ভারতে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পথিকৃত একজন বাঙালিই, মৃত্যুর ৫০ বছর পর মিলল স্বীকৃতি

কুমুদিনী নামে এক ১২ বছরের বালিকাকে ইনসুলিন দেওয়ার কথা লিখে গিয়েছিলেন বইয়ে

ডাঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায় অথবা ডাঃ টিসি আনন্দ কুমার – বাংলা এই বিশিষ্ট ডাক্তারদের ভোলেনি। আনন্দ কুমার নিজের প্রতিষ্ঠা পিছনের সারিতে চলে যাবে জেনেও সুভাষবাবুর প্রথম টেস্টটিউব বেবি আবিষ্কারের কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। না হলে দিকপাল সুপ্রজনননবিদ সুভাষবাবুর দুর্গাকে সৃষ্টির কথা হয়তো অজানা‌ই থেকে যেত আপামর ভারতবাসীর কাছে। ঠিক একই একটি ঘটনা এবার ঘটিয়েছেন ‘ভারতে ডায়াবেটিস চিকিৎসার পথিকৃত’ বলে এতদিন পরিচিত চেন্নাইয়ের ডাঃ এম বিশ্বনাথনের ছেলে দিকপাল ডায়াবেটোলজিস্ট ডাঃ ভি মোহন।

বাঙালি চিকিৎসক ডাঃ জেপি বসুর একটি গবেষণাপত্র সওয়াল করেছেন তিনি। শুধু তিনিই নয়, ডাঃ রঞ্জিত উন্নিকৃষ্ণন, ডাঃ রঞ্জিতমোহন আস্থানা, ডাঃ মঙ্গেশ তিওয়াসকার-সহ দেশের ছয় জন ডায়াবেটোলজিস্ট ‘জার্নাল অব দি অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব ইন্ডিয়া’-তে এ মাসে প্রকাশ করেছেন তাঁদের গবেষণাপত্র ‘ডায়াবেটিস ইন প্রি-ইনডিপেডেন্স ইন্ডিয়া: রিডিসকভারিং এরা’। সেখানে তাঁরা এক বাক্যে জানিয়েছেন, ভারতবর্ষে প্রথম কলকাতা শহরেই বসেছিল ইনসুলিন। যা প্রয়োগ করেছিলেন ট্রপিক্যালের দিকপাল চিকিৎসক ডাঃ জেপি বসু। তাঁরই হাত ধরে প্রায় ১০০ বছর আগে বাচ্চাদের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হয়েছিল তিলোত্তমায়। কুমুদিনী নামে এক ১২ বছরের বালিকাকে ইনসুলিন দেওয়ার আগে এবং পরের ছবি তিনি প্রকাশ করে গিয়েছেন বর্তমানে ট্রপিক্যালের লাইব্রেরিতে রাখা বইয়ে।

কুমুদিনী – ইনসুলিন নেওয়ার আগের এবং পরের ছবি 

কেউ জানতেন না এই তথ্য। ডাঃ বসুর মৃত্যু হয় ১৯৬৮ সালে। মৃত্যুর প্রায় অর্ধশতাব্দী পর এই তথ্য সামনে এল বাঙালিদের কাছে। পৃথিবীতে ইনসুলিন আবিষ্কারের শতবর্ষ পর এবং ডাঃ বসুর ইনসুলিন প্রয়োগের (১৯২৩) ৯৮ বছর পর এই তথ্য হাতে পেয়ে স্বভাবতই গর্বিত পশ্চিমবঙ্গ-সহ কলকাতা। স্বীকৃতিদান পর্বে ডাঃ মোহনদের সাহায্য করেছেন এসএসকেএম হাসপাতালের অধ্যাপক স্বনামধন্য ডায়াবেটোলজিস্ট ডাঃ সতীনাথ মুখোপাধ্যায়। ট্রপিক্যালে অনেক সাধ্যসাধনা করে ডাঃ বসুর লেখা বই ও গবেষণাপত্রগুলি খুঁজে বের করে এই সত্য উদঘাটিত হয়েছে।

বাঙালি চিকিৎসক ডাঃ জেপি বসুই ভারতে ডায়াবেটিসের আধুনিক চিকিৎসার জনক। এতদিন ধরে এই স্বীকৃতি ছিল ডাঃ মোহনের বাবা অধ্যাপক বিশ্বনাথনের। কিন্তু এই তথ্য সামনে আসায় বাঙালিদের জন্য গলা ফাটান ডাঃ মোহন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বাগবাজারের বাড়িতেই ছিল ডাঃ বসুর চেম্বার-ল্যাবরেটরি। সেখানে উত্তমকুমার ওঁর কাছে চিকিৎসা করাতে আসতেন। এমনকি মেয়ে মুনমুনকে নিয়ে এসেছিলেন সুচিত্রা সেনও।

Developed by DXDasia