Project PAW : পথ-কুকুর এবং মানুষকে দুর্ঘটনা থেকে বাঁচানোর অভিনব উদ্যোগ

পথকুকুরদের গলায় পড়ানো হচ্ছে রিফ্লেক্টিভ কলার বেল্ট

পনি যদি পশ্চিমবঙ্গের এনজিওদের সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন, যারা সক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে চলেছেন, তাহলে নিশ্চয়ই নাম শুনে থাকবেন চারিস নামক এনজিও-র। একদল উৎসাহী ও উদ্যমী যুবক সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের ছাপ রাখছেন। তাঁরা আদিবাসী এলাকার শিশুদের কম্পিউটারে পারদর্শী করে তোলার কাজে ব্রতী। তাঁরা চেষ্টা করছেন এইসব শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার। চেষ্টা করছেন, বর্তমান ডিজিটাইজেশনের যুগে এই শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে কম্পিউটার-বেসড চাকরির যোগ্য হয়ে ওঠে। এই সফল প্রকল্পটির নাম কন্ট্রোল অল্ট ডিলিট (Ctrl Alt Dlt)। সেই চারিস  এনজিও গ্রুপ (Charis NGO Group)-এর নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে সারমেয়দের জন্য। সেই প্রসঙ্গেই বঙ্গদর্শন.কম-এর কথা হলো চারিসের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য সায়ন্তন সিংহের সঙ্গে।

সায়ন্তন জানান, “প্রকল্পটির নাম Project PAW। আমরা রাস্তার কুকুরদের গলায় রিফ্লেক্টিভ কলার বেল্ট (Reflective Coller Belt) লাগিয়ে দিচ্ছি। এই বেল্টগুলি রাতের অন্ধকারে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ফলে গাড়ি বা বাইকের সঙ্গে কুকুরদের ধাক্কা লাগার প্রবণতা কমে। তবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে শুধু কুকুরদের নয়, মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যও। কারণ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, এইধরনের অ্যাক্সিডেন্টে মানুষও গুরুতর ভাবে জখম হয়। আপনারা জানলে অবাক হবেন, একটি প্রাইভেট ইনসিওরেন্স কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাস্তার অ্যাক্সিডেন্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম কারণ হলো পশুপাখিরা। কুকুরদের জন্য ৫৮ শতাংশ অ্যাক্সিডেন্ট ঘটে। ওই কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২২ সালে এই ধরনের ১৩৭৬টি অ্যাক্সিডেন্ট ঘটেছে। এটি একটি তথাকথিত ছোটো কোম্পানির তথ্য। তাহলে বড়ো কোম্পানিগুলির তথ্য যোগ করলে ব্যাপারটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, আন্দাজ করাও কঠিন!

পথকুকুরের সঙ্গে দলের এক সদস্য সৌরভ বোস

তিনি যোগ করেন, “এইসব অ্যাক্সিডেন্টের পরে আহত মানুষদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আহত কুকুরটি রাস্তাতেই ছটফট করতে করতে অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা এইসব দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাইছি। আমরা প্রথমে খোঁজ নিই, বিভিন্ন অঞ্চলের হাইওয়ে বা ট্রাফিকপূর্ণ রাস্তার আশেপাশে ক’টি পথকুকুর  আছে। তাদের সংখ্যা গোনা হয়। তারপর আমাদের দল সেখানে পৌঁছে যায়। তারা কুকুরগুলিকে খেতে দেন, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান, তারপর কুকুরগুলির গলায় কলার বেল্ট পরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা কি এইসব কাজে সন্দেহ প্রকাশ করে? “একেবারেই নয়”, জানান সায়ন্তন। তিনি আরও বলেন, “প্রাতঃভ্রমণকারী  বা অন্যান্য স্থানীয়রা আমাদের প্রচুর সাহায্য করেন। তাঁদের কাছ থেকে আমরা তাঁদের এলাকার কুকুরদের সম্পর্কে অনেক তথ্য পাই- কোন কুকুর অসুস্থ বা কোন কুকুরের কামড়ানোর প্রবণতা রয়েছে ইত্যাদি। গোটা রাজ্য থেকে আমরা এই ব্যাপারে বিপুল সাড়া পেয়েছি। অনেকেই তাঁদের এলাকার কুকুরদের জন্য আমাদের কাছ থেকে কলার বেল্ট সংগ্রহ করেছেন। আমরা এই কলার বেল্টের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা প্রসার করেছিলাম, তা খুবই কাজে দিয়েছে এবং আমাদের এই উদ্যোগকে সফল করে তুলেছে।"

পথকুকুরের সঙ্গে সায়ন্তন সিংহ

এই উদ্যোগের শুরু হয়েছিল বর্ধমান থেকে, যা এখন পৌঁছে গেছে হাওড়া, ব্যারাকপুর, দমদম, এমনকি বাঁকুড়ার কিছু অঞ্চলেও। এবার সায়ন্তনদের দল পথকুকুরদের খাওয়ানোর একটি নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে। দিল্লি ইনিশিয়েটিভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁরা বিভিন্ন বিভিন্ন রাস্তায় স্বয়ংক্রিয় ফিডার লাগানোর পরিকল্পনা করছেন, যেখান থেকে কুকুররা খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। উৎসাহী মানুষেরা এই উদ্যোগের সফলতার জন্য খাদ্য বা টাকা অনুদান দিতে পারবেন।

অনেকেই পথকুকুরের খাবার বা আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবেন, কাজও করেন। কিন্তু তাদের সুরক্ষার বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। চারিস  গ্রুপের Project PAW সেই উদ্যোগটিকেই সার্থক করে তুলেছে। তাঁদের এই উদ্যোগ, যা পথ নিরাপত্তাকেও এক নতুন মাত্রা দিয়েছে, তা সত্যিই সাধুবাদযোগ্য। 

Developed by DXDasia