায়, ভাইরাস তাঁকে আক্রান্ত করেনি।

ব্রিটেনে এখন স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খুব সংকটজনক। করোনায় আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। ঘাটতি দেখা দিয়েছে চিকিৎসকদের। বেশিরভাগ হাসপাতাল তাদের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করছে। বহু চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত অথবা কোয়ারান্টিনে আছেন। নীলাদ্রি অনুভব করেছিলেন, দ্রুত কাজে ফেরা দরকার। এখন পুরোদমে তিনি করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত। ডাঃ নীলাদ্রি কোনারকে আমরা কুর্নিশ জানাই।  
 

Developed by DXDasia